বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > সিপিআই (‌মাওবাদী)‌–র প্রতিষ্ঠা দিবসে বাঁকুড়ার সেরেঙ্গায় ফের উদ্ধার মাও–পোস্টার
প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

সিপিআই (‌মাওবাদী)‌–র প্রতিষ্ঠা দিবসে বাঁকুড়ার সেরেঙ্গায় ফের উদ্ধার মাও–পোস্টার

  • মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মাওবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য এক দশক আগে তৈরি হওয়া কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স (সিআইএফ) পুনরায় সক্রিয় করার জন্য পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন।

ফের জঙ্গলমহলে উদ্ধার মাওবাদী পোস্টার। তবে এবার ঝাড়গ্রাম নয়, বাঁকুড়ার সেরেঙ্গায় পাওয়া গিয়েছে হাতে লেখা চারটি মাওবাদী পোস্টার। সোমবারের ঘটনা। সিপিআই (‌মাওবাদী)‌–র নামে ওই চারটি পোস্টারের মধ্যে দুটি পাওয়া গিয়েছে স্থানীয় রাজ্য ভূমি ও ভূমি সংস্কার বিভাগের একটি কার্যালয় প্রাঙ্গণে।

আর ঘটনাচক্রে সোমবার ছিল সিপিআই (‌মাওবাদী)–র প্রতিষ্ঠা দিবাস। ২০০৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী – লেনিনবাদী) ও পিপল্‌স ওয়ার অ্যান্ড মাওবাদী কমিউনিস্ট সেন্টার অফ ইন্ডিয়া (এমসিসিআই) একটি সংস্থায় একত্রিত হয়েছিল।

অগস্টের পর এই নিয়ে তৃতীয়বার পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলে এমন হাতে লেখা মাওবাদী পোস্টার পাওয়া গেলে। ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়ার এই সব এলাকাই বাম আমলে মাওবাদীদের ডেরায় পরিণত হয়েছিল। উল্লেখ্য, এই সব এলাকার বেশিরভাগ বাসিন্দাই আদিবাসী।

অগস্টে স্বাধীনতা দিবসের ঠিক আগের দিন ঝাড়গ্রামের ভুলেভেদা এলাকা থেকে প্রায় এক ডজন মাওবাদী পোস্টার উদ্ধার করে পুলিশ। ওই পোস্টারে স্থানীয় বাসিন্দাদের এই স্বাধীনতা দিবসকে কালা দিবস হিসেবে পালন করতে বার্তা দেওয়া হয়। এর পর ৪ সেপ্টেম্বর ফের ঝাড়গ্রামেরই বেলপাহাড়ি থেকে কিছু হাতে–লেখা মাওবাদী পোস্টার পাওয়া যায়।

সেরেঙ্গা থানার ওসি সূর্যশঙ্কর মণ্ডল ‘‌হিন্দুস্তান টাইম্‌স’‌–কে জানিয়েছেন, সোমবার যে ওই পোস্টারগুলি মাওবাদীরাই লাগিয়েছেন তার কোনও প্রমাণ সেভাবে নেই। কারণ, মাওবাদীদের অস্তিত্বই তো এখন নেই। ২০১১ সালে বার তার পরে রাজ্যের প্রত্যেক মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছেন। সরকার তাঁদের পুনর্বাসিত করেছে। তাঁদের বেশিরভাগই সরকারি চাকরি পেয়েছেন। বাকিরা অপেক্ষা করছেন অন্য সুযোগের জন্য।

সূর্যশঙ্করবাবু আরও জানান, মাওবাদীদের ঘাঁটি গাড়তে গেলে গ্রামবাসীদের সমর্থন দরকার। কিন্তু সেই সমর্থন পাওয়া আর সম্ভব নয়, কারণ এখন গ্রামের মানুষদের ভাবনা–চিন্তায় আমূল পরিবর্তন ঘটেছে।

নিজের পরিচয় গোপন রেখে এক আইবি অফিসার জানিয়েছেন, ২০০৯ ও ২০১১ সালে পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং ঝাড়গ্রাম কার্যত মাওবাদীদের কাছে কার্যত একটা মুক্তাঞ্চল হয়ে গিয়েছিল। তা বলে এখন যে সরকার যে চুপচাপ বসে আছে, এমন কোনও ব্যাপার নেই। এর আগে এ সব এলাকায় গুলির লড়াইয়ে প্রায় সাড়ে ৩০০ জন সাধারণ মানুষ এবং ৫০ জন পুলিশ বা নিরাপত্তারক্ষীর মৃত্যু হয়েছে। প্রায় ৮০ জনের বেশি মাওবাদী ও মাওবাদী কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। ২০১১ সালে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর এ সব বন্ধ হলেও আমরা এখনও সতর্ক রয়েছি।

গত মাসে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মাওবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য এক দশক আগে তৈরি হওয়া কাউন্টার ইনসারজেন্সি ফোর্স (সিআইএফ) পুনরায় সক্রিয় করার জন্য পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। ৭ সেপ্টেম্বর রাজ্য পুলিশের ডিজি বীরেন্দ্র ঝাড়গ্রাম এবং পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিদর্শন করেন এবং সুরক্ষা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করে যান।

বন্ধ করুন