বাড়ি > বায়োস্কোপ > সুশান্তের জন্য অভিনয় কেরিয়ার বিসর্জন দিতে চেয়েছিলেন অঙ্কিতা, দাবি বন্ধু সন্দীপের
সুশান্তের জন্য নিজের কেরিয়ার ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন অঙ্কিতা 
সুশান্তের জন্য নিজের কেরিয়ার ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন অঙ্কিতা 

সুশান্তের জন্য অভিনয় কেরিয়ার বিসর্জন দিতে চেয়েছিলেন অঙ্কিতা, দাবি বন্ধু সন্দীপের

  • এখনও কান্না থামছে না অঙ্কিতার।সুশান্তের মৃত্যুশোকের ধাক্কা মেনে নিতে পারছেন না প্রাক্তন প্রেমিকা,বললেন সুশান্ত-অঙ্কিতার 'কমন ফ্রেন্ড' সন্দীপ সিং। 

সুশান্ত সিং রাজপুতের অন্যতম কাছের বন্ধু হিসাবেই উঠে এসেছে প্রযোজক সন্দীপ সিংয়ের নাম। তবে রিয়া চক্রবর্তীর সঙ্গে সুশান্তের বিয়ের ব্যাপারে অবগত নন সন্দীপও। সম্প্রতি স্পটবয়ই'কে দেওয়া সাক্ষাত্কারে এমনটাই বলেছেন তিনি। সুশান্তের মরদেহের ময়নাতদন্ত থেকে শেষকৃত্য সব দায়িত্বই পালন করতে দেখা গেছে সন্দীপকে। তাঁর দাবি ‘অঙ্কিতার মতো করে সুশান্তকে কেউ ভালোবাসেনি’। সুশান্তের মৃ্ত্যুর পর ইনস্টাগ্রামে লেখা খোলা চিঠিতেও সেই কথার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন সন্দীপ। তিনি স্পষ্টতই বলেছিলেন ‘তোদের (সুশান্ত-অঙ্কিতা) বিয়েটা নিয়ে আমি কত স্বপ্ন দেখেছিলাম’। 

১৪ জুন বান্দ্রার অ্যাপার্টমেন্ট থেকে উদ্ধার হয় সুশান্তের ঝুলন্ত দেহ। মাত্র ৩৪ বছর বয়সেই এই নক্ষত্রর অকালে খসে পড়াটা মেনে নিতে পারছে না গোটা দেশ। সন্দীপ বলেন, মেসেজ ও ফোনে কথা হত তবে লকডাউনের জন্য সরাসরি বহুদিনই সুশান্তের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়নি। তবে শেষ কবে বা কী কথা তাঁদের ফোনে হয়েছে সেব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানাতে অস্বীকার করেন তিনি। যোগ করেন, আমার মনে হয় এই রকম একটা সিদ্ধান্ত নিলে কখনই মন খুলে অন্য মানুষকে কিছু বলবে না। পাশাপাশি ওর ওখানে আরও অনেক লোকজন থাকছিল'।

রিয়া-সুশান্তের সম্পর্ক নিয়ে সন্দীপের সাফ বক্তব্য, আমি তো এমন কোনও বিয়েতে আমন্ত্রিত ছিলাম না, আমি জানি না। আমি জানি একটা সময় অঙ্কিতা-সুশান্তের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। আমার জন্য ওটাই সুশান্তের শেষ প্রেম সম্পর্ক ছিল। ও স্মৃতিটা নিয়ে আমি থাকতে চাই।

পবিত্র রিসতা কো-স্টার অঙ্কিতা লোখান্ডের সঙ্গে সাত বছরের প্রেম সম্পর্ক ছিল সুশান্তের। একসঙ্গে লিভ-ইনও করেছেন তাঁরা। ২০১৬-র ডিসেম্বরে বিয়ের কথা পাকা ছিল তাঁদের। যদিও সেই বছরের শুরুতেই ভেঙে যায় এই সম্পর্ক। সন্দীপের কথা, অঙ্কিতা সুশান্তের পরিবার ছিল-মা,দিদি,বন্ধু, স্ত্রী সব ভূমিকা ও পালন করেছে। আমি ওর মতো মেয়ে দেখেনি। সুশান্তের মুখে হাসি ফোটাতে ও সবকিছু করতে পারত। সুশান্তের পছন্দ মতো সাজত, সুশান্ত যা খেতে ভালোবাসত সেটাই রান্না করত। ঘরের সাজানো হবে সুশান্তের ইচ্ছা মতো, ঘরে যা বই থাকবে সেগুলো হবে সুশান্তের পছন্দের-ওর গোটা দুনিয়াটা ছিল সুশান্ত। কেউ সৌভাগ্যবান হলে এমন একটা মেয়ে পায়'।

সুশান্তের জন্য নাকি নিজের কেরিয়ারও ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন অঙ্কিতা। সন্দীপের কথা,টেলিভিশনের বড় নাম ছিল অঙ্কিতা। ছবির অফারও ছিল। সেই সময় সুশান্তের জন্য ও সবকিছু ছাড়তে রাজি ছিল। ব্রেক-আপের পরেও সুশান্তের খুশি ছাড়া ও কিছু চায়নি। সুশান্তের ছবি যখন রিলিজ করেছে আমি দেখেছি ওকে প্রার্থনা করতে। সুশান্তের মৃত্যুর খবর পেয়ে আমি অঙ্কিতাকে নিয়ে বেশি চিন্তায় ছিলাম। হাসপাতালের মর্গ থেকে সোজা সেদিন রাতে ওর বাড়ি ছুটে গিয়েছি-এমনতি ও খুব শক্ত মেয়ে কিন্তু ওই অবস্থায় আমি ওকে আজ পর্যন্ত দেখিনি। সেদিন ও আমাকে যেভাবে জড়িয়ে কেঁদেছে আমি ভুলব না। দশ বছরে আমি ওই এইভাবে দেখিনি। ও আমার মনের খুব কাছের এবং আমার তরফ থেকে আমি সবকিছু করব ওর জন্য'।

এখন কেমন আছেন অঙ্কিতা? জবাবে সন্দীপ জানান, ওরা যে একে অপরের জন্য কী ছিল সেটা ভাষায় বলে বোঝানো সম্ভব নয় আমার পক্ষে. আর ওর বর্তমান অবস্থাটাও। এখনও কেঁদেই চলেছে'।

বন্ধ করুন