বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > বিশ্বভারতীতে রবি ঠাকুরের চেয়ারে বসেননি, বসেছিলেন নেহরু, লোকসভায় ‘প্রমাণ’ পেশ শাহের
লোকসভায় অমিত শাহ (বাঁদিকে) সেই ছবি নিয়েই বিতর্ক হয়েছিল (ডানদিকে) (ছবি সৌজন্য এএনআই এবং টুইটার)
লোকসভায় অমিত শাহ (বাঁদিকে) সেই ছবি নিয়েই বিতর্ক হয়েছিল (ডানদিকে) (ছবি সৌজন্য এএনআই এবং টুইটার)

বিশ্বভারতীতে রবি ঠাকুরের চেয়ারে বসেননি, বসেছিলেন নেহরু, লোকসভায় ‘প্রমাণ’ পেশ শাহের

  • ‘দায়িত্ববান’ অধীর চৌধুরীকে তীব্র কটাক্ষ করেন শাহ।

বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে চেয়ার-বিতর্কের রেশ পৌঁছে গেল লোকসভায়। কয়েকটি ছবি তুলে ধরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দাবি করলেন, শান্তিনিকেতন সফরে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চেয়ারে বসেননি। তিনি যেখানে বসেছিলেন, তা জানালার একটি অংশ। তাতে আগে অনেকেই বসেছেন। বরং রবি ঠাকুরের চেয়ার এবং সোফায় বসেছিলেন জওহরলাল নেহরু এবং রাজীব গান্ধীরা।

মঙ্গলবার সংসদের নিম্নকক্ষে শাহ বলেন, ‘অধীররঞ্জন চৌধুরী নিজের ভাষণ দিচ্ছিলেন। তাতে বলেছেন, আমি এবং আমার দলের সভাপতি (জে পি নড্ডা) বাংলায় যাই। আমি গিয়ে বিশ্বভারতীতে গিয়েছিলাম। শান্তিনিকেতনে গিয়েছিলাম। আর কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চেয়ারে বলে গিয়েছিলাম। খুব দায়িত্ববান ব্যক্তি তো। ভাষণের মধ্যে তাঁকে আটকাতে চাইনি। কিন্তু যেটা সত্য নয়, সেটা লোকসভার রেকর্ডে থাকা উচিত নয়। আমার দায়িত্ব হল যে যেটা সত্যি নয়, সেটা আপনার মাধ্যমে লোকসভায় সামনে নিয়ে আসি এবং দেশের সামনে পেশ করি।’

গত বছর ২০ ডিসেম্বর বিশ্বভারতীতে এসেছিলেন শাহ। সেই সময় একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছিল। তাতে দাবি করা হয়েছিল, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সংরক্ষিত' চেয়ারে বসে ‘ভিজিটর্স বুকস’-এ লিখছেন শাহ। তা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়। একাংশের তরফে পালটা দাবি করা হয়, শাহ যে চেয়ারে বসেছিলেন, তা আদতে 'ক্যাটেগরি- ২' হিসেবে চিহ্নিত। অর্থাৎ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজে সেই চেয়ার ব্যবহার করতেন না। স্রেফ অহেতুক বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে।

সেই রেশ ধরেই মঙ্গলবার শাহ জানান, বিতর্কের মধ্যেই বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর থেকে জানতে চেয়েছিলেন তিনি কোন চেয়ারে বসেছিলেন। প্রত্যুত্তরে বিশ্বভারতীর উপাচার্য জানিয়েছেন যে শাহ একটি জানালায় বসেছিলেন। সেখানে সবাই বসতে পারেন। একইসঙ্গে কয়েকটি ছবির প্রিন্ট-আউট নিয়ে শাহ দাবি করেন, তাঁর আগে ওই চেয়ারে বসেছিলেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রতিভা পাটিল, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারা।

তারপরই অধীরকে তীব্র আক্রমণ করেন শাহ। সঙ্গে পালটা কংগ্রেসকেও খোঁচা দেন। বলেন, 'আমরা যখন লোকসভায় কথা বলি, তার আগে তথ্য যাচাই করা উচিত। খুঁটিয়ে দেখা উচিত। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে কিছু তুলে এখানে পেশ করলে সংসদের গরিমা নষ্ট হয়। তবে তাতে ওঁনার দোষ দেখছি না। ওঁনার দলের ইতিহাস, সেজন্যই ওঁনার ভুল হয়ে গিয়েছে। আমি তো বসিনি ওই চেয়ারে। কিন্তু আমার দুটি ছবি আছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে, শ্রী জওহরলাল নেহরু একটি চেয়ারে বসে আছেন। যেখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বসতেন। এই ছবিটা রেকর্ড আছে। আর দ্বিতীয় ছবিটি হল রাজীব গান্ধীর। উনি ঠাকুর সাহেবের (টেগোর সাব) সোফায় বসে আরাম করে চা খাচ্ছেন। ওই কারণে ওঁনার মনে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে।'

বন্ধ করুন