বাংলা নিউজ > টেকটক > সাইরাস মিস্ত্রির মৃত্যর জের, ব্যান হচ্ছে সিটবেল্ট অ্যালার্ট বন্ধ করার ক্লিপ
ডানদিকে সিটবেল্ট অ্যালার্ম স্টপার। ছবি: পিটিআই ও ইন্ডিয়া মার্ট (PTI & IndiaMart)

সাইরাস মিস্ত্রির মৃত্যর জের, ব্যান হচ্ছে সিটবেল্ট অ্যালার্ট বন্ধ করার ক্লিপ

Seat Belt Alarm Stoppers: সিটবেল্ট টেনে ধরে এই ক্লিপগুলি। ফলে সেন্সরকে ফাঁকি দেওয়া যায়। অ্যালার্ট বন্ধ হয়ে যায়। আর এভাবেই সিটবেল্ট পরাকে ফাঁকি দিচ্ছেন অনেকেই। বাজারে দেদার বিক্রি এই সিটবেল্ট ক্লিপের। খুব শীঘ্রই এমন ক্লিপ ব্যান করার ঘোষণা হবে।

রবিবার সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান টাটা সন্সের প্রাক্তন চেয়ারম্যান সাইরাস মিস্ত্রি। পুলিশ সূত্রে খবর, মার্সিডিজের ব্যাক সিটে বসেছিলেন তিনি। কোনও সিটবেল্ট পরেননি। আর সেই কারণেই আঘাত বেশি গুরুতর ছিল। এর পর পরই সিটবেল্টের বিষয়ে নতুন করে ভাবছে কেন্দ্র সরকার। শুধু এয়ারব্যাগ-ই নয়, যাত্রীদের সুরক্ষার্থে সিটবেল্টও যথেষ্ট বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ বিষয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু করেছেন কেন্দ্রীয় আধিকারিকরা। সূত্রের খবর, খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তার মধ্যে অন্যতম হল, সিটবেল্ট অ্যালার্ম থামানোর ‘স্টপার ক্লিপ’ ব্যান করতে পারে কেন্দ্র সরকার।

সেটা কী? আসলে নিয়ম অনুযায়ী, বর্তমানে গাড়িতে সামনের সিটে দু'জন যাত্রীরই সিটবেল্ট পরার কথা। সে গাড়ি যে গতিতেই চলুক না কেন। এটি নিশ্চিত করার জন্য সরকারি নিয়ম মেনে গাড়িগুলিতে একটি সেন্সরসহ অ্যালার্ম বা অ্যালার্ট বসায় নির্মাতা সংস্থাগুলি। যতক্ষণ না চালক ও তাঁর পাশের যাত্রী, দু'জনেই সিটবেল্ট বাঁধছেন, এই অ্যালার্ট থেকে 'কোঁ কোঁ' শব্দ বা, ভয়েস অ্যালার্ট বাজতে থাকে। এ পেছনে ভাবনা এই যে, এতে সতর্ক(বা বিরক্ত) হতে সকলে বেল্ট পরে নেবেন।

কিন্তু এটিও এড়ানোর উপায় এসে গিয়েছে বাজারে। সেটা হল এই সিটবেল্ট ক্লিপ। সিটবেল্ট লাগানোর জায়গায় গুঁজে দিতে হয় এই ক্লিপগুলি। ফলে সেন্সরকে ফাঁকি দেওয়া যায়। অ্যালার্ট বন্ধ হয়ে যায়। আর এভাবেই সিটবেল্ট পরাকে ফাঁকি দিচ্ছেন অনেকেই। বাজারে দেদার বিক্রি এই সিটবেল্ট ক্লিপের।

বিষয়টি চোখে পড়েছে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী নীতিন গড়করিরও। সোমবার এক অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন তিনি। সাইরাস মিস্ত্রির প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেন গড়করি। এরপর গাড়ির সামনে ও পিছনে, উভয় যাত্রীদের জন্যই সিটবেল্ট পরার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

এর পাশাপাশি নিজের অভিজ্ঞতাও ভাগ করেন তিনি। গড়করি বলেন, এক মুখ্যমন্ত্রীর গাড়িতে চড়ে এমন সিটবেল্ট ক্লিপ দেখতে পান তিনি। যদিও সেটি খুলে বেল্ট পরে নিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। আর তারপরেই এই সিটবেল্ট ক্লিপ নিষিদ্ধ করার বিষয়ে ভাবতে শুরু করেন গড়করি।

হিন্দুস্তান টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী, এক কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রকের আধিকারিক এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এ বিষয়ে নির্দেশিকা তৈরি করার প্রক্রিয়া চলছে। খুব শীঘ্রই এমন ক্লিপ ব্যান করার ঘোষণা হবে।

রবিবার আহমেদাবাদ থেকে মুম্বই ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন সাইরাস মিস্ত্রি। পালঘরের কাছে মহাসড়কে একটি ডিভাইডারে তাঁর গাড়ি ধাক্কা মারে। বিলাসবহুল মার্সিডিজের পেছনের সিটে ছিলেন তিনি। গাড়ির গঠন অত্যন্ত ভাল হওয়ায় পেছনের সিটের অংশে বিশেষ আঘাতের চিহ্ন নেই। কিন্তু সিটবেল্ট না পরায় এবং গতি তীব্র থাকায় তিনি প্রবল আঘাত পান বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

রবিবারের এই মর্মান্তিক ঘটনাই নতুন করে ভাবাচ্ছে আইনপ্রণেতা, গাড়ি নির্মাতা ও আমজনতাকে।

বন্ধ করুন