বছর ঘুরলেই লোকসভা নির্বাচন। আর এই নির্বাচনের আগে সিএএ কার্যকর করতে চায় বিজেপি। সে কথা আজ, সোমবার নিজের মুখেই জানিয়ে গেলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। পঞ্চায়েত নির্বাচনের ফলাফলে স্পষ্ট মতুয়া ভোট ভাগ হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত না হওয়ায় এখন আর বিজেপিকে কেউ বিশ্বাস করতে চাইছেন না। আর আজ সুকান্ত মজুমদার যে দাবি করেছেন তা নিয়ে তুমুল কটাক্ষ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধরনা মঞ্চে মতু্য়াদের ঝান্ডা দেখার পরই ঠাকুরনগরে সুকান্ত মজুমদারের আসা নিয়ে ইতিমধ্যেই চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে।
আজ, সোমবার সুকান্ত মজুমদার গাইঘাটার মানিকহীরা গ্রামে নিহত বিজেপি কর্মী কানন রায়ের বাড়িতে আসেন। ফেরার পথে ঠাকুরনগরে মতুয়া ঠাকুরবাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে হরিচাঁদ ঠাকুরের মন্দিরে প্রণাম করেন। আসলে গড় আগলাতেই এসে ছিলেন তিনি বলে মনে করেন অনেকে। তাছাড়া সিএএ এখনও না হওয়ায় ক্ষেপে আছেন খোদ কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর। তাই এক ঢিলে দুই পাখি মারার চেষ্টা করলেন বালুরঘাটের সাংসদ। সুতরাং লোকসভা নির্বাচনে সেই জাতপাতের রাজনীতি সামনে আসতে চলেছে। তাই মিশন ২৪ হিসাবে মতুয়াদের মন জিততে বিজেপির চমক সিএএ।
এদিকে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্বয়ং এই ঠাকুরবাড়িতে এসে মতুয়াদের নাগরিকত্বের আশ্বাস দিয়েছিলেন। তারপর নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ তৈরি হলেও আজ পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি বলে মতুয়ারা ক্ষুব্ধ। আবার দুয়ারে লোকসভা নির্বাচন। আবার সিএএ নিয়ে প্রতিশ্রুতি। এটা না করলে মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখা কঠিন হবে। সেটা বেশ বুঝতে পারছেন বঙ্গ–বিজেপির নেতারা। কিন্তু তাঁদের নিজেদের সমীক্ষায় উঠে এসেছে ৯টির বেশি আসন এবার মিলবে না। তাই তেড়েফুঁড়ে নেমে পড়েছেন।
আরও পড়ুন: ‘সবকিছু তো অবৈধ হতে পারে না’, ১০০ দিনের কাজ নিয়ে কেন্দ্রকে তোপ কলকাতা হাইকোর্টের
ঠিক কী বলছেন সুকান্ত? অন্যদিকে এই সিএএ নিয়ে এবার বিস্ফোরক দাবি করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। সুকান্ত মজুমদার ঠাকুরনগরে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘সৌজন্যে সাক্ষাৎ করতে এসেছিলাম। মন্দিরে প্রণাম করা আমাদের সংস্কৃতি। আগেও বলেছি। আবার বলছি। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি আমার পূর্ণ বিশ্বাস আছে। বাংলার মানুষকে আমি আশ্বস্ত করতে চাই বিশেষ করে মতুয়া নমঃশূদ্র–সহ সব উদ্বাস্তু মানুষদের। সেটি হল— ২০২৪ সালে আগে সিএএ হবেই।’ সুকান্তবাবুর এই মন্তব্য নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস পাল্টা বলেন, ‘মতুয়াদের ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, রেশন কার্ড আছে। তাঁরা ভোট দেন, ফলে তাঁরা নতুন করে নাগরিকত্ব নিতে যাবেন কেন? লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি আবার মতুয়াদের ভাঁওতা দিতে আসরে নেমে পড়েছে। তবে মতুয়ারা এবার যোগ্য জবাব বিজেপিকে ভোটবাক্সে দেবেন।’