বাড়ি > ঘরে বাইরে > অহম রাজা নিয়ে মন্তব্যের জেরে গ্রেফতারির খাঁড়া, 'নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা' গর্গের
গর্গ চট্টোপাধ্যায় (ফাইল ছবি, সৌজন্য ফেসবুক)
গর্গ চট্টোপাধ্যায় (ফাইল ছবি, সৌজন্য ফেসবুক)

অহম রাজা নিয়ে মন্তব্যের জেরে গ্রেফতারির খাঁড়া, 'নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা' গর্গের

  • গর্গ জানান, তাঁর বাবার ক্যানস্যার ধরা পড়েছে। মায়ের শারীরিক অবস্থাও ভালো নয়।

প্রথম অহম রাজা ছাওলাং সিউকাফাকে 'চিনা অনুপ্রবেশকারী' বলায় মাথায় গ্রেফতারির খাঁড়া ঝুলছিল। অবশেষে সেই ঘটনার জন্য ক্ষমা চাইলেন বাংলা পক্ষের প্রধান গর্গ চট্টোপাধ্যায়। অসমবাসীর কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার পাশাপাশি ইমেলের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়ালের কাছে দুঃখপ্রকাশ করেছেন তিনি।

শনিবার একটি টুইটারে গর্গ বলেন, 'আমার আগের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের জন্য মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়ালের মাধ্যমে অহম সম্প্রদায়-সহ অসমের সমস্ত মানুষের কাছে নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। যে পোস্টের মাধ্যমে অনিচ্ছাকৃতভাবে কারোর ভাবাবেগে আঘাত লাগতে পারে।'

সেই টুইটের সঙ্গে চার মিনিট ২৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিয়োবার্তাও পোস্ট করেন গর্গ। সেখানে দাবি করেন, তাঁর বাবার ক্যানস্যার ধরা পড়েছে। সেজন্য গত কয়েক মাসে বারবার তাঁকে হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে। তাঁর মায়ের শারীরিক অবস্থাও ভালো নয়। সেই পরিস্থিতিতিতে পরিবারের একমাত্র সন্তান হিসেবে অসমবাসীর কাছে ক্ষমা চাইছেন। একইসঙ্গে গর্গ বলেন, ‘বর অহমের স্থপতিকার হিসেবে অবিস্মরণীয় ভূমিকা, বৃহত্তর অসমিয়া পরিচয় এবং তাঁর বংশ ও সভ্যতার অসামান্য ঐতিহ্যের জন্য স্বর্গাদেউ সিউকাফারের (ছাওলাং সিউকাফা) প্রতি গভীর সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করছি। যা আমাদের বিচিত্র এবং মহান ভারতীয় সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’

অসমের মুখ্যমন্ত্রী গর্গকে গ্রেফতারির নির্দেশ দেওয়ার দু'মাস পর নিজের মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চান বাংলা পক্ষের প্রধান। দেরির জন্য শুক্রবার ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি। যিনি গত ১৭ জুন বলেছিলেন, 'সর্বানন্দ সোনোয়াল কেন নিয়মিত একজন চিনা অনুপ্রবেশকারী এবং তাঁর সেনাকে নিয়ে মাতামাতি করেন? কেন নিষিদ্ধ বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আলফাও চিনা অনুপ্রবেশকারীকে নিয়ে মাতামাতি করেন? সত্যিকারের ভারতীয়রা কি জানেন যে করের টাকা দিয়ে বিজেপি অসমে চিনা অনুপ্রবেশকারীর মূর্তি তৈরি করেছে?'

সেই পোস্টের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ক্ষোভের মুখে পড়েছিলেনন গর্গ। তাঁর বিরুদ্ধে অসমের বিভিন্ন প্রান্তে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। তার ভিত্তিতে গর্গকে গ্রেফতারের জন্য কলকাতায় এসেছিল অসম পুলিশের একটি দল। কিন্তু তাদের খালি হাতেই ফিরতে হয়েছিল। কলকাতা পুলিশের বিরুদ্ধেও অসহযোগিতার অভিযোগ তোলা হয়েছিল। তারপর গর্গের বিরুদ্ধে নয়া পরোয়ানা জারি করেছিল গুয়াহাটির একটি আদালত। তার ভিত্তিতে গর্গকে গ্রেফতার জন্য কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

বন্ধ করুন