রমজানের আগে পুরনো দিল্লিতে মাস্ক পরে বেরিয়েছে এক কিশোর (ছবি সৌজন্য রয়টার্স)
রমজানের আগে পুরনো দিল্লিতে মাস্ক পরে বেরিয়েছে এক কিশোর (ছবি সৌজন্য রয়টার্স)

Covid-19 Updates: নথিভুক্ত মৃত্যুর থেকে করোনার বলি অনেক বেশি হতে পারে : রিপোর্ট

  • মোট মৃতের সংখ্যার মাধ্যমে বিশ্বে মহামারীর প্রভাব কতটা পড়েছে, তা আরও ভালোভাবে বোঝা যাবে।

সরকারিভাবে যে সংখ্যাটা সামনে এসেছে, তার থেকে বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা হাজার হাজার বেশি। নিউ ইয়র্ক টাইমস ও ফিনান্সিয়াল টাইমসে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এমনই দাবি করা হয়েছে। সেই প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসে সরকারিভাবে যে পরিসংখ্যান দেওয়া হয়েছে, তার থেকে মৃতের সংখ্যা কমপক্ষে ৩৬,০০০ বেশি হতে পারে।

আরও পড়ুন : ব্যাঙ্কিং পরিষেবাকে গণপরিষেবা ঘোষণা কেন্দ্রের, ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ধর্মঘট বাতিল

'অল কেস এক্সেস মোর্টালিটি'-র উপর ভিত্তি করে মৃতের প্রকৃত সংখ্যাটা অনুমান করা হয়েছে। অর্থাৎ কোনও নির্দিষ্ট সময়ে আগের গড়ের নিরিখে যে কোনও কারণে মৃত্যুর হার বৃদ্ধির বিষয়টি বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন : ইঞ্জেকশন দিয়ে শরীরে কীটনাশক ঢোকালে কেমন হয়? করোনা রোধে ট্রাম্পের আজব প্রস্তাব

ফিনান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রিটেনে সরকারিভাবে যতজন মারা গিয়েছেন, তার থেকে করোনায় 'নিখোঁজ' মৃতের সংখ্যা দ্বিগুণ বেশি হতে পারে। অর্থাৎ সরকারি পরিসংখ্যানে যতজনের মৃত্যুর খবর রয়েছে, তার থেকে তিনগুণ বেশি মানুষ মারা যেতে পারেন। গত ১০ এপ্রিল যে সপ্তাহ শেষ হয়েছিল, সরকারি তথ্য অনুযায়ী তাতে মৃত্যুর হার ৭৫ শতাংশ বেড়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যখন সরকারিভাবে করোনায় মৃতের সংখ্যা ১৭,০০০-এর কিছুটা বেশি বলা হয়েছিল, ততক্ষণে মহামারীর জেরে প্রায় ৪১,০০০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

আরও পড়ুন : করোনার বলি ‘২ টাকার ডাক্তার’, শোকে পাথর অসংখ্য দরিদ্র রোগী

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে আমেরিকা, ব্রিটেন-সহ ১২ টি দেশের মৃত্যুর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তার ভিত্তিতে প্রতিবেদন দাবি করা হয়েছে, সরকারি সংখ্যার থেকে গত মাসে কমপক্ষে ৩৬,০০০-এর বেশি মৃত্যু হতে পারে।

আরও পড়ুন : বেহাল অর্থনীতির জের, ছ'টি ভারতীয় ফান্ড বন্ধ করছে Franklin Templeton

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ওই দেশগুলিতে গত বছরের তুলনায় গত মাসে অনেক বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তা জানতে পেরেছে নিউ ইয়র্ক টাইমস।' সেই তালিকায় করোনা ছাড়াও অন্যান্য কারণে মৃত্যুও ধরা হয়েছে। হাসপাতালগুলি কাণায় কাণায় ভরতি থাকার জন্য যাঁরা চিকিৎসা পাননি, তাঁদেরও এই তালিকায় রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস।

আরও পড়ুন : তেসরা মে কি শেষ হবে লকডাউন? মুম্বই ও কলকাতার হাল নিয়ে চিন্তিত কেন্দ্র

বিশেষজ্ঞদের মতামত তুলে ধরে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মোট মৃতের সংখ্যার মাধ্যমে বিশ্বে মহামারীর প্রভাব কতটা পড়েছে, তা আরও ভালোভাবে বোঝা যাবে। অধিকাংশ দেশে হাসপাতালে যে করোনা আক্রান্তদের মৃত্যু হচ্ছে, তাঁদেরই শুধুমাত্র সরকারি তালিকায় নথিভুক্ত করা হচ্ছে। দুটি প্রতিবেদনেই দাবি করা হয়েছে, আসল সংখ্যাটা দেরিতে আসে বা সেই সংখ্যাটা সামনে আসার সম্ভাবনা কম। যেমন - গড়ে কতজনকে করব দেওয়া হয়েছে, তার ভিত্তিতে ইন্দোনেশিয়ার পরিস্থিতির বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন : Lockdown 2.0: লকডাউনে কোন কোন দোকান খোলায় ছাড় দিল কেন্দ্র, দেখে নিন

মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যাটা সামনে না আসার বিষয়টিতে সহমত পোষণ করেছেন জার্মানির জনতত্ত্ববিদ টিম রিফ। তাঁকে উদ্ধৃত করে নিউ ইয়র্ক টাইমস বলেছে, 'কোনও দিন যে সংখ্যাই নথিভুক্ত হোক না কেন, তা অত্যন্ত কমই হবে। অনেক জায়গায় মহামারী দীর্ঘদিন ধরে চলছে। সেখানে দেরিতেও মৃত্যু নথিভুক্ত হওয়ার সময় রয়েছে। যা মৃত্যুর হারের আরও সঠিক ছবি তুলে ধরবে।'

বন্ধ করুন