বাংলা নিউজ > বায়োস্কোপ > জন্মদিনে সুরেখা সিক্রি: জানেন 'বাধাই হো'র দাদির নাসিরুদ্দিন শাহের আত্মীয়?
সুরেখা সিক্রি
সুরেখা সিক্রি

জন্মদিনে সুরেখা সিক্রি: জানেন 'বাধাই হো'র দাদির নাসিরুদ্দিন শাহের আত্মীয়?

  •  ৭৬-এ পা দিলেন অভিনেত্রী সুরেখা সিক্রি।

বর্তমানে টেলিভিশন এবং সিনে প্রেমীেদর কাছে অভিনেত্রী সুরেখা সিক্রি দারুণ জনপ্রিয়। টেলিভিশন ধারাবাহিক বালিকা বধূ এবং আয়ুষ্মার খুরানা অভিনীত ‘বাধাই হো’র মতো ছবি থেকে সবথেকে বেশি জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন তিনি। সত্তর থেকে আশির দশকে প্রচুর নামী পরিচালকের সঙ্গে কাজ করে অনেক পুরস্কার পেয়েছেন অভিনেত্রী। কিন্তু আপনি কি জানেন, বর্ষীয়ান অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহর সঙ্গে তাঁর যোগ রয়েছে? কীভাবে?

দু’বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ। রত্ন পাঠক শাহকে বিয়ে করার আগে নাসিরের সঙ্গে মনারা সিক্রি (যে পারভিন মুরাদ নামেও পরিচিত) নামে এক মহিলার সঙ্গে বিয়ে হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুসারে, নাসির তাঁর থেকে ১৪ বছরের বড় মনারাকে বিয়ে করেছিলেন। পরিবারের অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাঁরা বিয়ে করেছিলেন। এবং তাঁদের একমাত্র কন্যা সন্তানের নাম হিবা শাহ।

অন্যদিকে, সুরেখার সৎ বোন মনারা। খুব অল্প সময় বিয়ে টিকেছিল নাসির এবং মনারার। এরপরই তাঁরা বিবাহ বিচ্ছদের আবেদন জানিয়ে বিচ্ছেদের পথে হেঁটেছিলেন। এইভাবে হিবা শাহ সম্পর্কে সুরেখা সিক্রির বোনঝি। টেলিচক্করের প্রতিবেদন অনুসারে, হিবা বালিকা বধূতে দাদিসার ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন।

সুরেখার প্রথম বিয়ে থেকে এক ছেলে রয়েছে। নাম রাহুল সিক্রি। এরপর বিজ্ঞাপনে কাজ করেন হেমন্ত রেঞ্জের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। ২০০৯ সালে হেমন্তের মারা যান। ২০২০ সালে ফিল্মফেয়ারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী পরিবার সম্পর্কে বলতে গিয়ে জানিয়েছেন, ‘আমার ছেলে রাহুল অবিবাহিত কিন্তু ও বিবাহিত হলে আমি ভালো শ্বাশুরি হতাম। আমার ভাগ্নি হিবা এবং বসরা আমার মেয়ের মতো। আমার বড় বোন পারভিন মুরাদ খুব প্রতিভাশালী একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ। আইন নিয়েও পড়াশোনা করেছে ও।  ও ভাস্কর্য এবং আঁকতে জানে... আমি ছোট বোন ফুলমনি আমার বিল্ডিংয়ে থাকে। নাম টা সুন্দর না ওর?’  

প্রয়াত স্বামী সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি জানিয়েছেন, ‘আমি আমার স্বামীকে খুব ভালবাসি। আমি তার অভাব অনুভব করি। তিনি বিজ্ঞাপন প্রযোজনায় ছিলেন। আমাদের ভালো বিয়ে হয়েছিল। তিনি ছিলেন একজন মিষ্টি ও স্নেহশীল ভদ্রলোক। প্রথম বিয়ে ঘরের থেকে রাহুল আমার ছেলে। তিনি একজন শিল্পী’। জানা যায়, অভিনেত্রীর প্রথম স্বামীর সঙ্গে ডিভোর্স হয়ে গিয়েছিল।

বেশ কয়েকটি নামীদামী চলচ্চিত্র এবং টিভি শোতে অভিনয় করেছেন এমন প্রবীণ অভিনেত্রী সুরেখা। যিনি সর্বাধিক বিখ্যাত গোবিন্দ নীহালানীর ‘তামাস’, ‘বলিকা বধূ’তে করা মাতৃত্ব কল্যাণী দেবী হিসাবে জাতীয় প্রচারে এসেছিলেন তিনি। ২০০৮ সালের শুরু থেকে ২০১৬ সালের শেষ পর্যন্ত তিনি এই শোতে কাজ করেছিলেন। টানা ৮ বছর চলেছিল এই শো-তে তাঁর চরিত্র বেশ চর্চায় ছিল।

২০১৮ সালে ‘বাধাই হো’তে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন সুরেখা। কেন্দ্রীয় চরিত্র নীনা গুপ্তার শ্বাশুরির ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল তাঁকে। এরপর জোয়া আখতারের ‘ঘোস্ট স্টোরিস’এ অভিনয় করতে দেখা যায় তাঁকে। 

প্রবীণ প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা অভিনেত্রীকে ‘তমাস’এ রাজো-র চরিত্রে অভিনয়ের জন্য মনে রাখেন। অবিভক্ত পঞ্জাবের মধ্যবয়সী মুসলিম মহিলা হিসেবে এক বৃদ্ধ শিখ দম্পতিকে আশ্রয় দিয়েছিলেন তিনি। সেরা অভিনেত্রী হিসেবে দুবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতেছেন- ‘মাম্মো’র জন্য (১৯৯৫) এবং পরে ‘বাধাই হো’(২০১৮) এর জন্য।

বন্ধ করুন