বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > বালির তপন দত্ত খুনের মামলায় সিবিআই তদন্ত, নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের
তপন দত্ত খুনের ঘটনায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট।

বালির তপন দত্ত খুনের মামলায় সিবিআই তদন্ত, নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

  • বালির জলাজমি ভরাট নিয়ে বিবাদের ঘটনায় তপন দত্ত খুন হয়েছিলেন। বালির নিশ্চিন্দা এলাকায় একটি বড় আকারের জলাভূমি ছিল। সেই জলাভূমির প্রতি নজর ছিল স্থানীয় প্রোমোটার চক্রের। তখন সবে ক্ষমতায় এসেছে তৃণমূল কংগ্রেস। জলাভূমি ভরাট নিয়ে দলের ভিতরে আপত্তি তুলে কাজে বাধা দেন তপন দত্ত।

আবার সিবিআই তদন্তে নির্দেশ। বালির তৃণমূল কংগ্রেস নেতা তপন দত্ত খুনের ঘটনায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। আজ, বৃহস্পতিবার সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়ে বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার বেঞ্চ জানিয়েছে, ওই খুনের ঘটনার তদন্ত এবং বিচার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সব দায়িত্ব সিবিআই পালন করবে। ২০১১ সালে ৬ মে খুন হন তপন দত্ত। তখন তপন দত্ত এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতা ছিলেন।

ঠিক কী ঘটেছিল বালিতে?‌ স্থানীয় সূত্রে খবর, বালির জলাজমি ভরাট নিয়ে বিবাদের ঘটনায় তপন দত্ত খুন হয়েছিলেন। বালির নিশ্চিন্দা এলাকায় একটি বড় আকারের জলাভূমি ছিল। সেই জলাভূমির প্রতি নজর ছিল স্থানীয় প্রোমোটার চক্রের। তখন সবে ক্ষমতায় এসেছে তৃণমূল কংগ্রেস। জলাভূমি ভরাট নিয়ে দলের ভিতরে আপত্তি তুলে কাজে বাধা দেন তপন দত্ত। আর এতেই জেলার এক দাপুটে নেতা তথা বিধায়ক–মন্ত্রীর বিরাগভাজন হন তিনি বলে অভিযোগ। বাড়ি ফেরার সময় তপন দত্তকে রেলগেটের কাছে কুপিয়ে খুন করা হয়।

কেন সিবিআই তদন্ত চাওয়া হয়েছিল?‌ পরিবার সূত্রে খবর, এই খুনের ঘটনার প্রকৃত তদন্ত ও সিবিআইয়ের দাবিতে দীর্ঘ ১১ বছর লড়াই চালিয়ে এসেছেন তাঁর স্ত্রী প্রতিমা দত্ত। তপন দত্ত খুনের পর সিআইডি তদন্তভার নেয়। প্রথম দফায় অভিযুক্তদের নামে যে চার্জশিট দেওয়া হয়, তাতে হাওড়ার এক মন্ত্রীর নাম ছিল। কিন্তু সাপ্লিমেন্টারি একটি চার্জশিট জমা পড়ে আদালতে। আশ্চর্যজনকভাবে সেখান থেকে ওই মন্ত্রীর নাম উধাও হয়। প্রতিমাদেবী কলকাতা হাইকোর্টে সিবিআই তদন্তের দাবি জানান। আর মামলা চালিয়ে যেতে থাকেন।

কী বলছেন তপন দত্তের স্ত্রী?‌ এই বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এই খুনের ঘটনায় হাওড়ার তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতা ও বিধায়ক জড়িত রয়েছেন। প্রথম চার্জশিটে যাঁর নাম ছিল পরে তা উধাও হয়ে যায়। আশা করছি এবার ন্যায়বিচার হবে। অপরাধীরা শাস্তি পাবে।’ উল্লেখ্য, এই মামলা নিম্ন আদালত, কলকাতা হাইকোর্ট এমনকী সুপ্রিম কোর্টেও উঠেছে।

বন্ধ করুন