বাংলা নিউজ > বায়োস্কোপ > মিঠুনের সঙ্গে ‘সম্পর্ক’, বিবাহিত বনি কাপুরকে বিয়ে, শ্রীদেবী বেঁচেছেন নিজের শর্তে
শ্রীদেবী
শ্রীদেবী

মিঠুনের সঙ্গে ‘সম্পর্ক’, বিবাহিত বনি কাপুরকে বিয়ে, শ্রীদেবী বেঁচেছেন নিজের শর্তে

  • প্রথম দেখাতেই শ্রীদেবীর প্রেমে পড়েছিলেন বিবাহিত বনি কাপুর, পিছিয়ে আসতে পারেননি.. এক সময় লক্ষ পুরুষ হৃদয় ঝড় তুলতেন  এই বলি সুন্দরী।

জীবন কাটিয়েছেন নিজের শর্তেই। বলিউডের অন্যতম চর্চিত অভিনেত্রী শ্রীদেবী। ২০১৮ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি লক্ষ অনুরাগীকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গিয়েছেন বলিউডের এই প্রথম সারির অভিনেত্রী। হিন্দি সিনেমার প্রথম মহিলা সুপারস্টার। তাঁর কেরিয়ার শুরু হয়েছিল শিশুশিল্পী হিসেবে। প্রথমে ঠিক করে হিন্দিও বলতে পারতেন না তিনি। অথচ একটা সময় পর তিনিই হয়ে ওঠেন বলিউডের হায়েস্ট পেইড অভিনেত্রী।

১৯৬৩-র ১৩ অগস্ট তামিলনাড়ুর শিবকাশীতে জন্ম তাঁর। আসল নাম শ্রী আম্মা আয়েঙ্গার আয়াপ্পন। তাঁর বাবা আয়াপ্পন ছিলেন শিবকাশীর আইনজীবী। মা রাজেশ্বরী গৃহবধূ। অভিনেত্রীর একমাত্র বোন শ্রীলতা। ছোট থেকেই নাচ গানের প্রতি তীব্র আকর্ষণ ছিল শ্রীদেবীর। মাত্র চার বছর বয়সে প্রথম অভিনয় জগতে পদার্পণ। তামিল ছবি নাম ‘কন্দন করুণাই’। তাঁর নায়িকা হওয়ার পিছনে মা রাজেশ্বরীর ছিল বড় অবদান।

অদেখা শ্রীদেবী
অদেখা শ্রীদেবী

খুব ছোট বয়সেই অভিনয় জগতে পথ চলা শুরু করেন তেলুগু ও মালয়ালম ছবিতে। পড়াশোনা ও অভিনয়ের মধ্যে অভিনয়কে বেশি প্রাধান্য দিয়েছিলেন তিনি। খুদে বয়সেই অভিনয় করেছিলেন তৎকালীন নামী অভিনেত্রী ও পরে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া প্রয়াত জয়ললিতার সঙ্গে। ৯ বছর বয়সে প্রথম হিন্দি ছবি ‘জুলি’তে পার্শ্ব নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করেন। তবে তাঁর প্রথম হিট হিন্দি ছবি ‘ষোলওয়া সাওয়ান’(১৯৭৯)।

শ্রীদেবী
শ্রীদেবী

হিন্দি ছবিতে প্রথম অভিনয় করার সময় ঠিকমতো হিন্দি বলতে পারতেন না তিনি। তাঁর হয়ে ডাবিং করতেন রেখা এবং অতীতের আর এক অভিনেত্রী নাজ। ১৯৮৯ সালে মুক্তি পায় ‘চাঁদনি’। সেটাই ছিল তাঁর প্রথম হিন্দি হিট ছবি। 

আটের দশকে মিঠুন-শ্রীদেবীর জুটি ছিল সুপারহিট। বলিউডি গুঞ্জন, তাঁদের মধ্যে নাকি প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু পরে তাঁরা সরে আসেন সম্পর্ক থেকে। এমনকি মুম্বইয়ের এক সংবাদপত্রে খবর প্রকাশিত হয়েছিল মিঠুনের বাংলো মড আইল্যান্ডে গিয়েছিলেন যোগিতা বালি। সেখানেই প্রহরীর কাছ থেকে জানতে পেরেছিলেন, সাহেবের সঙ্গে মেমসাহেব আসে, মাঝেমধ্যে রাতেও থেকে যান তাঁরা। পরে মুম্বইয়ের ফ্ল্যাট ফিরে এসে ঘুমের ওষুধ খেয়েছিলেন তিনি। অচৈতন্য অবস্থায় ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছিলেন। যোগিতা এমন কেন করেছে সেই সম্পর্কে একাধিক সাংবাদিক মিঠুন সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। সেই সময় তিনি শ্রীদেবীর সঙ্গে আমেরিকায় অনুষ্ঠান করছিলেন।

ছবির দৃশ্যে মিঠুন-শ্রীদেবী
ছবির দৃশ্যে মিঠুন-শ্রীদেবী

পরে অবশ্য জানা যায়, যোগিতা বালির সঙ্গে নিজের বিয়ে ভাঙতে রাজি ছিলেন না মিঠুন। যদিও মিঠুন-শ্রীদেবী নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে কোনোদিনও কিছু স্বীকার করেননি। অন্যদিকে শ্রীদেবীর প্রেমে ব্যর্থ বনি কাপুর ১৯৮৩ সালে মোনা সৌরির সঙ্গে বিয়ে করেন। সেটা ছিল অ্যারেঞ্জড ম্যারেজ।

অভিনয়ের পাশাপাশি শ্রীদেবী গান করতে ও ছবি আঁকতে ভালবাসতেন। নিজের চারটি ছবিতে তিনি প্লে ব্যাক করেছিলেন। সেই সময় সমসাময়িক অভিনেত্রীদের তুলনায় সবথেকে বেশি পারিশ্রমিক নিতেন তিনি। জানা যায়, ‘চালবাজ’ ছবিতে ‘না জানে কঁহা সে আয়ি ও লেড়কি’ গানের শ্যুটিং করার সময় শ্রীদেবীর গায়ে ১০৩ ডিগ্রি জ্বর ছিল। কিন্তু তিনি এতটাই পেশাদার ছিলেন তিনি, অভিনয়ে বিন্দুমাত্র তাঁর অসুস্থতা প্রকাশ পায়নি। ১৯৮৫ থেকে ১৯৯২ অবধি তিনি ছিলেন বলিউডের হায়েস্ট পেইড অভিনেত্রী।

শ্রীদেবী
শ্রীদেবী

‘হিম্মতওয়ালা’, ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’, ‘খুদা গাওয়াহ’, ‘সদমা’, ‘নজরানা’, ‘নয়া কদম’, ‘লমহে’, ‘নজরানা’, ‘চাঁদনি’, ‘লাডলা’-সহ অসংখ্য ব্লকবাস্টার হিন্দি ছবিতে শ্রীদেবীর অনবদ্য অভিনয় জয় করেছিল দর্শকদের মন। পাঁচ দশকের কেরিয়ারে শ্রীদেবী অভিনয় করেছেন মোট ৩০০ ছবিতে। তিনি মুম্বইয়ের প্রথম সুপারস্টার নায়িকা। 

শ্রীদেবীর ‘ষোলা সাওয়ান’ (১৯৭৯) দেখার পরই বনি কাপুর ঠিক করেন তিনি তাঁর প্রোডাকশন হাউসে মিস্টার ইন্ডিয়া সিনেমায় তাঁকে কাস্টিং করবেন। কারণ তামিল ছবিতে শ্রীদেবী দেখেই প্রেমে পড়ে গিয়েছিলেন বনি। অন্যদিকে, শ্রীদেবীর মা মেয়ের অভিনয় কেরিয়ারের যাবতীয় খুঁটিনাটির দেখাশোনা করতেন। তাই বনির প্রথম লক্ষ্য ছিল শ্রীদেবীর মা’কে ইমপ্রেস করা। 

প্রথম দেখাতেই রীতিমতো শ্রীদেবীর প্রেমে হাবুডুবু খেয়েছিল বনি কাপুর। বিবাহিত, দুই সন্তানের বাবা হওয়া সত্ত্বেও শ্রীদেবীর মোহ কাটিয়ে কোনওদিনই উঠতে পারেননি বনি কাপুর। এমনকি সেকথা স্বীকার করেছিলেন নিজের তৎকালীন স্ত্রী মোনার কাছেও।

‘চাঁদনি’র দৃশ্যে শ্রীদেবী
‘চাঁদনি’র দৃশ্যে শ্রীদেবী

প্রযোজক বনি কাপুর এবং অভিনেত্রী শ্রীদেবীর সম্পর্ক নিয়ে বহু গুঞ্জন ঘোরফেরা করেছে বলিউডে। আশির দশকে মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে শ্রীদেবীর প্রেমের চর্চা ছিল বলিউডের হটকেক, এরপর আচমকাই শ্রীদেবীর জীবনে এন্ট্রি নেন বিবাহিত বনি কাপুর। কেমনভাবে শুরু হয়েছিল এই প্রেমের গল্পটা?

মিঠুনের সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙার পর নাকি ভেঙে পড়েছিলেন শ্রীদেবী, সেইসময় তাঁর পাশে দাঁড়ান বনি। তিনি জানতেন, সেই সময় শ্রীদেবী প্রায় ৮-৮.৫ লক্ষ টাকা পারিশ্রমিকে একটা সিনেমা করেছিলেন। শ্রীদেবীর মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে ১১ লক্ষ টাকা পারিশ্রমিক দেবেন জানিয়ে ছবি অফার করেন বনি। শ্রীদেবীর মা যা চাইছেন বনি তাঁর থেকে বেশি পারিশ্রমিক দিতে রাজি শুনে উনি ভেবেছিলাম বনি কাপুর বম্বের একজন উন্মাদ প্রোডিউসার। এভাবেই বনি শ্রীদেবীর মায়ের কাছে সহজে পৌঁছাতে পেরেছিলেন।

মিস্টার ইন্ডিয়া’র শ্যুটিংয়ের সময় শ্রীদেবীর জন্য সেরা মেক-আপ রুম থেকে সেরা পোশাক সবকিছুর ব্যবস্থা করার চেষ্টা করেছিলেন বনি। তিনি নিজেকে শ্রীদেবীর প্রেমে পড়া থেকে আটকাতে পারেননি। যদিও সেই সময় বনি কাপুর, মোনা সৌরির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন। তাঁদের দুই সন্তান অর্জুন কাপুর ও অনুশুলা কাপুর। সেই সময় বনি মোনার কাছে স্বীকার করেছিলেন স্বীকার করেছিলেন, তিনি শ্রীদেবীর প্রেমে পড়েছেন এবং নিজেকে কোনওভাবেই পিছিয়ে আনতে পারবেন না।

মিঠুনের সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙার পর বনির প্রেমে পড়েন শ্রীদেবী
মিঠুনের সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙার পর বনির প্রেমে পড়েন শ্রীদেবী

বনি শ্রীদেবীর পিছু পিছু সুইজারল্যান্ড পর্যন্ত চলে গিয়েছিলেন শ্রীদেবীর চাঁদনির শ্যুটিং চলাকালীন। শ্রীদেবীও বনি কাপুরে অনুভূতি এবং আচরণ দেখে ধীরে ধীরে প্রতিক্রিয়া দিতে শুরু করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত ১৯৯৬ সালে বনি আর শ্রীদেবী সাত পাঁকে বাঁধা পড়েন। তাঁদের দুই কন্যা সন্তান-জাহ্নবী আর খুশি। দুই মেয়েই শ্রীদেবীর খুব ঘনিষ্ঠ ছিল। শ্রীদেবী নিজেও তাঁর মায়ের উপর অত্যন্ত নির্ভরশীল ছিলেন।

বনিকে বিয়ে করেন শ্রীদেবী
বনিকে বিয়ে করেন শ্রীদেবী

১৯৯৩ সালে তিনি স্টিফেন স্পিলবার্গের ‘জুরাসিক পার্ক’ ছবিতে সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু শ্রীদেবী রাজি হননি কাজ করতে। মনে হয়েছিল, ওই ভূমিকা তাঁকে মানাবে না। ইন্ডাস্ট্রিতে সেই সময় জয়াপ্রদা ছিলেন তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী। তাঁদের মধ্যে সম্পর্কও মধুর ছিল না। শ্রীদেবীর রেখে যাওয়া শূন্যস্থানে জায়গা করে নেন মাধুরী দীক্ষিত। 

মাধুরীর কেরিয়ারের উল্লেখযোগ্য ছবি ‘বেটা’ প্রথমে এসেছিল শ্রীদেবীর কাছেই। কিন্তু তিনি করতে রাজি হননি। কারণ তার আগেই অনিল কাপুেরর সঙ্গে বেশ কিছু ছবিতে অভিনয় করেছিলেন তিনি। বনিকে বিয়ে করার পর বেশ কিছু বছর ইন্ডাস্ট্রি থেকে দূরে ছিলেন নায়িকা। কেরিয়ারের দ্বিতীয় ইনিংসে তাঁর স্মরণীয় অভিনয় ছিল ২০১২ সালের ‘ইংলিশ ভিংলিশ’।

দুই মেয়ে খুশি ও জাহ্নবীকে নিয়ে শ্রীদেবী-বনি
দুই মেয়ে খুশি ও জাহ্নবীকে নিয়ে শ্রীদেবী-বনি

অভিনয় জীবনে অজস্র পুরস্কার পেয়েছেন। ২০১৩ সালে ভূষিত হন ‘পদ্মশ্রী’ সম্মানে। ২০১৭ সালের ‘মম’ ছবিতে অভিনয়ের সুবাদে সেরা অভিনেত্রী বিভাগে পান মরণোত্তর জাতীয় পুরস্কার। ২০১৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়রি দুবাইয়ের হোটেলে বাথটবে দুবাইয়ের এক পাঁচতারা হোটেলের বাথটবে ডুবে অস্বাভাবিক মৃত্যু হয় শ্রীদেবীর। তদন্তে উঠে এসেছে এই মৃত্যু ছিল নিছকই দুর্ঘটনা। সেইসময় হোটেল রুমেই ছিলেন বনি কাপুর।

 

বন্ধ করুন