বাংলা নিউজ > বায়োস্কোপ > ট্রেলারে থাকলেও 'জবরা ফ্যান' গান ছবিতে ছিল না কেন? যশরাজকে প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের
ফ্যান ছবির একটি দৃশ্য

ট্রেলারে থাকলেও 'জবরা ফ্যান' গান ছবিতে ছিল না কেন? যশরাজকে প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের

  • ট্রেলারে দেখানো গান বাদ ছবি থেকে। হতাশার জেরে কড়া সিদ্ধান্ত নেন দর্শক, তবে সুপ্রিম কোর্টে স্বস্তি পেল প্রযোজনা সংস্থা যশ রাজ ফিল্মস। 

ফ্যান ছবির ট্রেলার দেখে একটা গান দুর্দান্ত পছন্দ হয়েছিল, টিকিট কেটে শাহরুখ খানের সেই ছবিও দেখতেও গিয়েছিলেন আফরিন ফাতিমা জায়দি। কিন্তু ছবি শেষ হলেও ২ ঘন্টা ১৮ মিনিটের ছবিতে সেই গানের এক ঝলকও দেখতে পাননি আফরিন। কিন্তু হাতগুটিয়ে বসে থাকবার মহারাষ্ট্রের ঔরাঙ্গাবাদের এই শিক্ষিকা। তিনি সোজা ছবির প্রযোজনা সংস্থা, যশ রাজ ফিল্মেসর নামে নামে অভিযোগ ঠুকে দিয়েছিলেন উপভোক্তা কমিশনে।

সে বছর চার আগের ঘটনা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে National Consumer Dispute Redressal Commission ফ্যান ছবির প্রযোজনা সংস্থা যশ রাজ ফিল্মসকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল ঔরাঙ্গাবাদের বাসিন্দা আফরিন ফতিমা জাইদিকে। সোমবার সুপ্রিম কোর্ট সেই রায়ে স্থগিতাদেশ দিল। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টে প্রশ্নের মুখে পড়ে প্রযোজনা সংস্থা যশ রাজ ফিল্মস।

কেন ছবির ট্রেলারে সেই গান গুঁজে দেওয়া হবে যেই গান ছবির কোনও অংশে দেখানো হবে না? প্রশ্ন করেন বিচারপতি হেমন্ত গুপ্তা ও ভি রামাসুব্রহ্মণ্যমের ডিভিশন বেঞ্চ। ‘সমস্যাটা হল আপনারা (প্রযোজনা সংস্থা) ট্রেলার এক জিনিস দেখান, অথচ ছবিতে সেটা থাকে না। যখন ট্রেলার মুক্তি পাচ্ছে সেটা তো সেই ছবির ট্রেলার। কেন আপনারা মার্কেটিংয়ের জন্য ছবির ট্রেলারে এমন গান ব্যবহার করেন যা কোনওদিন সেই ছবির অংশ হবে না?'

যে গান নিয়ে এতো টানাপোড়েন, সেটি হল ‘জবরা ফ্যান’। বিশাল দাদলানি ও শেখর রাভজিয়ানির কম্পোজ করা ‘ফ্যান’ ছবির এই বহুচর্চিত টাইটেল ট্র্যাক আদতে ছবির অংশ ছিল না। থিয়েটারে এই গান দেখতে না পেরে আফরিন জেলা উপভোক্ত আদালতে অভিযোগ জমা করেছিলেন। সেই পিটিশন খারিজ হয়ে যায়। এরপর মহারাষ্ট্র উপভোক্তা কমিশনের দ্বারস্থ হন আফরিন ফাতিমা। ২০১৭ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এই সরকারি প্রতিষ্ঠান রায় দেয় ছবির প্রযোজনা সংস্থাকে খেসারত হিসাবে দশ হাজার টাকা দিতে হবে, এবং আফরিনের আইনি খরচ বাবদ আরও পাঁচ হাজার টাকা, অর্থাত্ মোট পনেরো হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। পরবর্তীতে এই রায় বহাল রাখে জাতীয় উপভোক্তা কমিশনও।

এদিন সুপ্রিম কোর্টে যশ রাজ ফিল্মসের আইনজীবী নাওমি চন্দ্র দাবি করেন, সিনেমার ক্ষেত্রে এমনটা করা হয়েই থাকে। ছবির ট্রেলারে দেখানো গান অনেক সময়ই মূল ছবির অংশ হয় না, এটা ইন্ডাস্ট্রির প্রচলিত প্রথা।  আদালত জানায়, প্রথা চলে আসছে মানে সেটা সঠিক এমনটা ভাববার কোনও কারণ নেই। দর্শক যেহেতু সিনেমা হলের মালিকের কাছ থেকে ছবির টিকিট কেনেন, তাই প্রযোজনা সংস্থাকে সরাসরি সার্ভিস প্রোভাইডার বলা যায় কিনা, সেই প্রশ্নের নিষ্পত্তি না হওয়ার পর্যন্ত জরিমানা দেওয়ার রায় স্থগিত থাকবে, জানায় কোর্ট।

এর আগে জাতীয় উপভোক্তা কমিশন মেনে নিয়েছিল, জাইদির আবেদনের সত্যতা। তাঁদের মতে, ছবির ট্রেলারের অংশ সিনেমায় না দেখানো ‘অসাধু উপায়ে ব্যবসায় চালানো’র সমান। কারণ সেই ট্রেলার পছন্দ হওয়ার পরেই কেউ টিকিট কেটে হলে ছবি দেখতে যায়। দর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য কোনও ট্রেলার দেখিয়ে ছবি থেকে তা ছেঁটে ফেলাটা অন্যায় ও অসাধু প্রথা। 

আফরিন তাঁর আবেদনের কপিতে জানিয়েছেন, ফ্যান থেকে ওই গান বাদ পড়ায় তাঁর সন্তানেরা এতটাই হতাশ হয়েছিল, যে দিন রাতে তাঁরা ঠিক মতো খাওয়াদাওয়া করেনি। যার ফেল পরদিন অসুস্থ হয়ে পড়ে তাঁরা, এবং ছেলেমেয়েদের নিয়ে চিকিত্সকের কাছে যেতে হয়েছিল তাঁকে। এরপরই গোটা বিষয়ের হেস্তনেস্ত করে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।