গ্রিডের ভারসাম্য বজায় রেখে রাত ৯ টার চ্যালেঞ্জ উতরে যাওয়াই লক্ষ্য কেন্দ্রের (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য মিন্ট)
গ্রিডের ভারসাম্য বজায় রেখে রাত ৯ টার চ্যালেঞ্জ উতরে যাওয়াই লক্ষ্য কেন্দ্রের (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য মিন্ট)

Coronavirus Update: গ্রিডের ভারসাম্য বজায় রেখে রাত ৯ টার চ্যালেঞ্জ উতরে যাওয়াই লক্ষ্য কেন্দ্রের

  • মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, আশঙ্কা নেই। তবুও ঝুঁকি নিতে নারাজ কেন্দ্র।

রাতে বিদ্যুৎ বিপর্যয় হবে না তো? এত কম সময়ের ব্যবধানে চাহিদার ওঠানামার চাপ নিতে পারবে তো বিদ্যুতের গ্রিড? প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আহ্বানে রাত ন'টায় বাড়ির আলো নেভানোর আগে এই প্রশ্নটাই বিভিন্ন মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে।

আরও পড়ুন : করোনা মোকাবিলায় প্রদীপ জ্বালান, #9pm9minute টুইটে মনে করালেন নমো

যদিও কেন্দ্রীয় শক্তি মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, সেরকম কোনও আশঙ্কা নেই। কারণ প্রধানমন্ত্রী শুধুমাত্র আলো নেভানোর কথা বলেছেন, অন্য়ান্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধের কথা বলেননি। ফলে চাহিদার খুব একটা ওঠানামা হবে না। মন্ত্রকের তরফে বলা হয়েছে, 'ভারতের বৈদ্যুতিক গ্রিড (ব্যবস্থা) যথেষ্ট শক্তিশালী ও স্থিতিশীল। চাহিদার ওঠানামা সামলানোর জন্য পর্যাপ্ত সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।'

আরও পড়ুন : Coronavirus Update: আজ হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারের পর জ্বালাবেন না প্রদীপ-মোমবাতি

এক সরকারি আধিকারিক জানান, বর্তমানে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ১২০ গিগাওয়েট। তার মধ্যে মাত্র ১২ গিগাওয়েট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয় গৃহস্থের আলোর জন্য। ফলে দেশের সব বাড়িতেই যদি রাত ন'টার সময় আলো নেভানো হয়, তাহলে মাত্র ১৫ গিগাওয়াট বিদ্যুতের ওঠানামা সামলাতে হবে।

আরও পড়ুন : মোদীর প্রদীপ জ্বালানোর বার্তা নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়ে ট্রোল হলেন তাপসী

তবুও অবশ্য কোনও ঝুঁকি নিচ্ছে না মন্ত্রক। মোদীর ঘোষণার দিনই উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়েছিল। সেইমতো রাজ্যগুলির জন্য জারি করা হয়েছে বিস্তারিত অ্যাডভাইজারি। জানানো হয়েছে, কীভাবে গ্রিডের চাহিদার ভারসাম্য বজায় রাখা হবে, তা নিয়ে রাজ্য ও আঞ্চলিক লোড ডেসপ্যাচ সেন্টারগুলির সঙ্গে পৃথকভাবে যোগাযোগ বজায় রাখবে জাতীয় লোড ডেসপ্যাচ সেন্টার। অ্যাডভাইজারিতে বলা হয়েছে, 'সাধারণ পরিষেবার মতো নয়, বরং দু-চার মিনিটের মধ্যেই ১২-১৩ গিগাওয়াট চাহিদা হ্রাস পাবে। ন'মিনিট পরে তা আবার দু-চার মিনিটের মধ্যে বাড়বে। এই আচমকা চাহিদা ওঠানামার প্রক্রিয়াটি জলবিদ্যুৎ ও গ্যাস-ভিত্তিক বিদ্যুতের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।'

আরও পড়ুন : Covid-19: কথা বলা, নিশ্বাস নেওয়া থেকেও ছড়াতে পারে করোনাভাইরাস, দাবি গবেষকদের

এই পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের চাহিদা যে সময় সর্বাধিক হয় অর্থাৎ সন্ধ্যা ছ'টা থেকে রাত ১০টা, সেই সময় জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে ও রাত ন'টার সময়ের জন্য তা সঞ্চয় করা হবে। সেই সময় (রাত ন'টার) তাপবিদ্যুৎ ও গ্যাস-ভিত্তিক বিদ্যুত উৎপাদনও তৈরি রাখতে বলা হয়েছে। যাতে প্রয়োজনে তা সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছাতে পারে।

আরও পড়ুন : Coronavirus Update: করোনা চিকিৎসার ওষুধের রফতানিতে বিধিনিষেধ তোলার জন্য মোদীকে আর্জি ট্রাম্পের

রাজ্যগুলিও নিজেদের মতো ব্যবস্থা নিচ্ছে। ইতিমধ্যে উত্তরপ্রদেশে লোড ডেসপ্যাচারদের তরফে রাজ্যের বিদ্যুৎ পর্ষদকে জানানো হয়েছে, একধাক্কায় তিন গিগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা কমতে পারে। সেজন্য রাত ন'টার এক ঘণ্টা আগে থেকে ধাপে ধাপে কারেন্ট অফ করার পরামর্শ দিয়েছে তারা। তবুও আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে বলে মত একাংশের। মহারাষ্ট্রের শক্তি মন্ত্রী নীতিন রাউতের গলাতেও সেই সুর মিলল। রবিবার রাত ন'টা ন'মিনিটের পর যাতে পুরো অন্ধকার নেমে আসে, সেজন্য সব অঞ্চলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

বন্ধ করুন