বাড়ি > ঘরে বাইরে > মাঝ আকাশে বিভিন্ন গোলযোগ, কড়া নির্দেশেও উন্নত হল না গো-এয়ারের সব ইঞ্জিন
মাঝ আকাশে বিভিন্ন গোলযোগ, কড়া নির্দেশেও উন্নত হল না গো-এয়ারের সব ইঞ্জিন (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য ফেসবুক গো-এয়ার)
মাঝ আকাশে বিভিন্ন গোলযোগ, কড়া নির্দেশেও উন্নত হল না গো-এয়ারের সব ইঞ্জিন (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য ফেসবুক গো-এয়ার)

মাঝ আকাশে বিভিন্ন গোলযোগ, কড়া নির্দেশেও উন্নত হল না গো-এয়ারের সব ইঞ্জিন

  • ২০১৭ সালের এপ্রিল থেকেই প্র্যাট ও ওয়াইটনির ইঞ্জিন বিশিষ্ট বিমানগুলি মাঝ আকাশে বিভিন্ন গোলযোগের সম্মুখীন হচ্ছে।

নির্দিষ্ট সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পর বাড়তি তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছিল। তা সত্ত্বেও প্র্যাট ও ওয়াইটনির সব ইঞ্জিন পরিবর্তন করে উঠতে পারল না উড়ান সংস্থা গো-এয়ার। নিজেদের প্রায় ২০ টি এ৩২০নিও বিমানের ইঞ্জিন এখনও পালটায়নি স্বল্প খরচের উড়ান সংস্থা।

সে বিষয়টি নিশ্চিত করে কেন্দ্রীয় অসামরিক প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক ‘হিন্দুস্তান টাইমস’-কে জানিয়েছেন, এখনও প্র্যাট ও ওয়াইটনির সব ইঞ্জিন পরিবর্তন করেনি গো-এয়ার। তিনি বলেন, ‘আপাতত ওদের ২০ টি মতো ইঞ্জিন পরির্তন করা বাকি আছে।’

২০১৭ সালের এপ্রিল থেকেই প্র্যাট ও ওয়াইটনির ইঞ্জিন বিশিষ্ট ইন্ডিগো এবং গো-এয়ারের এ৩২০নিও বিমানগুলি মাঝ আকাশে বিভিন্ন গোলযোগের সম্মুখীন হচ্ছে। তার ভিত্তিতে ২০১৯ সালের শেষের দিকে ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন (ডিজিসিএ) নির্দেশ দেয়, চলতি বছরের জনুয়ারির মধ্যে সব উড়ান সংস্থাকে প্র্যাট ও ওয়াইটনির ইঞ্জিনের জায়গায় উন্নততর বা পরিবর্তিত ইঞ্জিন ব্যবহার করতে হবে। সেই নির্দেশ পূরণে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট বিমানগুলি বসিয়ে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। যদিও পরবর্তীতে সেই সময়সীমা প্রথমে ৩১ মে এবং পরে ৩১ অগস্ট পর্যন্ত করা হয়েছিল।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রুখতে লকডাউনের জেরে উৎপাদন ও জোগান ধাক্কা খাওয়ায় গো-এয়ার এবং ইন্ডিগোকে বাড়তি সময় দিয়েছিল বিমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বাড়তি সময়সীমার মধ্যে সেই নির্দেশ পূরণ করে ইন্ডিগো। কিন্তু গো-এয়ার তা করেনি।

বিষয়টি নিয়ে বিমান নিয়ন্ত্রক সংস্থার ডিরেক্টর জেনারেল অরুণ কুমার ‘হিন্দুস্তান টাইমস’-কে বলেন, ‘ইন্ডিগোর ক্ষেত্রে প্র্যাট ও ওয়াইটনির ইঞ্জিন পরিবর্তনের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। গো-এয়ারের কয়েকটি ইঞ্জিন এখনও পরিবর্তন করা হয়নি। তবে দুটি ইঞ্জিনই উন্নততর না হওয়ায় আমরা সংশ্লিষ্ট বিমানগুলির উড়ান বন্ধ করে দিয়েছি আমরা। কোনও বিমানকে যদি উড়তে হয়, তাহলে দুটি ইঞ্জিনই পরিবর্তিত হতে হবে। পরিবর্তন ছাড়া যে বিমানগুলি রয়েছে, সেগুলি বসানোই থাকবে।’

গো-এয়ারের মুখপাত্র আবার দাবি করেছেন, ‘প্র্যাট ও ওয়াইটনির সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিমান চলাচলে ব্যবহার করা পিডব্লুউ১১০০জি-জেএমের সব ইঞ্জিনের তৃতীয় পর্যায়ের লো-প্রেশার টারবাইন (এলপিটি) উন্নততর করেছে। এখনও পর্যন্ত সেই উন্নততর টারবাইন নির্ঝঞ্জাটে কাজ করছে। গো-এয়ারের সুরক্ষা প্রথম নীতি অনুযায়ী এবং ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশনের নির্দেশ মতো যাবতীয় নিরাপত্তা বিধি মেনে সব বিমান চলছে। প্র্যাট ও ওয়াইটনির সহায়তায় উড়ান পরিষেবা বন্ধ এবং পরবর্তীকালে উড়ান পরিষেবা শুরু হওয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে সেই কাজটা করা হয়েছে।’

যদিও গো-এয়ারের সেই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে প্র্যাট ও ওয়াইটনি। সংস্থার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, গো-এয়ারের অধিকাংশ বিমানের ইঞ্জিন উন্নত করার প্রক্রিয়া শেষ হয়ে গিয়েছে। যে কয়েকটি বাকি আছে, সেগুলির কাজ শেষ করার জন্য গো-এয়ারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করা হচ্ছে। তিনি বলেছেন, ‘ভারতের সব বিমানই উন্নত জিটিএফ ইঞ্জিনের সাহায্য ওড়ে। এখনও পর্যন্ত ইঞ্জিনের উন্নত টারবাইন কোনও ঝঞ্জাট ছাড়াই কাজ করেছে।’

বন্ধ করুন