করোনা মহামারীর জেরে দেশে ২১ দিনের লকডাউনে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা।কলকারখানা বন্ধ, থাকা-খাওয়ার সংস্থান নিয়ে মনে প্রশ্ন, সঙ্গে করোনার ভয়, তাই অনিশ্চিতের পথে বেরিয়ে পড়ছেন তারা। এমনই এক শ্রমিক, দুশো কিলোমিটার হাঁটার পর মারা গেলেন আগ্রায়। তখনও তাঁর বাড়ি আরও একশো কিলোমিটার দুরে ছিল।

দিল্লি থেকে মধ্যপ্রদেশের মোরেনার উদ্দেশে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু আগ্রার কাছে দিল্লি-আগ্রা হাইওয়েতে ২০০ কিলোমিটার যাওয়ার পর মৃত্যু হয় রনবীর সিং নামের এই শ্রমিকের। ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে মৃতদেহ। রনবীরের সঙ্গে আরো দুইজন যাচ্ছিলেন। তাঁরা পুলিশকে জানান যে বুকে ব্যথার কথা বলেছিলেন রনবীর। তারপরেই একটু যাওয়ার পর মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি।

আগ্রার জেলা পুলিশ প্রধান বাবলু কুমার জানান দিল্লির তুঘলাকাবাদে একটি রেস্তোরায় কাজ করতেন রনবীর। লকডাউনের জেরে সেটি বন্ধ হয়ে যায়। বাকি শ্রমিকদের মতো কোনও উপায় না দেখে ট্রেন, বাসের অনুপস্থিতিতে হেঁটেই বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নেন রনবীর।

এদিন আগ্রার কাছে রনবীর অসুস্থ বোধ করায় তিনজনে সেখানে থামেন।স্থানীয় দোকানদার এসে তাঁকে চা-বিস্কুট দেন।কিছুক্ষণের মধ্যে পুলিশও এসে যায়।কিন্তু রনবীরকে বাঁচানো যায়নি। মোবাইলের কনট্যাক্টস থেকে ফোন নম্বর জোগাড় করে তাঁর বাড়ির লোকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। মধ্যপ্রদেশের মোরেনার আমবাহ অঞ্চলের বাসিন্দা ছিলেন এই মৃত শ্রমিক। বাকিটা পথ যাওয়ার আগেই শরীর জবাব দিয়ে দিল তাঁর।

এদিন পরিযায়ী শ্রমিকদের সাহাযার্থে বেশ কয়েকটি বাস চালিয়েছে উত্তরপ্রদেশ সরকার তাদের দিল্লির বর্ডার থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দেওয়ার জন্য। কিন্তু তারপরেও হাজার হাজার মানুষ দিল্লিতে আটকে আছেন, অসহায় অবস্থায়।



বন্ধ করুন