বাড়ি > ঘরে বাইরে > ১৮ মাসে আট সন্তান প্রসব, মাতৃত্বকালীন ভাতা পেলেন পঁয়ষট্টির বৃদ্ধা
মজফ্ফরপুরে জাতীয় মাতৃত্বকালীন সুবিধা প্রকল্পে কেন্দ্রীয় সরকারি ভাতা প্রাপকদের অন্যতম লীলা দেবী। 
মজফ্ফরপুরে জাতীয় মাতৃত্বকালীন সুবিধা প্রকল্পে কেন্দ্রীয় সরকারি ভাতা প্রাপকদের অন্যতম লীলা দেবী। 

১৮ মাসে আট সন্তান প্রসব, মাতৃত্বকালীন ভাতা পেলেন পঁয়ষট্টির বৃদ্ধা

  • ৬৬ বছর বয়েসি শান্তি দেবীকে টাকা দেওয়া হয়েছে ১০ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই শিশুকে জন্ম দেওয়ার জন্য। যদিও তারা যমজ নয়।

৬৫ বছর বয়সে জাতীয় মাতৃত্বকালীন সুবিধা প্রকল্পে (NMBS) কেন্দ্রীয় সরকারি ভাতা পেলেন বিহারে মজফ্ফরপুরের লীলা দেবী। নথি বলছে, গত ১৮ মাসে তিনি আট সন্তানের জন্ম দিয়েছেন।

কেন্দ্রীয় সরকারের জাতীয় স্বাস্থ্য অভিযানের (NHM) অন্তর্গত ওই প্রকল্পের ১,৪০০ টাকা পেয়ে হতবাক বৃদ্ধা জানিয়েছেন, তাঁর ছোট ছেলে জন্মান ২১ বছর আগে। কিন্তু এক সপ্তাহ আগে সন্তানের জন্ম দেওয়ার কারণে তাঁকে টাকা দেওয়া হয়। গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্রে (সিএসপি) নিজের অ্যাকাউন্টে ওই অর্থ জমা পড়েছে দেখে দফতরের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করেন লীলাদেবী। বৃদ্ধার দাবি, আধিকারিক তাঁকে বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা করতে নিষেধ করে জানান, তাঁর নামে বরাদ্দ করা অর্থ অ্যাকাউন্ট থেকে তোলার পরে সরকারি তহবিলে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হবে। 

মাতৃত্বকালীন অনুদান হিসেবে NMBS প্রকল্পে সন্তানের জন্মদাত্রীকে ১,৪০০ টাকা দেওয়া হয় এবং প্রসবে সাহায্যকারী আশাকর্মী পান ৬০০ টাকা। লীলাদেবীর অযাচিত প্রাপ্তিতে হতভম্ব তাঁর কৃষিজীবী স্বামীও। 

তবে জানা গিয়েছে, একা লীলাদেবীই নন। মজফ্ফরপুরে কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্পের টাকা প্রবীণাদের অ্যাকাউন্টে ফেলে পরে তা তুলে নেওয়ার প্রতারণা চক্র রমরমিয়ে চলেছে। এঁদেরই একজন ৬৬ বছর বয়েসি শান্তি দেবীকে টাকা দেওয়া হয়েছে ১০ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই শিশুকে জন্ম দেওয়ার জন্য। যদিও নথি অনুযায়ী, তাঁর সন্তানরা যমজ নন। ৫৯ বছরের সাবিনা খাতুনের অ্যাকাউন্টেও মাতৃত্বকালীন অনুদানের টাকা জমা পড়ার পরে তুলে নেওয়া হয়েছে একই ভাবে। 

একের পর এক এমন অভিযোগ পাওয়ার পরে নড়েচড়ে বসেছে জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার এই বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন জেলাশাসক চন্দ্রশেখর সিং। 

এই বিষয়ে প্রশ্ন করলে অভিযুক্ত সিএসপি দফতরের সঙ্গে যুক্ত স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া মুসাহারি শাখার ম্যানেজার চিরঞ্জিৎ কুমার বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘আধার পরিচয়পত্র ও আঙুলের ছাপের মাধ্যমে কাজ করা লেনদেন প্রক্রিয়ায় কী ভাবে এই সব করলেন ওই সিএসপি আধিকারিক, বলতে পারব না। এই বিষয়ে তিনিই সব কিছু বলতে পারবেন।’

এ দিকে অভিযোগ ওঠার পর থেকেই গা-ঢাকা দিয়েছেন সুশীল কুমার নামে ওই সিএসপি আধিকারিক। অনেক চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যায়নি জেলাশাসকের সঙ্গেও। 

অন্য দিকে, স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ইন্দু কুমারী জানিয়েছেন, ‘মেনোপজের পরে কোনও মহিলার পক্ষে সন্তানের জন্ম দেওয়া সম্ভব নয়।’

তবে শ্রীকৃষ্ণ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সুপার সুনীল কুমার শাহি জানিয়েছেন, পঞ্চাশোর্ধ্ব নারীর মা হওয়ার ঘটনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে এমন ঘটনা খুবই বিরল।

বন্ধ করুন