বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > উত্তরাখণ্ডের ভোটে তখত ধরে রাখার লড়াইয়ে কোন চ্যালেঞ্জ রয়েছে বিজেপির সামনে?
উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারে বিজেপির প্রচারে জেপি নাড্ডা ও পুষ্কর সিং ধামি। ছবি সৌজন্য এএনআই (ANI )
উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারে বিজেপির প্রচারে জেপি নাড্ডা ও পুষ্কর সিং ধামি। ছবি সৌজন্য এএনআই (ANI )

উত্তরাখণ্ডের ভোটে তখত ধরে রাখার লড়াইয়ে কোন চ্যালেঞ্জ রয়েছে বিজেপির সামনে?

  • উত্তরাখণ্ডের তখত ধরে রাখার লড়াইটা গেরুয়া শিবিরের জন্য খুব একটা সহজ নয়। কারণ ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে কংগ্রেস।

২০২২ সালে পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে। এরমধ্যে উত্তরাখণ্ড বিধানসভা নির্বাচনের মহারণ ১৪ ফেব্রুয়ারি। যার ফলাফল জানা যাবে ১০ মার্চ। এদিকে, সমস্ত পার্টিই হিমালয়ের কোলের এই স্বপ্নসুন্দর রাজ্যের মসনদ দখলে নিজের মতো করে ঘুঁটি সাজিয়ে চলেছে। অন্যদিকে তখতে নিজের দখল কায়েম রাখতে তৎপর বিজেপিও। তবে বহুবার মুখ্যমন্ত্রী বদল পর্ব পার করেও ধামি সরকারের নেতৃত্বে উত্তরাখণ্ডে ভোট বৈতরণী পার করা খানিকটা চ্যালেঞ্জের বলে মনে করছেন বহু বিশেষজ্ঞ।

৭০ আসনের উত্তরাখণ্ড বিধানসভা নির্বাচনে গত ২০০০ সাল থেকে দেখা যাচ্ছে মসনদে কংগ্রেস বা বিজেপিই নিজের দাপট ধরে রাখার ট্রেন্ড প্রতিষ্ঠা করেছে। বর্তমানে সেখানে বিজেপির সরকার। তবে তখত ধরে রাখার লড়াইটা গেরুয়া শিবিরের জন্য খুব একটা সহজ নয়। কারণ ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে কংগ্রেস। বিজেপির কাছে অন্যতম চ্যালেঞ্জ হল কংগ্রেসের তুরুপের তাস হরিশ রাওয়াত। যেখানে বিজেপির কাছে নবীন মুখ হিসাবে পুষ্কর সিং ধামি মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী, কংগ্রেসের সেখানে হরিশ রাওয়াত রাজ্যের পোড়খাওয়া নেতাদের অন্যতম। বর্ষীয়ান এই নেতা কার্যত দেবভূমির মাটির রাজনীতি বহুদিন ধরেই চেনেন। এদিকে, উত্তরাখণ্ডের মাটিতে বিজেপিকে শক্ত করে বাঁধতে খুব একটা সাফল্য সাম্প্রতিককালে পাননি ধামি। ৪৫ বছরের ধামিকে বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসাতেই পার্টি ছাড়েন উত্তরাখণ্ডের বিজেপি নেতা ও মন্ত্রী যশপাল আরিয়া। যোগ দেন কংগ্রেসে। এদিকে, বিজেপির আরও এক মন্ত্রী হরক সিং রাওয়াতও বেসুরো বলে খবর। এই জায়গা থেকে তরুণ ধামিকে নিয়ে বিজেপি র অন্দরে বহু মন কষাকষির খবরও উঠে আসছে। যা উদ্বেগ বাড়িয়েছে পদ্মশিবিরের প্রথমসারির নেতৃত্বের।

'তিন তিগাড়া , কাম বিগাড়া' স্লোগান নিয়ে কংগ্রেস ,ক্রমাগত বিজেপির পর পর মুখ্যমন্ত্রী বদলকে কটাক্ষ করে যাচ্ছে। সাম্প্রতিককালে বিজেপি উত্তরাখণ্ডে তিনবার মুখ্যমন্ত্রী পদে তিনজন ব্যক্তিকে বসিয়েছে। যা সংবিধান বিরুদ্ধ বলে সরব হন কংগ্রেসের হরিশ রাওয়াত। বিজেপির ত্রিবেন্দ্র সিং, তিরথ সিং ও পুষ্কর ধামির উত্তরাখণ্ডের মসনদে কম সময়ের মধ্যে বসার ঘটনা রাজ্যে বিজেপির অন্দরের কোন্দল নিয়ে বিরোধীপক্ষকে সুবিধার জায়গা করে দিচ্ছে বলে মত বহু বিশেষজ্ঞের।

এদিকে, কোভিড পরিস্থিতিতে উত্তরাখণ্ডে মহাকুম্ভ আয়োজন রাজ্যে একটি বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়ায়। যার জেরে তিরথ সিং এর সরকারের মেয়াদও কমে যায়। তিনি ইস্তফা দিতেই পরিস্থিতি সামাল দেন পুষ্কর ধামি। কোভিডের দ্বিতীয় স্রোত যখন দেশে দানবীয় আকার ধারণ করেছিলে , তখন ২০২১ এপ্রিলে ৯.১ মিলিয়ন মানুষ উত্তরাখণ্ডের গঙ্গায় ডুব দেন মহাকুম্ভের স্নানে। এরপরই সেরাজ্যে হু হু করে বাড়তে থাকে করোনা সংক্রমণ।

এদিকে, একাধিক ইস্যুতে বিজেপিকে বিঁধে রাখার জন্য পিচ প্রস্তুত করে ফেলেছে কংগ্রেস। মূলত, উত্তরাখণ্ডের রাজধানী হিসাবে গেয়রসাইঁকে তুলে ধরার দাবিতে সরব হয়েছেন কুমায়ুন ,গারওয়ালের মানুষ। তবে, বিজেপি এখনও পর্যন্ত সেই দাবিতে সেভাবে কিছু করে উঠতে পারেনি। এদিকে, কংগ্রেস একধাপ এগিয়ে গেয়রসাইঁকে উত্তরাখণ্ডের রাজধানী করার বিষয়ে সোচ্চার হয়েছে। এছাড়াও উত্তরাখণ্ডে ভোটের বড় ইস্যু কর্মসংস্থান। যা নিয়ে বিজেপিকে গুনে গুনে গোল দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে কংগ্রেস। কর্মসংস্থান ইস্যু বাদ দিলে, কংগ্রেসের অস্ত্রাগারে আরও হাতিয়ার থেকে যাচ্ছে। একদিকে, উত্তরাখণ্ডে বিজেপি সরকারের একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ, কৃষক অসন্তোষ, কোভিড পরিস্থিতিতে ভেঙে পড়া স্বাস্থ্য পরিকাঠামো সহ এক গুচ্ছ ইস্যুকে সামনে রাখছে কংগ্রেস।

উল্লেখ্য, ৭০ আসনের উত্তরাখণ্ড বিধানসভায় কংগ্রেসের সামনে ভোটযুদ্ধ জয় কার্যত 'ডু ওর ডাই সিচুয়েশনের' মতো। এই রাজ্যে বিজেপিকে রুখতে না পারলে ২০২৪ ঘিরে কংগ্রেসকে আরও উদ্বেগে থাকতে হবে বলে মনে করছেন অনেকে। দলীয় কোন্দল যে শুধুমাত্র বিজেপির অন্দরেই রয়েছে তা নয়। কংগ্রেসের তরফে উত্তরাখণ্ডের রাজনীতিতে বড় নাম হরিশ রাওয়াত। তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রর্থী করা নিয়ে কংগ্রেসের অন্দরেও মন কষাকষির অন্ত নেই! এক্ষেত্রে দেবেন্দ্র যাদব, গণেশ গোরিয়ালের মতো বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতাদের নাম উঠে আসছে। গারওয়াল বিশ্ববিদ্যালয়ের এমএণ সেনওয়াল বলছেন, 'বিজেপি এই ভোট যুদ্ধ উন্নয়নের নিরিখে জিততে চাইছে।' একই সঙ্গে তাঁর মতামত, রাজ্যে কর্মসংস্থান , রাজনৈতিক অস্থিরতা, চিকিৎসার বেহাল অবস্থা বড় ফ্যাক্টর হতে চলেছে। এছাড়াও উত্তরাখণ্ডের রাজনীতিতে কুমায়ুন বনাম গারওয়াল ফ্যাক্টর একটি বড় দিক । সেদিক থেকে কুমায়ুনে কংগ্রেসের মুখ যদি হরিশ রাওয়াত হন, তাহলে গরওয়ালে বিজেপির মুখ ত্রিবেন্দ্র রাওয়াত। এই জায়গা থেকে বিজেপির আশা ৭০ এর মধ্যে ৬০ আসন জিতে নিতে পারবে তারা। অন্যদিকে, কংগ্রেস ঘুঁটি সাজাচ্ছে রাজনৈতিক স্থিরতা ও কর্মসংস্থানের নিরিখে।

 

 

 

বন্ধ করুন