ন্যাটওয়েস্ট ফাইনালে যুবরাজ-কাইফ জুটি। ছবি- এএফপি।
ন্যাটওয়েস্ট ফাইনালে যুবরাজ-কাইফ জুটি। ছবি- এএফপি।

সৌরভ বলেছিল এক রান নিতে, ক্যাপ্টেনের নির্দেশ অগ্রাহ্য করে ছক্কা হাঁকান কাইফ

  • ন্যাটওয়েস্ট ফাইনালে ক্যাপ্টেনের নির্দেশ মানেননি কাইফ। যুবির সঙ্গে ইনস্টাগ্রাম লাইভে জানালেন নিজেই।

সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ক্যাপ্টেন্সি কেরিয়ারের যত মণিমুক্ত ছড়ানো রয়েছে ভারতীয় ক্রিকেটে, তার মধ্যে অত্যন্ত উজ্জ্বল রত্ন হল ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২০০২ সালের ন্যাটওয়েস্ট ট্রফি জয়। বিশ্বস্ত দুই তরুণ তুর্কি যুবরাজ সিং ও মহম্মদ কাইফ লর্ডসের ফাইনালে যেভাবে দলনায়কের আস্থার মর্যাদা দিয়েছিলেন, তার পর তাঁদের উপর বিশ্বাস আরও দৃঢ় হওয়াই স্বাভাবিক।

যদিও ফাইনাল চলাকালীন ক্যাপ্টেনের আস্থা বেশি ছিল যুবরাজের উপর। কাইফের উদ্দেশ্যে দলনায়কের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল যুবিকে যত বেশি সম্ভব বল খেলার সুযোগ দেওয়ার। কাইফ অবশ্য ক্যাপ্টেনের নির্দেশ মানেননি সেদিন। দলনায়কের নির্দেশ আগ্রাহ্য করে নিজেই বাড়তি দয়িত্ব কাঁধে তুলে নেন এবং দলকে চ্যাম্পিয়ন করে মাঠ ছাড়েন।

ন্যাটওয়েস্ট ফাইনালের দুই নায়ক যুবরাজ ও কাইফ ইনস্টাগ্রাম লাইভে সেই ম্যাচের স্মৃতিচারণায় জানান মজাদার তথ্য। সৌরভ চাইছিলেন এক প্রান্ত আঁকড়ে উইকেট বাঁচান কাইফ। অন্য প্রান্ত দিয়ে আক্রমণ করুন যুবরাজ। তাই যখন জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান রেট বেড়ে যাচ্ছিল, তখন প্যাভিলিয়ন থেকে সৌরভ চিৎকার করে কাইফকে বলেন এক রান নিয়ে যুবরাজকে ব্যাট দিতে।

ক্যাপ্টেনের নির্দেশ ছিল এক রান নেওয়ার। নির্দেশ পাওয়া মাত্র পরের বলে কাইফ ছক্কা হাঁকান। যদিও তার পর আর সৌরভকে টুঁ-শব্দ করতে দেখা যায়নি। বরং ক্যাপ্টেন প্যাভিলিয়নে কাউকে নড়তে দেননি নিজেদের জায়গা থেকে।

কাইফ বলেন, ‘আমার মনে আছে, দাদা চিৎকার করছিল, সিঙ্গল নাও, সিঙ্গল নাও। যুবরাজকে স্ট্রাইক দাও।’ কথার রেশ ধরে যুবি বলেন, ‘দাদা চাইছিল আমি স্ট্রাইকে থাকি। তাই সিঙ্গল নিতে বলছিল। আর তুমি কী করেছিলে?’

উত্তরে কাইফ বলেন, ‘পরের বলটাই শর্ট পিচ পেয়ে যাই। পুল করে ছক্কা মেরে দিই।’ তখন যুবরাজ বলেন, ‘মনে আছে, তার পর তুমি কী করেছিলে? আমার কাছে এসে ফিস্ট পাঞ্চ করে বলেছিলে, আমরাও তো খলতে এসেছি। দাদা তার পর চুপ হয়ে যায়। বুঝে যায়, কাইফও ছক্কা মারতে পারে।’

কাইফ জানান ঠিক তার পরের গল্পটা। তিনি বলেন, ‘আমি দেখছিলাম দাদা কাউকে জলের বোতল দিয়ে ক্রিজে পাঠাতে চাইছিল আমাদের কাছে নির্দেশ পৌঁছে দেওয়ার জন্য। তবে আমি ছক্কা মারার পর আর কাউকে জল নিযে মাঠে ঢুকতে দেখিনি। তখন দাদা চায়নি কেউ নিজের জায়গা থেকে উঠুক।’

বন্ধ করুন