বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > একই জেলায় পরপর দুটি জুটমিল বন্ধ, অভাব–অনটনে দিশেহারা শ্রমিকদের পরিবার
দুটি কারখানা মিলিয়ে সাতহাজার শ্রমিক আজ কর্মহীন। (PTI)
দুটি কারখানা মিলিয়ে সাতহাজার শ্রমিক আজ কর্মহীন। (PTI)

একই জেলায় পরপর দুটি জুটমিল বন্ধ, অভাব–অনটনে দিশেহারা শ্রমিকদের পরিবার

  • করোনাভাইরাসের জেরে রোজগার সবার কমেছে। পকেটে টান পড়েছে শ্রমিকদের। তার মধ্যেই মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল। কারণ এই দুটি কারখানা মিলিয়ে সাতহাজার শ্রমিক আজ কর্মহীন।

অন্ধকার নেমে এলো হুগলির শিল্পাঞ্চল এলাকায়। কারণ কয়েকদিনের ব্যবধানে হুগলি শিল্পাঞ্চলে দু’টি কারখানা (কুন্তীঘাটের কেশোরাম রেয়ন এবং চন্দনননগরের গোন্দলপাড়া জুটমিল) বন্ধ হয়ে গেল। করোনাভাইরাসের জেরে রোজগার সবার কমেছে। পকেটে টান পড়েছে শ্রমিকদের। তার মধ্যেই মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল। কারণ এই দুটি কারখানা মিলিয়ে সাতহাজার শ্রমিক আজ কর্মহীন।

জানা গিয়েছে, গত ২২ মে বন্ধ হয়েছে কেশোরাম রেয়ন। এখানকার শ্রমিকরা বলছেন, ‘ছেলে–মেয়ের পড়াশোনা কি করে চলবে তা ভেবে উঠতে পারছি না। ভেবে পাচ্ছি না কী করে সংসার চালাব। এই বয়সে নতুন করে কাজ কে দেবে? কারখানায় দেড় মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। আমরা মনেপ্রাণে চাইছি, অবিলম্বে কারখানা খুলে দেওয়া হোক।’‌

এই কারখানা খুলতে শ্রমমন্ত্রী বেচারাম মান্না একটি ত্রিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন। কারখানা কর্তৃপক্ষ তাঁদের আর্থিক মন্দার কথা জানিয়েছেন মন্ত্রীকে। রাজ্য সরকার কারখানা কর্তৃপক্ষকে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছে বলে খবর। কারখানার শাসকদলের শ্রমিক সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক চন্দন রায়চৌধুরী বলেন, ‘কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি বৈঠকের কথা রয়েছে। কর্তৃপক্ষ অবশ্য বকেয়া বেতন মিটিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। এখন দেখা যাক।’‌

গোন্দলপাড়ার জুটমিল কর্তৃপক্ষ গত সোমবার শ্রমিক অসন্তোষের কারণ দেখিয়ে কারখানা বন্ধ করে দেন। এখন তাঁরা অসহায়। আর মিল ফের বন্ধের জন্য বিজেপি রাজ্য সরকারকেই দায়ী করেছে। বিজেপির হুগলি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘নতুন কারখানা দূরঅস্ত। যেকটি চালু আছে তাও রাজ্য সরকার রক্ষা করতে পারছে না।’‌ পাল্টা তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি দিলীপ যাদব বিজেপির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘দু’টি কারখানাই দ্রুত খোলার জন্য রাজ্য সরকার চেষ্টা চালাচ্ছে। মুখে বড় বড় কথা বলে লাভ নেই।’

বন্ধ করুন