বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > Supreme Court on Job Reservations: সংরক্ষণের জন্য শিক্ষায় আপোষ নয়, বড় পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের
ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য পিটিআই

Supreme Court on Job Reservations: সংরক্ষণের জন্য শিক্ষায় আপোষ নয়, বড় পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের

  • ২০১৬ সালে ঝাড়খণ্ড সরকার নির্দেশ দেয় যে আদিবাসী জেলাগুলির সরকারি স্কুলে স্থানীয়দেরই শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হবে। তবে ২০২০ সালে ঝাড়খণ্ড হাই কোর্ট এই নির্দেশকে বাতিল করে দেয়। হাই কোর্টের সেই রায়কেই বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট।

সংরক্ষণের কারণে শিক্ষার মানের সঙ্গে আপোষ করা যায় না। এমনই পর্যবেক্ষণ দিল সুপ্রিম কোর্ট। উল্লেখ্য, আদিবাসী অধ্যুষিত জেলাগুলির স্কুলে শিক্ষক পদের জন্য ঝাড়খণ্ড সরকার স্থানীয়দের জন্য ১০০ শতাংশ সংরক্ষণের ঘোষণা করেছিল। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মামলা হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। আর সেই মামলার প্রেক্ষিতে ঝাড়খণ্ড সরকারের সংরক্ষণের সেই সিদ্ধান্তকে বাতিল করে দেয় শীর্ষ আদালত। 

ঝাড়খণ্ডে মোট ১৩টি আদিবাসী অধ্যুষিত জেলা রয়েছে। রাজধানী রাঁচিও আদিবাসী অধ্যুষিত। এই আবহে ২০১৬ সালে ঝাড়খণ্ড সরকার নির্দেশ দেয় যে আদিবাসী জেলাগুলির সরকারি স্কুলে স্থানীয়দেরই শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হবে। তবে ২০২০ সালে ঝাড়খণ্ড হাই কোর্ট এই নির্দেশকে বাতিল করে দেয়। এদিকে উচ্চ আদালতের এই নির্দেশের পর অনেক আদিবাসী চাকরি হারান। সেই আদিবাসী শিক্ষকদের অনেকেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন উচ্চ আদালতের এই নির্দেশের বিরোধিতা করে। 

তবে সুপ্রিম কোর্টও ঝাড়খণ্ড হাই কোর্টের নির্দেশকে বহাল রেখেছে। বিচারপতি এমআর শাহ এবং বিচারপতি বিভি নাগরত্নার বেঞ্চ বলেছে, ‘কয়েকটি জেলায় স্থানীয় শিক্ষকদের ১০০ শতাংশ সংরক্ষণ দেওয়ার অর্থ আরও মেধাবী শিক্ষক নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা। এতে স্কুলগামী শিশুদের শিক্ষার মানের সাথে আপোষ করা যাবে না।’ তবে সুপ্রিম কোর্ট নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু করার নির্দেশ দেয়নি রাজ্যকে। এতে একই সময় হাজার হাজার স্কুল শিক্ষকবিহীন হয়ে পড়ত। তাই পরিস্থিতি সামাল দিতে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয় যে আগের মেরিট লিস্টটিকে রিভাইস করে নতুন করে সেই শিক্ষদেরই নিয়োগ করা হোক। তবে সেই ক্ষেত্রে স্থানীয়দের সংরক্ষণের বিষয়টি থাকবে না। নিয়োগ হবে মেধার ভিত্তিতে। 

যদিও রাজ্যের তরফে সংরক্ষণের পক্ষে সওয়াল করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল যে আদিবাসী এলাকায় আদিবাসী শিক্ষক দিলে স্থানীয় পড়ুয়ারা নিজেদের ভাষায় বিষয়গুলি জানতে পারবে। তবে যে চাকরিপ্রার্থীরা উপজাতীয় নন, তাঁরা দাবি করেছেন যে এই ধরনের বিজ্ঞপ্তি তাঁদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করেছে। কারণ এটি তাঁদের বাসস্থানের উপর ভিত্তি করে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক আচরণ। এর আগে অন্ধ্রপ্রদেশেও এই ধরনের ১০০ শতাংশ সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে সেবারও সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চ সেই নির্দেশকে অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে সেই রায়ের ভিত্তিতেই ঝাড়খণ্ডের ক্ষেত্রেও সুপ্রিম কোর্ট সংরক্ষণের বিপক্ষে রায় দিল। 

 

 

বন্ধ করুন