বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > মিলল না জামিন, ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজত অর্ণবের
আলিবাগ আদালতের বাইরে অর্ণব গোস্বামী (ছবি সৌজন্য হিন্দুস্তান টাইমস)
আলিবাগ আদালতের বাইরে অর্ণব গোস্বামী (ছবি সৌজন্য হিন্দুস্তান টাইমস)

মিলল না জামিন, ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজত অর্ণবের

  • বুধবারের রাতটা পুলিশি হেফাজতে কাটাতে না হওয়ায় কিছুটা স্বস্তিতে থাকবেন অর্ণব।

দিনটা অত্যন্ত লম্বা কাটল অর্ণব গোস্বামীর। খারিজ হয়ে গেল পুলিশের বিরুদ্ধে নিগ্রহের অভিযোগ। বছরদুয়েক আগে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার মামলায় মিলল না জামিন। শুধু একটাই স্বস্তি মিলল যে তাঁকে পুলিশি হেফাজতে পাঠানো হল না। ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দিল আলিবাগের আদালত। 

তার আগে অবশ্য দিনভর চূড়ান্ত নাটকের সাক্ষী থাকল মহারাষ্ট্র। বুধবার সকালেই রিপাবলিক টিভির এডিটর-ইন-চিফের বাড়িতে যায় পুলিশের একটি দল। আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। 

সেই মামলায় ২০১৮ সালের মে'তে আত্মহত্যা করেছিলেন ৫৩ বছরের ইন্টিরিয়র ডিজাইনার অন্বয় নায়েক এবং তাঁর মা কুমুদ নায়েক। আলিবাগে কবীর গ্রামের বাড়ি থেকে তাঁদের দেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। সেই ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন অন্বয়ের স্ত্রী অক্ষতা (৪৮)। তারইমধ্যে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছিল পুলিশ। তাতে অভিযোগ করা হয়েছিল, অর্ণব গোস্বামী, ফিরোজ শেখ এবং নীতেশ সারদার থেকে ৫.৪ কোটি টাকা পেতেন অন্বয়। কিন্তু তা দেওয়া হয়নি। সেজন্য আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন। পরে অর্ণব, ফিরোজ ও নীতিশের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মামলা রুজু করেছিল পুলিশ। তবে গত বছর সেই মামলা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছিল, যে তিনজনের নামে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে জোরালো কোনও প্রমাণ মেলেনি। পরে আলিবাগ পুলিশের বিরুদ্ধে তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ তুলে মহারাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিল দেশমুখের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অন্বয়ের মেয়ে আদনিয়া। তারপর চলতি বছরের মে'তে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অন্বয় ও তাঁর মা'র মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে তদন্ত শুরু হবে।

গ্রেফতারির পর দুপুর অর্ণবকে আদালতে তোলা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ তাঁকে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করেছে। সেজন্য চোটও লেগেছে। তার ভিত্তিতে তাঁকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বিকেল সাড়ে পাঁচটা আবার আদালতে তোলা হয়। পুলিশের তরফে অর্ণবকে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর আর্জি জানানো হয়েছিল। তবে ম্যারাথন শুনানি শেষে রাত ১১ টার পর আদালত পুলিশের সেই আর্জি গৃহীত হয়নি। আগামী ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। একইসঙ্গে অপর দুই অভিযুক্তকেও গ্রেফতার করে আদালতে তোলা হয়। তাঁদেরও ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

বুধবারের রাতটা পুলিশি হেফাজতে কাটাতে না হওয়ায় কিছুটা স্বস্তিতে থাকবেন অর্ণব। যা তাঁদের ‘বড় জয়’ বলে দাবি করেছেন অর্ণবের আইনজীবী গৌরব পারকের। তারইমধ্যে সোমবার অর্ণবের বিরুদ্ধে আরও একটি এফআইআর দায়ের হয়েছে। তাতে অভিযোগ করা হয়েছে, পুলিশের কাজে বাধা দিয়েছেন অর্ণব। সেই এফআইআরে অর্ণবের স্ত্রী'র নামও আছে।

ইতিমধ্যে তিনি-সহ বাকিদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর খারিজের আর্জি জানিয়ে বম্বে হাইকোর্টে আবেদন দাখিল করেছেন অর্ণব। তা সম্ভবত আগামিকাল শোনা হবে। সূত্রের খবর, জামিনের আর্জিও জানানো হয়েছে। সেটার শুনানি আগামিকাল হতে পারে।

বন্ধ করুন