বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > ‘এটা কৃষকের দেশ’, পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে লখিমপুর সীমান্তে পৌঁছালেন প্রিয়াঙ্কা
পুলিশের সঙ্গে বচসা প্রিয়াঙ্কার। (ছবি সৌজন্য হিন্দুস্তান টাইমস)
পুলিশের সঙ্গে বচসা প্রিয়াঙ্কার। (ছবি সৌজন্য হিন্দুস্তান টাইমস)

‘এটা কৃষকের দেশ’, পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে লখিমপুর সীমান্তে পৌঁছালেন প্রিয়াঙ্কা

রাতে চূড়ান্ত নাটকের পর সোমবার ভোরের দিকে লখিমপুর খিরির সীমান্তে পৌঁছালেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা।

রাতে চূড়ান্ত নাটকের পর সোমবার ভোরের দিকে লখিমপুর খিরির সীমান্তে পৌঁছালেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা। তবে কংগ্রেসের দাবি, প্রিয়াঙ্কা-সহ অন্যান্য বিরোধী নেতাদের হতাহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেয়নি পুলিশ। এক কংগ্রেস নেতা আবার দাবি করেন, হরগাঁও থেকে প্রিয়াঙ্কাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যদিও উত্তরপ্রদেশ পুলিশের তরফে সে বিষয়ে সরকারিভাবে কিছু জানানো হয়নি।

বিকেলে ধুন্ধুমার কাণ্ডের পর রবিবার রাতেই লখিমপুর খিরির উদ্দেশে রওনা দেন প্রিয়াঙ্কা। সেই সময় একপ্রস্থ নাটক হয়। আটকে দেওয়া হয় প্রিয়াঙ্কার কনভয়। পুলিশের তরফে জানানো হয়, গৃহবন্দি না করা হলেও কাউকে লখিমপুর খিরিতে যেতে দেওয়া হবে না। যদিও নাছোড়বান্দা প্রিয়াঙ্কা পুলিশ ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যেতে থাকেন। পুলিশের সঙ্গে তাঁর বচসা হয়। লখনউয়ের বাসভবন থেকে কিছুটা হেঁটে গিয়ে গাড়িতে উঠে পড়েন। তবে ব্যাপক নিরাপত্তা থাকায় মূল রাস্তা দিয়ে যেতে পারেননি প্রিয়াঙ্কা, দীপেন্দর সিং হুডা-সহ অন্যান্য নেতারা। ভিন্ন পথ দিয়ে সীতাপুরে সীমান্তবর্তী হরগাঁওয়ে পৌঁছান তাঁরা। ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ ফোনে সংবাসংস্থা পিটিআইকে কংগ্রেসের জাতীয় সম্পাদক ধীরজ গুর্জর বলেন, ‘আমরা লখিমপুর খিরির বাইরে অপেক্ষা করছি। আমাদের ঢুকতে বাধা দিয়েছে পুলিশ। আমরা হিংসায় হতাহতদের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি।’

প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা
প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা

তারইমধ্যে লখিমপুর খিরিতে কৃষকদের ‘পিষে’ ‘হত্যার’ ঘটনায় বিজেপি সরকারকে তোপ দেগেছেন প্রিয়াঙ্কা। তিনি বলেন, ‘কৃষকদের যেভাবে পিষে দেওয়া হচ্ছে, তা ব্যাখ্যা করার কোনও ভাষা নেই। দীর্ঘদিন ধরে কৃষকরা আন্দোলন করছেন। কিন্তু সরকার তাঁদের কথা শুনতে রাজি নয়। রবিবারের ঘটনা থেকে স্পষ্ট যে সরকার কৃষকদের মেরে দেওয়ার কাজ করছে।’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘এটা কৃষকদের দেশ। বিজেপির বিচারধারার জায়গা নয়।’

কী হয়েছিল লখিমপুর খিরিতে?

রবিবার লখিমপুর খিরিতে বিকেলের দিকে যখন কৃষকরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন, তখন একটি গাড়ি তাঁদের পিষে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। লখনউয়ে উত্তরপ্রদেশের পুলিশ সদর দফতরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, সেই ঘটনায় চার কৃষক-সহ আটজনের মৃত্যু হয়েছে। চারজন ওই গাড়িতে ছিলেন। লখিমপুর খিরির জেলা সদর থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে তিকোনিয়া নামে যে জায়গায় সেই ঘটনা ঘটেছে, সেখানে হিংসার আশঙ্কায় এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাঠানো হয়েছে তিন কোম্পানি আধা-সামরিক বাহিনী। জেলায় আংশিকভাবে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা।

'হিন্দুস্তান টাইমস' গ্রুপের 'লাইভ হিন্দুস্তান'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রবিবার লখিমপুর খিরি জেলায় উপ-মুখ্যমন্ত্রী কেশবপ্রসাদ মৌর্যের একটি অনুষ্ঠান ছিল। তাঁকে কালো পতাকা দেখানোর জন্য অনেক কৃষক জমায়েত শুরু করেন। নয়া কৃষি আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে থাকেন। কিন্তু পুলিশ এবং বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে তাঁদের বচসা শুরু হয়ে যায়। তিকোনিয়ার এক পুলিশকর্মী জানিয়েছেন, বনবীরপুর গ্রামে উত্তরপ্রদেশের উপ-মুখ্যমন্ত্রী আসার কয়েক মিনিট আগে ধুন্ধুমার বেঁধে যায়। তিকোনিয়া-বনবীরপুর রোডে দুটি গাড়ি বিক্ষোভরত কৃষকদের পিষে দেয়। গাড়িতে বিজেপির পতাকা লাগানো ছিল বলে একটি মহল থেকে দাবি করা হয়েছে।

'হিন্দুস্তান টাইমস'-এর উত্তরপ্রদেশের সাংবাদিক জানিয়েছেন, তিনটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। একটি মহলের দাবি, আদতে ওই গাড়ি চালাচ্ছিলেন বিজেপি সাংসদের ছেলে। যদিও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী অজয় মিশ্র টেনিকে উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা এএনআই জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে ছিলেন না তাঁর ছেলে। তাঁর পালটা দাবি, কৃষক বিক্ষোভের সময় গাড়ি লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয়। তাতে আহত হন গাড়ির চালক। তার জেরে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। গাড়ির তলায় পিষে গিয়ে দু'জনের মৃত্যু হয়েছে। সেইসঙ্গে মৃত্যু হয়েছে তাঁদের তিনজন কর্মীর। তারপর তাঁদের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

বন্ধ করুন