ব্রাজিলের একটি গবেষণাগারে কাজ করছেন বিশেষজ্ঞরা (ছবি সৌজন্য এএফপি)
ব্রাজিলের একটি গবেষণাগারে কাজ করছেন বিশেষজ্ঞরা (ছবি সৌজন্য এএফপি)

Covid-19 Updates: ভাসমান ধূলিকণার সঙ্গে মিশতে পারে করোনাভাইরাস

  • ভারতের বাতাসে ভাসমান ধূলিকণার মাত্রা অত্যন্ত বেশি।

বাতাসে ভাসমান ধূলিকণার সঙ্গে মিশে যেতে পারে করোনাভাইরাস। ইতালিতে একটি গবেষণায় এমনই তথ্য উঠে এসেছে। আর সেটাই যদি হয়, তাহলে তা ভারতের জন্য একেবারেই স্বস্তিদায়ক হবে না। তবে গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাসমান ধূলিকণায় ভাইরাসটি কার্যকর ও ক্ষতিকর হবে কিনা, তা পরীক্ষা সাপেক্ষ।

আরও পড়ুন : COVID-19 Updates: ডায়াবিটিস আছে? করোনার প্রকোপের মধ্যে কী করবেন, জেনে নিন চিকিৎসকের পরামর্শ

প্রাথমিকভাবে গবেষণায় যে তথ্য পাওয়া গিয়েছে, তাতে আবহাওয়া স্থিতিশীল ও ভাসমান কণার ঘনত্ব বেশি থাকলে ভাসমান কণার সঙ্গে ক্লাস্টার তৈরি করে করোনাভাইরাস। তবে বিষয়টি নিয়ে মানুষকে আতঙ্কিত হতে নিষেধ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ ভাসমান কণায় সেটি কার্যকারিতা নিয়ে এখনও কোনও মূল্যায়ন করা হয়নি।

আরও পড়ুন : ভারতে করোনাভাইরাসের ৩ গোত্রের এখনও সমন্বয় ঘটেনি, দাবি ICMR-এর

স্বাস্থ্য সংক্রান্ত গবেষণাপত্র নিয়ে Medrxiv নামে একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে জানানো হয়েছে, ভাসমান কণার ঘনত্ব কত হলে মহামারীর সম্ভাব্য প্রভাব বাড়তে পারে, তা পরীক্ষা করে দেখতে হবে। ইতালির লোমবার্ডি এলাকার বাতাসে ভাসমান ধূলিকণা (পিএম১০) নিয়ে সেই অনুসন্ধান চালিয়েছে বোলোগনা ও ট্রিয়েস্তে বিশ্ববিদ্যালয়। ইতালির সেই এলাকায় করোনার সবথেকে ভয়াবহ প্রভাব পড়েছিল। উত্তর ইতালির লোমবার্ডি ও পো ভ্যালি থেকে সর্বাধিক করোনা আক্রান্তের হদিশ মিলেছিল। গবেষণাপত্র অনুযায়ী, গত ১২ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মোট করোনা আক্রান্তের ৩০ শতাংশই লোমবার্ডিতে বাস করেন। সেখানে বাতাসে ভাসমান কণার মাত্রাও বেশি থাকে।

আরও পড়ুন : সভ্য সমাজের প্রতীক হবে মাস্ক, দেরি হলেও যত্রতত্র থুতু ফেলার অভ্যেস ছাড়ুন : মোদী

গত ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৩ মার্চ পর্যন্ত ব্যারগ্যামোর একটি শিল্পাঞ্চল থেকে ৩৪ ধরনের পিএম ১০ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। তার মধ্যে কয়েকটি নমুনার করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে।

আরও পড়ুন : পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রবেশ ও প্রস্থানে শর্তাবলী আরোপ হল রাজস্থানে

আর এখানেই ভারতের জন্য আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। কারণ কলকাতা, দিল্লি, মুম্বই-সহ ভারতের অনেক শহরেই বাতাসে ভাসমান ধূলিকণা ও অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণার (পিএম ২.৫) মাত্রা বেশি। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার সকাল আটটায় বালিগঞ্জে বাতাসে প্রতি ঘনমিটারে পিএম ২.৫-এর মাত্রার গড় ছিল ১৩ মাইক্রোগ্রাম। যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) নির্ধারিত মাত্রার (প্রতি ঘনমিটারে ২৫ মাইক্রোগ্রাম) থেকে অনেকটা কম। অন্যদিকে পিএম ১০-এর মাত্রা ছিল প্রতি ঘনমিটারে ২৮। সেটিও হু-এর নির্ধারিত মাত্রার (প্রতি ঘনমিটারে ৫০ মাইক্রোগ্রাম) থেকে অনেকটা কম।

আরও পড়ুন : সোনার দাম চড়া অক্ষয় তৃতীয়ায়, ২০২১ সালে ৮০ হাজারে পৌঁছবে বলছেন বিশেষজ্ঞরা

সেই তথ্য অবশ্য মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়। কারণ লকডাউনের জেরে যানবাহন চলাচল, কলকারখানার কাজ থমকে থাকার জন্য এই ছবিটা ধরা পড়েছে। আদতে সেই ভাসমান ধূলিকণা ও অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণার মাত্রা আরও বেশি থাকে। যেমন গত ১৯ মার্চ কলকাতার বাতাসে পিএম ২.৫-এর মাত্রা প্রতি ঘনমিটারে ২০১ মাইক্রোগ্রাম। অন্যদিকে পিএম ১০-এর মাত্রা ছিল প্রতি ঘনমিটারে ১৪১ মাইক্রোগ্রাম। তবে শুধু কলকাতায় নয়, ভারতের বিভিন্ন একই অবস্থা।

আরও পড়ুন : করোনা মোকাবিলায় ভারতের লড়াই সারা বিশ্বে চর্চিত হবে, নিশ্চিত মোদী

দেশে বায়ুদূষণের প্রভাব যে কতটা মারাত্মকভাবে পড়ে, সেই প্রমাণ পাওয়া যায় ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের অধীনে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চের (আইসিএমআর) একটি রিপোর্টে। সেটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ভারতে প্রতি আটজনে একজনের মৃত্যু হয়েছিল বায়ুদূষণজনিত কারণে।

আরও পড়ুন : নয় স্টক ফার্ম ও ২৯ বিমা সংস্থাকে আধার যাচাইকরণ পরিষেবায় অনুমতি কেন্দ্রের

সেই গবেষণার অন্যতম লেখক কল্পনা বালাকৃষ্ণন অবশ্য এখনই উদ্বেগের কিছু দেখছেন না। তিনি বলেন, 'ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া যে ভাসমান কণার উপাদান হতে পারে, তা জানা কথা। হাম, সোয়াইন ফ্লুর (H1N1) সময় সেগুলিকে (ভাইরাস) পিএমের উপাদানের সঙ্গে পাওয়া গিয়েছিল। বিএমজে-র একটি প্রতিবেদনেও এই বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। আসলে মরশুমকালীন রোগের একেবারে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পিএম-এর উপাদানে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া বেশি মেলে। তবে এটায় (ভাসমান কণায় করোনা) আমি বেশি গুরুত্ব দিতে চাই না। কারণ আমরা জানি না, ভাসমান কণায় ভাইরাস আদৌও কার্যকর থাকে না কিনা। সেটা কি ক্ষতিকারক।'

আরও পড়ুন : Lockdown 2.0: কোন দোকান খুলবে, কোনগুলি বন্ধ রাখতে হবে - দেখে নিন কেন্দ্রের সাম্প্রতিক নির্দেশ

তিনি বরং অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে বাতাসের ভাসমান কণার শিকার হলে যে রোগ হয়, তাতে করোনার বিপদ বাড়ে। তিনি বলেন, 'দীর্ঘদিন পিএমের শিকার হলে হৃদপিণ্ড-শ্বাসযন্ত্র সংক্রান্ত সমস্যা হয়। যা মানুষের বিপদ বাড়িয়ে তোলে।'

আরও পড়ুন : Lockdown 2.0: তেসরা মে'র পরও লকডাউন বাড়ানোর পক্ষে এই রাজ্যগুলি

আইআইটি দিল্লির অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর সাগ্নিক দে জানান, অন্য দেশের সঙ্গে ভারতে কীরকম প্রভাব পড়বে, সেই তুলনা টানা যাবে না। কেন যাবে না, সেই ব্যাখ্যাও দেন তিনি। বলেন, 'তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার উপর ভাইরাসের আয়ু নির্ভর করতে পারে। যদি না সেরকম কোনও সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা যায়, তাহলে ভারতীয় পরিবেশে সেটির বিচার করা অত্যন্ত কঠিন। তবে গবেষণায় বলা হয়েছে, দূষিত এলাকায় বায়ুবাহিত সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। যে তত্ত্ব এখনও পর্যন্ত আমেরিকা, ইতালি ও ব্রিটেনে প্রমাণিত হয়েছে।'

আরও পড়ুন : COVID-19 Lockdown 2.0 : তাস খেলে, আড্ডা দিয়ে ৪০ জনকে রোগ বিলোলেন ২ ট্রাকচালক

বন্ধ করুন