১৯৭৫ সালে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে সেনাবাহিনীর একদল বিক্ষুদ্ধ অফিসার।
১৯৭৫ সালে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে সেনাবাহিনীর একদল বিক্ষুদ্ধ অফিসার।

বনগাঁ থেকে গ্রেফতার বঙ্গবন্ধুর আরও এক ঘাতক, হস্তান্তর নিয়ে ধোঁয়াশা

এখনও তাঁর পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত কিছু জানায়নি বাংলাদেশ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আর এক ঘাতক রিসালদার মোসলেউদ্দিনকে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ থেকে গ্রেফতার করে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিয়েছে ভারত।

সম্প্রতি এই তথ্য জানিয়ে গোয়েন্দা দফতরের এক শীর্ষকর্তা বলেন, ‘ওঁকে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের হাতে সম্ভবত তুলে দেওয়া হয়েছে। তবে এখনও তাঁর পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত কিছু জানায়নি বাংলাদেশ।’

১৯৭৫ সালে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে সেনাবাহিনীর একদল বিক্ষুদ্ধ অফিসার। জানা গিয়েছে, সেই দলের প্রথম সারিতে ছিলেন মোসলেউদ্দিন। তিনি বঙ্গবন্ধুকে নিশানা করে গুলি চালান বলেও বিচারে প্রমাণিত হয়েছে। ২০০৯ সালে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেয় বাংলাদেশের আদালত। তার পরেই সে দেশের স্থলবন্দর ব্যবহার করে পালান মোসলেউদ্দিন।




আরও পড়ুন: দু'দশক কলকাতায় লুকিয়ে থেকে বাংলাদেশে ফিরতেই ফাঁসিতে ঝুলল বঙ্গবন্ধুর খুনি


উল্লেখ্য, মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই কলকাতার পার্ক সার্কাস অঞ্চলে গা-ঢাকা দিয়ে থাকা বঙ্গবন্ধুর আর এক ঘাতক মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামি আবদুল মাজেদকে ৭ এপ্রিল ঢাকায় গ্রেফতার করা হয়। অভিযোগ, কলকাতা পুলিশের অজ্ঞাতে গোটা পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা বিভাগ। গত ২১ বছর তিনি ভারতে আত্মগোপন করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। ১২ এপ্রিল রাত ১২টা ১ মিনিটে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে মাজেদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কয়েক বছর যাবৎ বনগাঁয়ের কাছে এক গ্রামে বসবাস করা শুরু করেছিলেন মোসলেউদ্দিন। তিনি সেখানে ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক ওষুধের ব্যবসা করতেন বলে জানা গিয়েছে।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরও চার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হত্যাকারীর সন্ধান চলেছে। এঁরা হলেন খন্দকার আবদুর রশীদ, শরিফুল হক ডালিম, নূর চৌধুরী ও এ এম রাশেদ চৌধুরী। তাঁরা সকলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রাক্তন আধিকারিক।

এঁরা ছাড়া, ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি রাতে ঢাকায় সৈয়দ ফারুক রহমান, বজলুল হুদা, এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান ও মুহিউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ইতিমধ্যে ২০০২ সালে পলাতক অবস্থায় জিম্বাবোয়েতে মারা যান বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের আসামি আজিজ পাশা।

বন্ধ করুন