বাংলা নিউজ > বায়োস্কোপ > ছবিতে কাজ দেওয়ার বদলে সম্পর্কের চুক্তি! প্রমাণ দেখে হতবাক সুপ্রিম কোর্ট
প্রতীকি ছবি 
প্রতীকি ছবি 

ছবিতে কাজ দেওয়ার বদলে সম্পর্কের চুক্তি! প্রমাণ দেখে হতবাক সুপ্রিম কোর্ট

  • ভোজপুরি অভিনেত্রী ও প্রযোজকের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি দেখে চক্ষু চড়কগাছ সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের! ‘এটা কী ধরণের চুক্তি?’ প্রশ্ন আদালতের। 

দেশের সর্বোচ্চ আদালতও এই ভেবে হয়রান ছবিতে কাজ দেওয়ার বদলে কোনও স্ত্রী-পুরুষের মধ্যেকার সম্পর্ক তৈরির কোনও চুক্তি বৈধ কিনা! বুধবার বিচারপতি ইন্দিরা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অনিরুদ্ধ বোসের ডিভিশন বেঞ্চ এই জেনে হতচকিত হয়ে যায় যে এক ভোজপুরী অভিনেত্রী ও প্রযোজকের মধ্যে ছবিতে রোল দেওয়ার বদলে সম্পর্ক তৈরি নিয়ে আস্ত একখানা চুক্তি রয়েছে। 

‘এই ধরণের চুক্তি কি পাবলিক পলিসির বিষয় হিসাবে গ্রহণযোগ্য? বন্ধুত্ব হোক বা যা কিছু, এটা কি ধরণের বিবেচনা? ছবিতে অভিনয়?’ আগাম জামিনের শুনানিতে এমনই মন্তব্য করল সুপ্রিম কোর্ট।

যে চুক্তি রয়েছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে সেটি স্বাক্ষর হয় ২০১৮ সালের মে মাসে। ২৬ বছর বয়সী ভোজপুরী অভিনেত্রী ও ৪১ বছর বয়সী প্রযোজক (জামিনের আবেদনকারী)-এর মধ্যে স্বাক্ষর ওই চুক্তি অনুসারে তাঁদের সম্পর্ক রয়েছে ২০১৬ সাল থেকে। কোনওরকম চাপ বা জবরদস্তি ছাড়াই এই সম্পর্কে রয়েছেন মহিলা। সেখানে এও উল্লেখ রয়েছে প্রযোজকের ডিভোর্স মামলা আদালতে বিচারাধীন, প্রয়োজক ওই অভিনেত্রীকে ভোজপুরী ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ দেবেন। সম্পর্কে থাকাকালীন তাঁরা কেউ একে অপরের বিরুদ্ধে কোনওরকম অপরাধমূলক মামলা দায়ের করবেন না।

কিন্তু জুলাই মাসে ওই প্রযোজক,যিনি নামী বিল্ডারও বটে- তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষনের মামলা ঠুকে দেন ওই অভিনেত্রী। পাশাপাশি ভয় দেখানো এবং প্রতারনার অভিযোগও আনা নয় প্রযোজকের বিরুদ্ধে। ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিয়ো স্পাই ক্যামেরায় শ্যুট করে অভিনেত্রীকে ব্ল্যাকমেল করছেন প্রযোজক, সেই অভিযোগও পুলিশের কাছে জানান মামলাকারী। 

যে কোনও মুহূর্তে গ্রেফতার হতে পারেন এই ভয়ে বম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন প্রযোজক। অবিলম্বে গ্রেফতারি থেকে রক্ষাকবচ চান, তবে গত ২১ ডিসেম্বর সেই আবেদন খারিজ করে আদালত। প্রযোজকের আইনজীবী মুকুল রোহাতগির দাবি ওই অভিনেত্রীর অভিযোগ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। তাঁর মক্কেলের কাছ থেকে মোট টাকা আদায়ের জন্যই এই কাজ করেছে অভিনেত্রী। অপর এক ব্যক্তিকেও এইভাবেই ঠকিয়ে টাকা হাতিয়েছে অভিনেত্রী, সেটা জানতে পেরেই নাকি ২০১৮ সালে এই চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন ওই প্রযোজক।  

রোহাতগি আদালতকে জানান, অভিনেত্রী-প্রযোজকের সম্পর্ক সম্পূর্ন সহমতের ভিত্তিতে তৈরি, ধর্ষনের প্রশ্নই উঠে না। যদিও আদালত এই চুক্তি দেখে হয়রানির সঙ্গে বলে- ‘এটা কী ধরণের চুক্তি? এটা গ্রাহ্য হতে পারে না’। 

অভিযুক্তকে আগাম জামিন দিতে অস্বীকার করেছে সুপ্রিম কোর্ট। কারণ স্পাই ক্যামেরার ব্যবহার বেআইনি। আত্মসমর্পনের পর ট্রায়াল কোর্টে জামিনের আবেদন করবার নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। 

করোনার প্রসঙ্গ তুলে আত্মসমর্পনের জন্য আদালতের কাছে কিছু সময় ভিক্ষা করেন রোহাতগি। প্রযোজককে আত্মসমর্পনের জন্য চার সপ্তাহের সময় দিয়েছে আদালত। 

বন্ধ করুন