বাংলা নিউজ > বায়োস্কোপ > সুশান্ত মামলা: মাদককাণ্ডের জাল ছড়িয়ে রয়েছে পাকিস্তানেও, খবর NCB সূত্রে
সুশান্তের মাদককাণ্ডের যোগ পৌঁছাল পাকিস্তানে!
সুশান্তের মাদককাণ্ডের যোগ পৌঁছাল পাকিস্তানে!

সুশান্ত মামলা: মাদককাণ্ডের জাল ছড়িয়ে রয়েছে পাকিস্তানেও, খবর NCB সূত্রে

  •  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডার মাদক নিয়ন্ত্রক সংস্থারও এই কাজে NCB-কে সাহায্য করছে। 

কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে কেউটের সন্ধান! এমনটাই ঘটছে সুশান্ত সিং রাজপুত মামলার সঙ্গে জড়িত মাদককাণ্ডের তদন্তে নেমে। এই মামলা আপতত বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখছে দেশের কেন্দ্রীয় মাদক নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা। রিয়া চক্রবর্তীর ফোনে ডিলিট হওয়া হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের সূত্রে ধরে শুরু হওয়া এই মাদককাণ্ডের যোগ পৌঁছ গেল সীমান্ত পারে! একটা বড় মাদকচক্র মারফত অমৃতসর এবং পাকিস্তান থেকে কোকেন এবং অন্য নিষিদ্ধ মাদক পাচার করা হচ্ছিল মুম্বই তথা বলিউডে। হ্যাঁ, সোমবার এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলছে এনসিবি সূত্রে।

মাদকসেবনকারী, মাদকপাচারকারীদের সূত্র ধরে ধীরে ধীরে এই মাদকচক্রের জট খোলবার চেষ্টা চালাচ্ছে নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো। তবে তদন্ত যতই গভীরে যাচ্ছে ততই আরও জটিল হচ্ছে এই মাদকচক্রের জাল। এনসিবির হাতে এই মূহূর্তে একাধিক তথ্য রয়েছে যেখানে আজকের জেনারেশনের প্রথম সারির একাধিক বলিউড তারকা, এমনকি নব্বইয়ের দশকের বলিউড সেলেবদেরও এই চক্রে জড়িত থাকার তথ্য উঠে আসছে। যদিও এখনই এইসব এ-লিস্টার তারকাদের নাম প্রকাশ করতে চাইছে না নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো। তবে তাঁদের গতিবিধি খতিয়ে দেখা শুরু করে দিয়েছে এনসিবি।

‘আমাদের আপাতত একটা নির্দিষ্ট ধারণা হয়ে গিয়েছে যে এই মাদককাণ্ডের সঙ্গে বলিউডের কোন ব্যক্তিত্বরা যুক্ত, মুম্বইয়ের স্লাপায়ার কারা। আপতত প্রমাণ জোগাড় করা হচ্ছে। কোকেন,হেরোইন, এমডিএম সহ একাধিক নিষিদ্ধ মাদক সেবনকারী ও তাদের পাচারকারীদের জালে ধরবার আগে সেটা জরুরি’, এমনটাই জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনসিবির এক উচ্চ পদস্থ আধিকারিক।

এই মাদকচক্রের অমৃতসর যোগের সূত্রধরকে আগামী সপ্তাহে সমন পাঠাবে এনসিবি। মুম্বইয়ে কোকেন স্লাপায়াদের তথ্য পেতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়ার ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট এজেন্সিগুলির সঙ্গে ইতিমধ্যেই যোগাযোগ করেছে এনসিবি। জানা যাচ্ছে, ২০১৮ সালে ভারতে ১,২০০ কিলোগ্রাম কোকেন এসেছে, যার মধ্যে কেবল মুম্বইতেই ৩০০ কিলোগ্রাম কোকেন পৌঁছেছিল। উল্লেখ্য গত বছর জুন মাসে অস্টেলিয়া থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয় ৫৫ কিলোগ্রাম কোকেন। সেই মামলার তদন্তেই অস্ট্রেলিয়ার সংশ্লিষ্ট সংস্থা ভারতের মাদকচক্রের তথ্য হাতে পায়। সেই রিপোর্ট ইতিমধ্যেই এনসিবির হাতে রয়েছে।

এনসিবি তরফে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মূলত ভারতে কোকেন ঢোকে কলম্বিয়া-ব্রাজিল-মোজাম্বিকিউ রুট ধরে। কখনও কখনও দুবাই কিংবা অন্য আফ্রিকান দেশ মারফতও ভারতে কোকেন চালান করা হয়। বিশ্বে পটাসিয়াম পারম্যাঙ্গানেট উদপাদনকারী সর্ববৃহত দেশ ভারত, যা কোকেন তৈরির অপরিহার্য সামগ্রী।জানা যায় গত কয়েক বছর ধরেই ভারতে কোকেন তৈরির ইউনিট খোলবার পরিকল্পনা রয়েছে এই ড্রাগ মাফিয়াদের। ভারতে প্রতিদিন ১ টন হেরোইন ব্যবহার করা হয়। অন্য দেশের সংশ্লিষ্ট মাদক নিয়ন্ত্রক সংস্থার তরফে এনসিবিকে এমনটাও জানানো হয়েছে আফগান হেরোইনের একটি ইউনিট ভারতে জাল বিস্তার করছে পাঞ্জাব (পাকিস্তান) অথবা সমুদ্রের রাস্তা দিয়ে যা গুজরাট হয়ে ভারতে ঢুকছে। পাকিস্তানের রাজ্য পাঞ্জাব বরাবর নিষিদ্ধ মাদক থেকে আয় করা টাকা ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ ছাড়ানোর কাজে ব্যবহার করে চলে-এই খবর আইবির কাছে বহুদিন থেকে রয়েছে।

তাই এনসিবি সুশান্ত মামলার সঙ্গে জড়িত মাদককাণ্ডে মারাত্মক সাবধানে পা ফেলতে চায়। মাদকপাচারকারীদের নাম মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক নেতা এবং বলিউডের ট্যালেন্ট কোম্পানি এবং প্রথমসারি অভিনেতাদের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ায় সকলেই এই মুহূর্তে রয়েছে এনসিবির কড়া নজরদারিতে। এই মাদক জট খুলতে বদ্ধ পরিকর এনসিবি।

বন্ধ করুন