বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > এই ৫ কারণে তৃণমূলে ফিরতে পারেন বারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং
অর্জুন সিং। নিজস্ব ছবি।
অর্জুন সিং। নিজস্ব ছবি।

এই ৫ কারণে তৃণমূলে ফিরতে পারেন বারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং

  • রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে সাংসদ হয়েও সুখে নেই অর্জুন। তার পিছনে রয়েছে একাধিক কারণ।

পুরভোটের আগে থেকেই শুরু হয়েছিল জল্পনা। আর সোমবার তাঁর মন্তব্য সেই জল্পনায় ঘি ঢেলেছে। তবে কি বিজেপি ছেড়ে ফের তৃণমূলের পথে অর্জুন সিং। রাজনীতির কারবারিদের একাংশের দাবি, অর্জুনের তৃণমূলে ফেরা এখন সময়ের অপেক্ষা কিন্তু কেন?

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের মুখে তৃণমূল ছাড়েন অর্জুন। বারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দল ভরসা রেখেছিল পুরনো সৈনিক দীনেশ ত্রিবেদীর ওপর। বিজেপিতে যোগ দিয়েই টিকিট পান অর্জুন। সবাইকে চমকে দিয়ে বারাকপুরে জিতেও যান তিনি। তার পরই শুরু হয় যাবতীয় গোলমাল।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে সাংসদ হয়েও সুখে নেই অর্জুন। তার পিছনে রয়েছে একাধিক কারণ।

১. লোকসভা নির্বাচনে জয়ের পর নিজের এলাকায় আর কোনও নির্বাচনে বিজেপিকে জেতাতে পারেননি অর্জুন সিং। দলের তরফে ভবানীপুর উপনির্বাচনসহ একাধিক নির্বাচন পরিচালনার ভার তাঁকে দেওয়া হয় কিন্তু ফল হয়েছে একই। বারবার সন্ত্রাসের অভিযোগ করলেও অর্জুনের ক্যারিস্মা যে কাজ করেনি তা স্পষ্ট।

২. ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ হলে দেখা যায় বারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের প্রায় সর্বত্র ভরাডুবি হয়েছে বিজেপির। যাতে স্পষ্ট সাংসদের জনপ্রিয়তা সেখানে কাজ করেনি। এই প্রবণতা চলতে থাকলে ২০২৪ এর নির্বাচনে অর্জুনের জিতে ফেরা কার্যত অসম্ভব।

৩. বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর অর্জুনের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ সমবায় ব্যাঙ্ক দুর্নীতি মামলা। এই ঘটনায় অর্জুনের প্রায় গোটা পরিবার অভিযুক্ত। যা থেকে বাঁচার চাপ রয়েছে তাঁর ওপর।

৪. ২০১৯-এ যে দীনেশ ত্রিবেদীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে তৃণমূল ছেড়েছিলেন অর্জুন লোকসভা নির্বাচনে হারের পর তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু ২০২১-এর ফেব্রুয়ারিতে বিধানসভা নির্বাচনের আগে নাটকীয়ভাবে রাজ্যসভার সদস্যপদে ইস্তফা দেন তিনি। ফলে আপাতত তৃণমূলে বারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের টিকিটের দাবিদার কেউ নেই।

৫. তাছাড়া পুকভোটের মুখে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন অর্জুনের পরিবারের একাধিক সদস্য। তখন থেকেই জল্পনা শুরু হয়, তৃণমূলে ফিরতে পারেন অর্জুনও। 

সোমবার যে ভাষায় অর্জুন কথা বলেছেন তাতে বিজেপির সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদের শুরু হল বলে মনে করছেন অনেকে। সেদিন সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বস্ত্রমন্ত্রীকে আক্রমণ করেন তিনি। যা বিদ্রোহ ঘোষণার সামিল। প্রশ্ন হল, বঞ্চনা নিয়ে এতদিন কেন চুপ করে ছিলেন তিনি? কেনই বা মুখ খোলার জন্য বেছে নিলেন এই সময়?

 

বন্ধ করুন