বাড়ি > ঘরে বাইরে > মেলেনি বেতন, নেই PPE, করোনার মধ্যে ২ দিনের ধর্মঘটে ৬ লাখ আশা ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী
বেঙ্গালুরুতে আশাকর্মীদের বিক্ষোভ (ছবি সৌজন্য পিটিআই)
বেঙ্গালুরুতে আশাকর্মীদের বিক্ষোভ (ছবি সৌজন্য পিটিআই)

মেলেনি বেতন, নেই PPE, করোনার মধ্যে ২ দিনের ধর্মঘটে ৬ লাখ আশা ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী

  • এক আশাকর্মী বলেন, ‘আমাদের চড় মারা হয়েছে, তাড়া করা হয়েছে এবং গালাগালি দেওয়া হয়েছে।’

দীক্ষা ভরদ্বাজ

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে ঝুঁকি নিয়ে সামনের সারি থেকে লড়ছেন। তা সত্ত্বেও গত কয়েক মাস ধরে মেলেনি পুরো বেতনও। সেই বকেয়া টাকা মিটিয়ে দেওয়া এবং নিয়মিত বেতনের দাবিতে শুক্রবার থেকে দু'দিনের ধর্মঘটে নামলেন দেশের ছ'লাখ আশা এবং অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা।

আশাকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষা করছেন এবং মহামারী মোকাবিলার লড়াইয়ে তাঁদের নথিভুক্তও করেছে কেন্দ্র। পরিযায়ী শ্রমিকদের পর্যবেক্ষণের (স্ক্রিনিং) কাজেও যুক্ত ছিলেন তাঁরা। কিন্তু সেই করোনা যোদ্ধাদের ন্যূনতম পার্সোনাল প্রোটেক্টিভ ইক্যুপমেন্টও (পিপিই) দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ।

গত বুধবার থেকে বিহারের প্রায় ৯০,০০০ আশাকর্মী ধর্মঘট শুরু করেছেন। বেগুসরাইয়ে ৩০ জন আশাকর্মীর সঙ্গে ধরনায় বসেছেন সরিতা রায় (৩৭)। ২০০৭ সাল থেকে আশাকর্মী হিসেবে নিযুক্ত ওই মহিলা বলেন, ‘আমরা এমন জায়গায় যাই, যেখানে শয়ে শয়ে (করোনাভাইরাস) কেসে মিলছে। কিন্তু আমাদের পার্সোনাল প্রোটেক্টিভ ইক্যুপমেন্ট (পিপিই) কিটও দেওয়া হয় না।’

সরিতার দাবি, প্রতি মাসে তাঁদের মাত্র ৫,০০০ টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু গত চার মাস সেই টাকাও দেওয়া হয়নি। তাঁর দু'জন সহকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং আরও দু'জনের মৃত্যু হয়েছে। সরিতা বলেন, ‘আমরা সব টিকা দানের কাজ এবং জন্মের হার নথিভুক্ত করলেও (কোনও) সামগ্রী দেওয়া হয় না।’

শুধু বিহার নয়, একই ছবি মহারাষ্ট্রেও। জ্যোতি সাহারে বছর ৪৫-এর এক আশাকর্মী বলেন, ‘আমাদেরও পরিবার আছে। আমরা যদি (করোনা) ভাইরাসে আক্রান্ত হই, তাহলে ওদেরও ঝুঁকি হবে। আমাদের সুরক্ষা বর্ম প্রয়োজন।’ শুধু তাই নয়, বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষার সময় চূড়ান্ত বিরূপ পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছে অনেক আশাকর্মীকে। তেমনই একজন পঞ্জাবের জিত কৌর (৪৮)। ১২ বছর ধরে আশাকর্মী হিসেবে কাজ করছেন তিনি। করোনা আবহে প্রতিদিন প্রায় ৫০ টি বাড়িতে সমীক্ষা চালান। তিনি বলেন, ‘আমাদের চড় মারা হয়েছে, তাড়া করা হয়েছে এবং গালাগালি দেওয়া হয়েছে।’

‘হেলথ ইক্যুইটি অ্যান্ড সোসাইটি’-র অধিকর্তা মীরা শিবা বলেন, ‘অসংখ্যবার আর্জির পর কাজের জন্য আশাকর্মীদের (মূলত মহিলা) যদি উপযুক্ত বেতন দেওয়া হত, সুরক্ষার বন্দোবস্ত করা হত এবং মর্যাদা দেওয়া হত, তাহলেও তাঁদের ধর্মঘটে যেতে হত না।’

আশাকর্মীদের ধর্মঘট নিয়ে কেন্দ্রীয় নারী এবং শিশুকল্যাণ মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিল ‘হিন্দুস্তান টাইমস’। কিন্তু কোনও উত্তর মেলেনি। কেন্দ্রের সেই মন্ত্রকই অঙ্গনওয়াড়ি সংক্রান্ত কর্মসূচির দেখভাল করে।

বন্ধ করুন