বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > অপচয় করলে কম টিকা পাবে রাজ্যগুলি, সংশোধিত নীতিতে হুঁশিয়ারি কেন্দ্রের
মুম্বইয়ে চলছে টিকাকরণের কাজ। (ছবি সৌজন্য পিটিআই)
মুম্বইয়ে চলছে টিকাকরণের কাজ। (ছবি সৌজন্য পিটিআই)

অপচয় করলে কম টিকা পাবে রাজ্যগুলি, সংশোধিত নীতিতে হুঁশিয়ারি কেন্দ্রের

  • সংশোধিত টিকানীতিতে প্রতিষেধকের অপচয়ে রাশ টানতে ময়দানে নামল কেন্দ্র।

সংশোধিত টিকানীতিতে প্রতিষেধকের অপচয়ে রাশ টানতে ময়দানে নামল কেন্দ্র। মঙ্গলবার কেন্দ্রের তরফে কড়া ভাষায় জানানো হল, করোনাভাইরাস টিকার অপচয় করলে প্রতিষেধক প্রদানের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। অর্থাৎ মিলবে কম টিকা। তাছাড়া জনসংখ্যা, সংক্রমণ ও টিকাকরণের গতির ভিত্তিতে রাজ্যগুলিকে টিকা প্রদান করা হবে।

সুপ্রিম কোর্টে প্রশ্নবাণে জর্জরিত হওয়ার পর সোমবার দেশের টিকানীতিতে সংশোধনের ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। যদিও তিনি দাবি করেছিলেন, রাজ্যগুলির জন্যই টিকানীতির বিকেন্দ্রীকরণ হয়েছিল। তাতেই যত বিপত্তি বেঁধেছে। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের বিবৃতিতেও নিজেদের ঘাড় থেকে দায় ঝেড়ে ফেলে রাজ্যের দিকে আঙুল তোলার চেষ্টায় কোনও ফাঁক নেই। 

কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, দেশের টিকা প্রস্তুতকারীদের থেকে ৭৫ শতাংশ প্রতিষেধক কিনবে কেন্দ্র। যা বিনামূল্যে প্রদান করবে রাজ্য সরকার বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি। অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কোন রাজ্যকে কত টিকা প্রদান করা হবে, তা আগেভাগেই জানিয়ে দেওয়া হবে। রাজ্যগুলিও জেলা প্রশাসন এবং টিকাকেন্দ্রে আগেই সেই তথ্য জানিয়ে দেবে। জেলাস্তর এবং কোন টিকাকেন্দ্রের ভাঁড়ারে কত প্রতিষেধক আছে, তা জনসমক্ষে জানাতে হবে। কো-উইন পোর্টালের পাশাপাশি টিকাকেন্দ্র নিয়েও নাম নথিভুক্ত করা যাবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র। যা সকলের ক্ষেত্রেই প্রয়োজ্য হবে।

পাশাপাশি সংশোধিত টিকানীতিতে জানানো হয়েছে, প্রতিষেধকের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নয়া টিকার জন্য উৎসাহ জোগাতে প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলিকে সরাসরি বেসরকারি হাসপাতালের কাছে টিকা বিক্রির ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। মোট মাসিক উৎপাদনের ২৫ শতাংশ টিকা বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে বিক্রি করতে পারবে প্রতিষেধক প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলি।

সেই বণ্টন-নীতি অবশ্য আগে থেকেই ছিল। কিন্তু দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ছোটো বেসরকারি হাসপাতালগুলির অভিযোগ করা হচ্ছিল, বিভিন্ন বড় গোষ্ঠীর হাসপাতালগুলিই বেশিরভাগ টিকা কিনে নিচ্ছে। তার ফলে কোনও ছোটো হাসপাতাল ২০,০০০ ডোজ পাচ্ছে, কারও ভাগ্যে জুটছে ৩০,০০০ ডোজ। সেই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দ্বিতীয় সারির শহর এবং শহরের বাইরের এলাকার হাসপাতালগুলিকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছিল দাবি করা হয়। সেই পরিস্থিতিতে কেন্দ্র জানিয়েছে, আঞ্চলিক চাহিদার ভিত্তিতে বড় ও ছোটো বেসরকারি হাসপাতালের মধ্যে সাম্য বজায় রাখতে সামগ্রিকভাবে টিকা বণ্টনের বিষয়টি দেখভাল করবে রাজ্য সরকার বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি।

বন্ধ করুন