বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > রাজবংশী আবেগে শান, নাগরিকত্ব ইস্যুতে নিশীথের পাশে গ্রেটার সুপ্রিমো অনন্ত মহারাজ
নিশীথ প্রামাণিক - দিনহাটা, বিজেপি। (ছবি সৌজন্য ফেসবুক)
নিশীথ প্রামাণিক - দিনহাটা, বিজেপি। (ছবি সৌজন্য ফেসবুক)

রাজবংশী আবেগে শান, নাগরিকত্ব ইস্যুতে নিশীথের পাশে গ্রেটার সুপ্রিমো অনন্ত মহারাজ

  • উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে অনন্ত মহারাজের সঙ্গে দেখা করেছিলেন তৃণমূল বিধায়ক। এরপরই গ্রেটার সুপ্রিমোকে নিয়ে শুরু হয় জল্পনা।

সদ্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের রাষ্ট্রম পদে দায়িত্ব গ্রহণ করা নিশীথ প্রামাণিকের নাগরিকত্ব নিয়ে গত দুই দিন ধরে তোলপাড় হচ্ছে রাজ্য রাজনীতি। বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উঠেছে যে তিনি বাংলাদেশি নাগরিক। তবে এবার নিশীথের পাশে দাঁড়ালেন গ্রেটার সুপ্রিমো অনন্ত মহারাজ। উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে অনন্ত মহারাজের সঙ্গে দেখা করেছিলেন তৃণমূল বিধায়ক। এরপরই গ্রেটার সুপ্রিমোকে নিয়ে শুরু হয় জল্পনা। তবে সেই জল্পনার মাঝেই নিশীথকে সমর্থন জানালেন তিনি।

অনন্ত মহারাজের দাবি, দিনহাটার ভেটাগুড়িতে জন্ম নিয়েছেন নিশীথ প্রামাণিক। সেই দিনহাটা মহকুমাতেই বাড়ি অনন্ত মহারাজেরও। অনন্ত মহারাজের দাবি, নিশীথের বাবা-মা সহ তাঁর পরিবারকে তিনি ভালোভাবে চেনেন। কাজেই যাঁরা নিশীথের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, তাঁরা চক্রান্ত করছেন বলেই অভিযোগ করেন গ্রেটার সুপ্রিমোর। রবিবার অনন্ত মহারাজ সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান, রাজবংশী সম্প্রদায়ের এক যুবক দেশের গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। তাই তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হচ্ছে। নিশীথ প্রামাণিককে তিনি চেনেন এবং জানেন। তাঁর জন্মস্থান দিনহাটায়।

উল্লেখ্য, দিনহাটা মহকুমার খারিজা বালাডাঙা গ্রামে বাড়ি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের। তিনি দিনহাটার স্কুলে পড়াশোনা করেছেন এবং দিনহাটার এক প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষকতাও করেন। ২০১৩ সালে তৃণমূল যুবতে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে তাঁর রাজনীতিতে প্রবেশ। ২০১৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভেটাগুড়ি-১-এর বালাডাঙা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৮ সালে তিনি নিজে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করলেও তাঁর নেতৃত্বে তৃণমূল যুব দিনহাটা-১ ব্লকের একাধিক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এবং গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির বহু আসনে তাঁর অনুগামীরা ভোটে জেতেন। ওই বছরই ডিসেম্বর মাসে দল বিরোধী কাজের জন্য নিশীথ প্রামাণিককে তৃণমূল থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরবর্তীতে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন এবং কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ নির্বাচিত হন।

বিধানসভা নির্বাচনে জিতেও বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেন। এরপর কয়েকদিন আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রীর পাশাপাশি যুব কল্যাণ মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয় তাঁকে। এরপরই অসমের কংগ্রেস সাংসদ রিপুন বোরা নিশীথ প্রামাণিকের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে চিঠি দেন মোদীকে। পাশাপাশি একই প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা।

তবে এসব অভিযোগ উড়িয়ে নিশীথ প্রামাণিকের পাশে দাঁড়ালেন গ্রেটার সুপ্রিমো মহারাজ অনন্ত রায়। রাজবংশীদের মধ্যে বেশ প্রভাব রয়েছে অনন্ত মহারাজের নেতৃত্বাধীন গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশনের। বিগত লোকসভা নির্বাচনে এবং এবারের বিধানসভা নির্বাচনে অনন্ত মহারাজ বিজেপিকে সমর্থনের কথ জানিয়েছিলেন। তবে আগামী লোকসভা নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে তৃণমূল তাঁকে নিজের দিকে টানার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে আপাতত তিনি যে সেই মুখো হচ্ছেন না, তাও মোটামুটি স্পষ্ট হল।

বন্ধ করুন