বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > ভারত–বাংলাদেশের মধ্যে ২০০ মিটার সুড়ঙ্গ, ব্যবহার হত পাচার-অপহরণে
ভারত–বাংলাদেশের মধ্যে ২০০ মিটার সুড়ঙ্গ, ব্যবহার হত পাচার-অপহরণে। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য পিটিআই)
ভারত–বাংলাদেশের মধ্যে ২০০ মিটার সুড়ঙ্গ, ব্যবহার হত পাচার-অপহরণে। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য পিটিআই)

ভারত–বাংলাদেশের মধ্যে ২০০ মিটার সুড়ঙ্গ, ব্যবহার হত পাচার-অপহরণে

  • সুড়ঙ্গ ধরে যাতায়াত চলছে ভারত–বাংলাদেশের মধ্যে!

খেলাটা চলছিল উপরে–নীচে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা সফল হল না। অবশেষে তা সামনে চলে এল। যা নিয়ে কপালে ভাঁজ পড়েছে পুলিশ কর্তাদের। কারণ উপরে কাঁটাতারের বেড়া। যেখানে বিএসএফ টহল দিচ্ছে। আর নীচে সুড়ঙ্গ ধরে যাতায়াত চলছে ভারত–বাংলাদেশের মধ্যে!  একটি অপহরণ কাণ্ডের তদন্তে নেমে এই সুড়ঙ্গের হদিশ মিলল অসমের করিমগঞ্জ জেলার বালিয়ায়। দুষ্কৃতীদের এই আন্তর্জাতিক যোগে কপালে ভাঁজ পড়েছে খোদ জেলা পুলিশের বড় কর্তাদের।

রবিবার নিলামবাজার থানার শিলুয়া গ্রামের বাসিন্দা দিলোয়ার হোসেনকে তুলে নিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। ফোন করে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। বাংলাদেশের ফোন নম্বর দেখে চিন্তা বেড়ে যায় পরিবারের সকলের। পুলিশের পরামর্শে শুরু হয় মুক্তিপণ কমানোর জন্য দর কষাকষি।

জানা গিয়েছে, অপহরণকারীরা অনড় থাকে পাঁচ লাখ টাকা দিতেই হবে। এরপরেই ফোনের অন্য প্রান্ত থেকে কড়া নির্দেশ আসে, কাউকে না জানিয়ে টাকা জমা করতে হবে পার্শ্ববর্তী নয়াগ্রামের এলিমুদ্দিনের কাছে। আর তখনই সূত্র পেয়ে যায় পুলিশ। সঙ্গে সঙ্গে এলিমকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে জেরা করলে সুড়ঙ্গের বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যেতে পারে এই আশঙ্কায় দুষ্কৃতীরা দিলোয়ারকে ছেড়ে দেয়। দিলোয়ার এসে পুলিশকে সুড়ঙ্গের কথা জানিয়ে দেন।

দিলোয়ারের দেওয়া সূত্র ধরে দল বেঁধে পুলিশ আধিকারিকরা বালিয়ায় যান। নেতৃত্বে ছিলেন খোদ পুলিশ সুপার ময়ঙ্ককুমার ঝা। জঙ্গলঘেরা এলাকায় প্রায় দু’শো মিটার দীর্ঘ সুড়ঙ্গ দেখা আত্মরাম খাঁচা হয়ে যায়। বাইরে থেকে যা কল্পনা করাও কঠিন। দিলোয়ার জানান, বাংলাদেশ প্রান্তেও ওই একই ব্যবস্থা করা রয়েছে। এখান দিয়েই দুষ্কৃতীরা নিয়মিত যাতায়াত করে। চলে পাচারও।

পুলিশ সুপার জানান, সুড়ঙ্গের ভারতের দিকের মুখ বন্ধ করতে বিএসএফকে বলা হয়েছে৷ তাঁদের কমান্ডান্টের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপহরণকারী চক্রের সবাইকে শীঘ্র জালে পুরে ফেলা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

বন্ধ করুন