বাংলা নিউজ > ময়দান > গরমে বমি বমি পাচ্ছিল- তাও ৭৯ বলে ঝড়ো ১০৭ করেন পূজারা, তবু জেতাতে পারলেন না দলকে

গরমে বমি বমি পাচ্ছিল- তাও ৭৯ বলে ঝড়ো ১০৭ করেন পূজারা, তবু জেতাতে পারলেন না দলকে

চেতেশ্বর পূজারা।

তবে সাসেক্সের হয়ে দুরন্ত ইনিংস খেলার পর পূজারা ক্লাবের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে একটি সাক্ষাত্কারে তাঁর ইনিংস সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে দাবি করেছেন, ওয়ারউইকশায়ারের বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি করার সময়ে ব্রিটেনের গরমে তিনি অস্বস্তি বোধ করছিলেন। তাঁর বমি বমি লাগছিল।

এক ওভারে হাঁকালেন ২২ রান। ৫০ রান থেকে ১০০ রানে পৌঁছাতে লাগল মাত্র ২২ বল। রয়্যাল লন্ডন কাপে একেবারে বিধ্বংসী ব্যাটিং করলেন সাসেক্সের অধিনায়ক চেতেশ্বর পূজারা। তার পরেও অবশ্য দলকে জেতাতে পারলেন না। ৭৯ বলে ১০৭ রান করে পূজারা সাজঘরে ফিরতেই শেষ হয়ে যায় সাসেক্সের শেষ আশা। বরং শেষ হাসি হাসলেন ওয়ারউইকশায়ারের ক্রুণাল পান্ডিয়ারা।

তবে সাসেক্সের হয়ে দুরন্ত ইনিংস খেলার পর পূজারা ক্লাবের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে একটি সাক্ষাত্কারে তাঁর ইনিংস সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে দাবি করেছেন, ওয়ারউইকশায়ারের বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি করার সময়ে ব্রিটেনের গরমে তিনি অস্বস্তি বোধ করছিলেন। তাঁর বমি বমি লাগছিল। এই ব্যাটসম্যান হয়তো ভারতে তার পুরো ক্যারিয়ারে প্রচন্ড গরমে খেলতে অভ্যস্ত। কিন্তু ইংল্যান্ডের গরম তাঁকে অস্বস্তিতে ফেলে দেয়।

পূজারা বলেছেন, ‘আমি এর মধ্যে হাইড্রেট হয়ে গিয়েছিলাম। একটা সময় ছিল, একটা সময় ছিল যখন আমার অস্বস্তি বোধ হচ্ছিল। বমি বমি লাগছিল। আমার মনে হয়েছে, এটা আবহাওয়ার জন্যই হয়েছে। আমি গরম আবহাওয়ায় খেলতে অভ্যস্ত কিন্তু এটা আলাদা ধরনের ছিল। তবে আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিলাম।’

তিনি আরও যোগ করেছেন, ‘এটি ওয়ানডে ফরম্যাটের অন্যতম সেরা ইনিংস ছিল। কিন্তু যদি জয় এনে দিতে পারতাম, তবে আরও ভালো হতো। আমরা লক্ষ্য থেকে খুব বেশি দূরে ছিলাম না। আমি শেষ বল পর্যন্ত খেলতে চেয়েছিলাম। তা হলে আমাদের জেতার আরও সুযোগ থাকত।’

শুক্রবার বার্মিংহ্য়ামে টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ওয়ারউইকশায়ার। শুরুটা দারুণ করেন ওয়ারউইকশায়ারের ওপেনাররা। সেঞ্চুরি হাঁকান ওপেনার রব ইয়েটস। ১১১ বলে ১১৪ রান করেন তিনি। শেষপর্যন্ত অধিনায়ক উইল রোডসের ৭০ বলে ৭৬ রান এবং মাইকেল বার্জেসের ৫১ বলে ৫৮ রানের সৌজন্যে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ওয়ারউইকশায়ার ছয় উইকেটে ৩১০ রান তোলে ওয়ারউইকশায়ার। তবে ব্যাট হাতে ব্যর্থ হন ভারতীয় তারকা ক্রুণাল। ক্রিজে মাত্র দু'টি বলের জন্য টিকতে পারেন। কোনও রান করতে পারেননি।

আরও পড়ুন: কে বলে ওয়ান ডে ক্রিকেটে অচল পূজারা? লড়াকু হাফ-সেঞ্চুরিতেই দিলেন জবাব

সাসেক্সের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন আর্টিস্টিডস কার্ভেলাস এবং ব্র্যান্ডলি কুরি। একটি উইকেট নেন হেনরি ক্রোকোম্ব। অপরটি রান-আউট হয়। ওপেনার হামজা শেখ রান-আউট করেন পূজারা। সেটাই ছিল ওয়ারউইকশায়ারের প্রথম উইকেট।

সেই রান তাড়া করতে নেমে মোটামুটি শুরু করে সাসেক্স। হ্যারিসন ওয়ার্ড দ্রুত আউট হয়ে গেলেও টম ক্লার্কের সঙ্গে আলি ওর সাসেক্সের ইনিংস টানতে থাকেন। ক্লার্ক আউট হওয়ার পর ক্রিজে আসেন পূজারা। দু'জনে তৃতীয় উইকেটে ৬০ রান যোগ করেন। আলি আউট হওয়ার পরে পূজারার সঙ্গ দিতে পারেননি কেউ। তবে সাসেক্সকে ম্যাচে রেখে দেন ভারতীয় তারকা।

শেষ ১০ ওভারে জয়ের জন্য পূজারাদের দরকার ছিল ১০২ রান। তার পর হাত খোলেন পূজারা। ৫০ রান থেকে ১০০ রানে পৌঁছাতে নেন মাত্র ২২ রান। তারইমধ্যে ৪৫ তম ওভারে ২২ রান (৪,২,৪,২,৬,৪) নেন পূজারা। প্রথম বলে তো ঋষভ পন্ত সুলভ মারেন ভারতীয় টেস্ট দলের নম্বর ‘তিন’।

পূজারার সৌজন্যেই শেষ দুই ওভারে জয়ের জন্য সাসেক্সের মাত্র ২০ রান দরকার ছিল। কিন্তু ৪৯ তম ওভারের প্রথম বলেই পূজারা ৭৯ বলে ১০৭ রান (সাতটি চার এবং দু'টি ছক্কা) করে আউট হতে সাসেক্সের যাবতীয় আশা শেষ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত সাত উইকেটে ৩০৬ রানের বেশি তুলতে পারেনি সাসেক্স। তারইমধ্যে ব্যাটিংয়ের ব্যর্থতা ভুলিয়ে ১০ ওভারে ৫০ রানে তিন উইকেট নেন ক্রুণাল।

বন্ধ করুন