বাংলা নিউজ > ময়দান > ইঞ্জেকশন নিয়ে হাত নড়ছিল না, তাতেও ‘ভয়’ ধরিয়ে দেন, সিডনির লড়াই নিয়ে বললেন পন্ত
সিডনিতে ৯৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছিলেন ঋষভ পন্ত। (ছবি সৌজন্যে গেটি ইমেজস এবং টুইটার)

ইঞ্জেকশন নিয়ে হাত নড়ছিল না, তাতেও ‘ভয়’ ধরিয়ে দেন, সিডনির লড়াই নিয়ে বললেন পন্ত

  • 'বড় বোলার বলবে তুই মার, আমিও মারব', অজিদের ‘ভয়’ দেখানোর সহজ টোটকা দিলেন ঋষভ পন্ত।

হাতে মারাত্মক ব্যথা ছিল। নেটে ব্যাট তুলতে পারছিলেন না। ইঞ্জেকশন নিয়েছিলেন। পেনকিলার ওষুধ খেতে বাধ্য হয়েছিলেন। কিন্তু মাঠে নেমেও পুরো ছন্দ পাচ্ছিলেন না। সেখানে এমন একটা ইনিংস খেলেছিলেন ঋষভ পন্ত, যে ইনিংসের সৌজন্যে কার্যত হারা ম্যাচে জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল ভারত।

চলতি বছরের শুরুতে অস্ট্রেলিয়া সফরের তৃতীয় টেস্টের পঞ্চম দিনে হারের যাবতীয় আশঙ্কা ছিল ভারতের। কিন্তু পন্তের দুর্ধর্ষ ৯৭ রান, রবিচন্দ্রন অশ্বিন এবং হনুমা বিহারীর লড়াইয়ের সৌজন্যে সিডনি টেস্ট ড্র করতে পেরেছিল টিম ইন্ডিয়া। শেষপর্যন্ত গাব্বায় ঐতিহাসিক সিরিজ জিতেছিল। পন্তের সেই ৯৭ রান এসেছিল এমন একটা সময়, যখন প্রবল ব্যথায় হাতই নাড়াতে পারছিলেন না ভারতীয় তারকা

সেই সিডনি টেস্টের বিষয়ে ড্রিম ১১-এ ভারতীয় ক্রিকেটার জেমাইমা রদ্রিগেজের সঙ্গে কথোপকথনের সময় পন্ত বলেন, ‘প্রথম ইনিংসে হাত নাড়াতে পারছিলাম না। দ্বিতীয় ইনিংসে উইকেটকিপিং করিনি। ঋদ্ধি (ঋদ্ধিমান সাহা) ভাই উইকেটকিপিং করছিল। কারণ আমি হাতও নাড়াতে পারছিলাম না।’

তিনি জানান, চোটের পর স্ক্যান করতে গিয়েছিলেন। তাতে দেখা গিয়েছিল যে হাড় ভেঙে যায়নি। মারাত্মক ব্যথা ছিল। কিন্তু ব্যাটিং তো করতেই হত। ইনজেকশন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পেনকিলার ইনজেকশন নিয়ে নেটে ব্যাটিং করছিলেন পন্ত। কিন্তু ব্যাটই ধরতে পারছিলেন না। তাতে অবশ্য হাল ছেড়ে দেননি পন্ত। তাঁর কথায়, ‘কিছু বুঝতে পারছিলাম না। ভয়ও লাগছিল। চোট লাগার পর ব্যাটও ঘোরাতে পারছিলাম না। এখানে ঢিমেগতিতে বল আসছে। ওখানে তো প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, জোস হেজেলউডরা বল করবে। আরও দ্রুতগতিতে বল আসবে। সেটাই ভাবছিলাম যে কীভাবে হবে পুরোটা। আমি শুধু নিজেকে বলছিলাম, করতে তো হবেই। এভাবে তো হয় না। আর কেউ তো এসে করবে না। আমি নিজেকে বলতে থাকি যে ভারতকে ম্যাচ জেতাতে হবে।’

পন্ত জানান, ইঞ্জেকশন নেওয়ার পর পেনকিলার খেলেও ভয় কাটেনি। তারইমধ্যে পঞ্চম দিনে অজিঙ্কা রাহানে আউট হয়ে যাওয়ার পর আরও উদ্বেগ বেড়ে গিয়েছিল। শুরুতে তেমন ছন্দেও ছিলেন না। তারইমধ্যে লোভ দেখিয়ে আউট করার চেষ্টা করছিলেন নাথান লিঁয়। সেই বল এমনভাবে মাঠের বাইরে ফেলেছিলেন যে নিজেদের পরিকল্পনা পালটাতে বাধ্য হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। তারপরই লাগাতার আক্রমণ করে যেতে থাকেন। পন্তের কথায়, ‘বলে মনোনিবেশ করতে এতটা বেশি জোর দিয়েছিলাম যে ধীরে ধীরে ম্যাচে বেশি মনোযোগ তৈরি হয়ে গিয়েছিল। ব্যথা থেকে মনোযোগ সরে যায়। হয়তো পেনকিলারও ধীরে ধীরে কাজ করতে শুরু দিয়েছিল।’

বন্ধ করুন