বারাসত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়
বারাসত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়

ধনখড়ের উপস্থিতি সত্বেও নির্বিঘ্নেই মিটল রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন

  • মঙ্গলবার সমাবর্তনে রাজ্যপাল বলেন, ‘শিক্ষা সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার ওপর যাতে কোনও কুপ্রভাব না পড়ে তার ওপর সবার আগে নজর রাখব।

বেশ কয়েক মাস নজিরবিহীন সংঘাতের পর অবশেষে কি বসন্ত এল রাজ্য – রাজ্যপাল সম্পর্কে? মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রথমবার কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে অবাধে যোগদান করলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। এদিন ছিল বারাসতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ সমাবর্তন। সেই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ছিলেন রাজ্যপাল তথা আচার্য জগদীপ ধনখড়। সমাবর্তন মিটেছে কোনও অশান্তি ছাড়াই।

মঙ্গলবার সমাবর্তনে রাজ্যপাল বলেন, ‘শিক্ষা সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার ওপর যাতে কোনও কুপ্রভাব না পড়ে তার ওপর সবার আগে নজর রাখব। অস্ত্র ছাড়া একটা দেশকে ধ্বংস করার উপায় তার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়া।‘ একই সঙ্গে এদিন সবাইকে মূলগত সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের কথাও মনে করান তিনি।

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই জগদীপ ধনখড়ের সঙ্গে রাজ্যের বিবাদ চরমে পৌঁছেছে। রাজ্য সরকারকে বারবার সাংবিধানিক দায়িত্ব মনে করিয়েছেন তিনি। পালটা রাজ্যপালকেও নিজের এক্তিয়ার স্মরণ করিয়েছে রাজ্য।

এই নিয়ে বিবাদের মধ্যেই কলকাতা ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে ব্রাত্য রয়ে গিয়েছেন রাজ্যপাল। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গিয়ে ছাত্রদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। তাঁকে ঘিরে একযোগে বিক্ষোভ দেখায় বামপন্থী ও তৃণমূল সমর্থক পড়ুয়ারা। এমনকী কোচবিহার ঠাকুর পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনের আমন্ত্রণপত্রে আচার্যের নাম না থাকার অভিযোগ ওঠে।

সেই ধারার ছেদ ঘটল বারাসতে। এই প্রথম নির্বিঘ্নে সমাবর্তনে যোগ দিলেন তিনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের ফল দেখে বিজেপি বিরোধিতার পন্থা বদলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যে ভাবে পরোক্ষ আক্রমণের পথে গিয়ে প্রবল পরাক্রমী বিজেপিকে ফের রুখে দিয়েছেন কেজরিওয়াল, ঠিক সেই পথেই হাঁটতে চাইছেন তৃণমূলনেত্রী। তাই কট্টর বিজেপি বিরোধিতা ছেড়ে চিরায়ত সৌজন্যের পথে হাঁটতে চাইছেন তিনি।



বন্ধ করুন