বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > আত্মঘাতী জঙ্গিরা ছাড়া 'ক্ষমতায় আসা যেত না', ‘পুরস্কার’ দিল 'কৃতজ্ঞ' তালিবান
আত্মঘাতী জঙ্গিরা ছাড়া 'ক্ষমতায় আসা যেত না', ‘পুরস্কার’ দিল 'কৃতজ্ঞ' তালিবান (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য রয়টার্স)
আত্মঘাতী জঙ্গিরা ছাড়া 'ক্ষমতায় আসা যেত না', ‘পুরস্কার’ দিল 'কৃতজ্ঞ' তালিবান (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য রয়টার্স)

আত্মঘাতী জঙ্গিরা ছাড়া 'ক্ষমতায় আসা যেত না', ‘পুরস্কার’ দিল 'কৃতজ্ঞ' তালিবান

  • তালিবান সরকারের অন্তর্বর্তীকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এক অনুষ্ঠানে আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীদের প্রশংসা করেন৷

তালিবান সরকারের অন্তর্বর্তীকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এক অনুষ্ঠানে আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীদের প্রশংসা করেন৷ অনুষ্ঠানে হামলাকারীদের পরিবারের সদস্যদের আর্থিক অনুদান এবং জমিও দেওয়া হয়৷ হত্যাকারীদের এভাবে মহিমান্বিত করায় নিহতদের পরিবারের সদস্যরা ক্ষুব্ধ, হতাশ৷

গত ২০ অক্টোবর কাবুলের এক হোটেলে গত কয়েক বছরে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানো ব্যক্তিদের পরিবারকে ‘পুরস্কৃত' করেন তালিবান সরকারের অন্তর্বর্তীকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজুদ্দিন হাক্কানি৷ সেখানে বোমা হামলাকারীদের পরিবারের সদস্যদের হাতে আর্থিক অনুদান এবং জমির দলিল তুলে দেওয়া হয়৷

মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ক্কারি সাঈদ খোস্তি নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে সেই অনুষ্ঠানের সচিত্র সংবাদ প্রকাশ করেন৷ টুইটবার্তায় তিনি বলেন, ‘তালিবান সরকার আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীদের কাছে কৃতজ্ঞ। কারণ তাদের অবদান ছাড়া ক্ষমতায় আসা সম্ভব ছিল না৷’

আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীদের পরিবারকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পুরস্কৃত করার খবরে গত কয়েক বছরে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত ও আহত শত শত মানুষের স্বজনরা ক্ষুব্ধ, মর্মাহত৷ ২০১৮ সালে এক তালিবান আত্মঘাতীর বোমা হামলায় আফগান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অন্তত ৯৫ জন মারা যান, আহত হন কমপক্ষে ১৮৫ জন৷ সেদিনের হামলায় বাবাকে হারিয়েছিলেন শরিফা৷ সরকারের দায়িত্বশীল এক মন্ত্রী হত্যাকারীদের মহিমান্বিত করে বক্তব্য রেখেছেন, তাদের পরিবারকে পুরস্কৃত করেছেন- এই খবরে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে শরিফা বলেন, ‘যখন জানলাম তারা (তালিবান) আমাদের সহায়তা না করে যারা নিজেদের এবং অন্যদের হত্যা করেছে, তাদের প্রশংসা করেছে, আমার হৃদয়টা তখন যেন ভেঙে গিয়েছিল৷'

এক হামলায় বাবা হারানোয় শরিফা এবং তার পরিবারের অন্য সদস্যরা এখনেও বিপর্যস্ত৷ আর্থিক দৈন্য তো আছেই, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আতঙ্কও অনেক বেড়েছে৷ ৫৬ বছরের আজিজ ২০১৮ সালের অপর একটি হামলায় দুই সন্তানকে হারান৷ কাবুলে সেদিন সবাই নওরোজ (আফগানিস্তানের নববর্ষ) উদযাপনে ব্যস্ত৷ ২৪ বছরের মেহদির কয়েকদিন পরই বিয়ে৷ ছোটো ছেলে রুহুল্লাহর বয়স তখন সবে নয় বছর৷ মোট ২৬ জন মারা গিয়েছিল সেই হামলায়৷ জীবনটাকে শোকের চাদরে ঢেকে দেওয়া সেই দিনটির কথা কোনওদিন ভুলতে পারবেন না আজিজ৷ তার স্ত্রীও পারবেন না সন্তান হারানোর বেদনা ভুলতে৷ তালিবান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেই ধরনের হত্যাকারীদের মহিমান্বিত করেছেন জেনে আজিজের মনে হচ্ছে এমন অবস্থায় বেঁচে থাকাই অর্থহীন৷ দুই সন্তান হারানো বাবা ডয়েচে ভেলেকে বললেন, ‘আমার এ বিষয়ে বিশেষ কিছু বলার নেই৷ তারা অকারণে আমার সন্তানদের হত্যা করেছে৷ আমার জীবন এমনিতেই তো অর্থহীন৷ এখন ওদের (তালিবান) উচিত আমাকেও মেরে ফেলা৷'

বোমাহামলাকারীর বাড়ি পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ!

অন্তর্বর্তীকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজুদ্দিন হাক্কানি আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তাদের পরিবারের সদস্যদের পুরস্কৃত করেছেন জেনে তালিবান সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন অনেকেই৷ প্রাক্তন অনুসন্ধানী সাংবাদিক সায়েদ তারিক মাজিদি টুইটারে কটাক্ষ করে লিখেছেন, ‘আত্মঘাতী বোমাহামলাকারীদের নতুন শহর দেখতে শিগগির চলে আসুন কাবুলে৷'

বন্ধ করুন