হবে না বিপর্যয়, আশ্বাস কেন্দ্রের (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য হিন্দুস্তান টাইমস)
হবে না বিপর্যয়, আশ্বাস কেন্দ্রের (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য হিন্দুস্তান টাইমস)

Coronavirus Update: হবে না বিপর্যয়, বন্ধ করতে হবে না পাখা-কম্পিউটার-AC-TV, জানাল কেন্দ্র

  • প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানের পরই শক্তি মন্ত্রকের তরফে উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক হয়।

বিদ্যুতের গ্রিড ধকল সইতে পারবে তো? প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঘোষণার পর এমনই আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে কেন্দ্রীয় শক্তি মন্ত্রকের আশ্বাস, আলো নেভানোর ফলে ভারসাম্য বিঘ্নিত হবে না।

করোনাভাইরাস সংক্রান্ত লাইভ আপডেট

শনিবার শক্তি মন্ত্রকের তরফে একটি বিবৃতি জারি করে বলা হয়, 'গ্রিডের ভারসাম্য বিঘ্নিত হওয়া ও ভোল্টেজের ওঠানামার ফলে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এই ধারণাগুলি ভুল। ভারতের বৈদ্যুতিক গ্রিড (ব্যবস্থা) যথেষ্ট শক্তিশালী ও স্থিতিশীল। চাহিদার ওঠানামা সামলানোর জন্য পর্যাপ্ত সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।'

আরও পড়ুন : করোনা মোকাবিলায় রেল-কে কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন মোদীই, জানাল রেল মন্ত্রক

একইসঙ্গে মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শুধুমাত্র আলো নেভানোর কথা বলেছেন। রাস্তার আলো বা বাড়িতে কম্পিউটার, টিভি, পাখা, ফ্রিজ ও এসির মতো বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধের আহ্বান জানাননি।

আরও পড়ুন :করোনা মোকাবিলায় নিষিদ্ধ হল ডায়াগনস্টিক কিট রফতানি

লকডাউনের জেরে বাণিজ্যিক কাজকর্ম বন্ধ থাকায় বিদ্যুতের চাহিদা এমনিতেই ৩০ শতাংশ কমেছে। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে আলো তো বটেই, আমজনতা সমস্ত বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ করে দেওয়ার শঙ্কাও তৈরি হয়েছিল। তার ফলে একধাক্কায় চাহিদা পড়ে য়াবে। আর রাত ন'টার ন'মিনিট পর যখন একসঙ্গে সব আলো জ্বালানো হবে, তখন একধাক্কায় চাহিদা বেড়ে যাবে। তার জেরে গ্রিডে বিপর্যয় নেমে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

আরও পড়ুন : আয়ুর্বেদিক ওষুধেই সারবে Covid-19, গবেষণায় সাফল্যের দাবি পতঞ্জলির

প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানের পরই শুক্রবার শক্তি মন্ত্রকের তরফে উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক হয়। গ্রিডের চাহিদার ওঠানামা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় সেখানে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উচ্চপদস্থ কর্তারা। তারপরই রাজ্যগুলিকে অ্যাডাইজারি জারি করে চাহিদার ওঠানামা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কীভাবে গ্রিডের চাহিদার ভারসাম্য বজায় রাখা হবে, তা নিয়ে রাজ্য ও আঞ্চলিক লোড ডেসপ্যাচ সেন্টারগুলির সঙ্গে পৃথকভাবে যোগাযোগ বজায় রাখবে জাতীয় লোড ডেসপ্যাচ সেন্টার।

আরও পড়ুন : বাংলায় টুইট শাহরুখের,'মমতা দিদি'র প্রশংসার জবাবে বললেন 'এটা আমার কর্তব্য'

ইতিমধ্যে উত্তরপ্রদেশে লোড ডেসপ্যাচারদের তরফে রাজ্যের বিদ্যুৎ পর্ষদকে জানানো হয়েছে, একধাক্কায় তিন গিগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা কমতে পারে। সেজন্য রাত ন'টার এক ঘণ্টা আগে থেকে ধাপে ধাপে কারেন্ট অফ করার পরামর্শ দিয়েছে তারা।

আরও পড়ুন : 'আইনভঙ্গকারী' তবলিগি জামাতের সদস্যদের গুলি করে মারার সওয়াল রাজ ঠাকরের

প্রসঙ্গত, গ্রিড ব্যবস্থার ক্ষেত্রে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হল, অতিরিক্ত সময় বা ওভার টাইমে (এক্ষেত্রে ১৫ মিনিট) যে চাপ পড়ে, তার ভারসাম্য বজায় রাখা। আচমকা চাহিদা কমে গেলে গ্রিড ফ্রিকোয়েন্সি পালটে যাবে। তার জেরে পুরো অন্ধকার নেমে আসবে। শক্তি মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ২ এপ্রিল দেশে বিদ্যুতের সর্বাধিক চাহিদা ছিল ১৬৮.৩ গিগাওয়াট। চলতি বছর তা ২৫ শতাংশ কমে হয়েছে ১২৫.৮ গিগাওয়াট।

আরও পড়ুন :Coronavirus Update: করোনা আক্রান্ত ৪২ শতাংশের বয়স ২১-৪০, চিকিৎসাধীনদের ৫৮ জনের অবস্থা জটিল

কেন্দ্রীয় সংস্থা পোসোকোর তরফে জানানো হয়েছে, প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হয়েছে সারাদেশে চাহিদা ১২-১৩ গিগাওয়াট কমে যাবে। তা নিয়ে অ্যাডভাইজারিতে বলা হয়েছে, 'সাধারণ পরিষেবার মতো নয়, বরং দু-চার মিনিটের মধ্যেই ১২-১৩ গিগাওয়াট চাহিদা হ্রাস পাবে। ন'মিনিট পরে তা আবার দু-চার মিনিটের মধ্যে বাড়বে। এই আচমকা চাহিদা ওঠানামার প্রক্রিয়াটি জলবিদ্যুৎ ও গ্যাস-ভিত্তিক বিদ্যুতের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।' এই পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের চাহিদা যে সময় সর্বাধিক হয় অর্থাৎ সন্ধ্যা ছ'টা থেকে রাত ১০টা, সেই সময় জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে ও রাত ন'টার সময়ের তা সঞ্চয় করা হবে। সেই সময় (রাত ন'টা) তাপবিদ্যুৎ ও গ্যাস-ভিত্তিক বিদ্যুতের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বন্ধ করুন