বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > বন্ধ সব জানলা, ওঠেনি কোনও শাটার, হনুমান জয়ন্তী হিংসায় এখনও থমথমে পরিবেশ দিল্লিতে
হনুমান জয়ন্তী হিংসায় এখনও থমথমে পরিবেশ দিল্লিতে (REUTERS)

বন্ধ সব জানলা, ওঠেনি কোনও শাটার, হনুমান জয়ন্তী হিংসায় এখনও থমথমে পরিবেশ দিল্লিতে

  • হনুমান জয়ন্তীর দিন বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে দিল্লির জাহাঙ্গিরপুরীতে। ঘটনায় দুই পক্ষই একে অপরকে দোষারোপ করে চলেছে।

হনুমান জয়ন্তীকে ঘিরে দিল্লিতে দুই সম্প্রদায়েক মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে শনিবার বিকেলে। সেই ঘটনার পর থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাস্তায় নামানো হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। কয়েকশো পুলিশ আধিকারিকরা নিজেরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন। এরই মাঝে এবার শুরু হয়েছে একে অপরকে দোষ দেওয়ার পালা। আর এই পরিস্থিতিতে আম জনতার মধ্যে আতঙ্কের সঞ্চার ঘটেছে। কোনও দোকান খোলা তো দূরে থাক, এই গরমের মধ্যেও এলাকায় প্রায় কোনও বাড়িতেই জানলা পর্যন্ত খোলা নেই। এদিকে এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর, অমিত শাহ পুলিশ কমিশনার ও স্পেশাল কমিশনারের সঙ্গে কথা বলেন।

জানা গিয়েছে, গতকাল বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে দিল্লির জাহাঙ্গিরপুরীতে। ঘটনায় দুই পক্ষই একে অপরকে দোষারোপ ক চলেছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের তরফে বলা হচ্ছে যে মুসলিমরা পাথর ছুড়েছিল মিছিলে। এদিকে এলাকার স্থানীয় মুসলিমদের দাবি, মিছিলে থাকা হিন্দুরা নাকি উস্কানিমূলক স্লোগান তুলে হিংসায় প্ররোচণা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দুই তরফের থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বহু ভিডিয়ো প্রকাশ করে বিভিন্ন দাবি করা হয়েছে। সেগুলির অনেক কটাই ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। এদিকে দুই পক্ষেরই অধিকাংশ মানুষের দাবি, ‘বহিরাগতদের’ মদতেই এই হিংসার ঘটনা ঘটেছে।

জাহাঙ্গীরপুরীর মুসলিম অধ্যুষিত ব্লকের এক বাসিন্দা হিন্দুস্তান টাইমসকে বলেন, দুপুর দেড়টার সময় একটি মিছিল গিয়েছিল। তারা শান্তিপূর্ণ ছিল। তবে এরপর বিকেল সাড়ে পাঁচটার সময় আরও একটি মিছিল যায়। সেখান থেকেই হিংসার সূত্রপাত। মস্তান নামক সেই স্থানীয় বাসিন্দার বক্তব্য, ‘সব বহিরাগতরা ছিল সেই মিছিলে (বিকেল সাড়ে পাঁচটার মিছিলে)। বলা হচ্ছিল যে আমাদেরও রাম রাম স্লোগান তুলতে হবে। তারপরও আমরা বিষয়টিকে পাত্তা দিচ্ছিলাম না। এরপর আমাদের ব্লকে ঢুকে মসজিদে গেরুয়া পতাকা লাগাতে শুরু করে কয়েকজন। এরপরই সংঘর্ষ বাঁধে।’

এদিকে জাহাঙ্গীপুরীর হিন্দু অধ্যুষিত এলাকার এক রিক্সা চালক দাবি করেন, মিছিল যখন মসজিদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল, সেই সময় তাদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া শুরু হয়। এরপরই সংঘর্ষ বাঁধে বলে তার দাবি। এরপর নাকি হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় দোকানে তাণ্ডবলীলা চালানো হয়। সেই ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। তবে কী কারণে সংঘর্ষ বেঁধেছে, তা নিয়ে এখনও পুলিশ কোনও মন্তব্য করেনি।

বন্ধ করুন