কেএল রাহুল এবং শ্রেয়স আইয়ার কি ফিট? এবং যদি তাঁরা ফিট হন, তা হলে কি কোনও প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ না খেলেই ভারতের এশিয়া কাপ স্কোয়াডে তাঁদের সরাসরি খেলানো সঠিক হবে? প্রতিটি ভারতীয় ক্রিকেট ভক্তের মনে এই দু'টি প্রশ্ন এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন ফেলেছে।
এর উত্তর সম্ভবত রবিবার পাওয়া যেতে পারে। কারণ সেই দিন অজিত আগরকরের নেতৃত্বাধীন সিনিয়র পুরুষ নির্বাচক কমিটি ৩০ অগস্ট থেকে শুরু হতে চলা ২০২৩ এশিয়া কাপের জন্য ১৫-সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করবে।
এটা সত্যি যে, ভারত যে কোনও পরিস্থিতিতেই শ্রেয়স আইয়ার এবং কেএল রাহুল দু'জনকেই শুধু তাদের দলে নয়, একাদশেও চাইবে। এর পিছনে যুক্তিসঙ্গতও কারণ আছে। দু'টি সেঞ্চুরি সহ ৪৭ গড়ে শ্রেয়স আইয়ার গত কয়েক বছরে ভারতের চার নম্বরে নির্ভরযোগ্য হিসেবে নিজেবে প্রমাণ করেছেন। ডানহাতি ব্যাটার স্পিনারদের বিরুদ্ধে দুরন্ত পারফরম্যান্স করে থাকেন। যা উপমহাদেশের পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কেএল রাহুল আবার স্টাম্পের পিছনে উইকেটকিপার হিসেবে ঠিকঠাক পারফরম্যান্স করার পাশাপাশি নির্বিঘ্নে ৫ নম্বরে মানিয়ে নিয়েছেন। তাঁরা দলে থাকলে, শুধুমাত্র ভারতের ব্যাটিং-অর্ডার শক্তিশালী হয়, এমনটা নয়, পাশাপাশি দলের ভারসাম্যও যোগ করে।
আরও পড়ুন: এটা ওদের সমস্যা, আমার নয়- দ্রাবিড়, রোহিতের প্রত্যাশা নিয়ে বাউন্সার দিলেন বুমরাহ
কিন্তু এশিয়া কাপের মতো টুর্নামেন্টে সরাসরি একাদশে তাঁদের খেলানোটা কি ঝুঁকিপূর্ণ হবে না? রাহুল এবং আইয়ার উভয়েই তাঁদের ফিটনেস প্রমাণ করতে বেঙ্গালুরুর জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে কমপক্ষে দু'টি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছেন। দু'জনের মধ্যে তুলনামূলক ভাবে রাহুল ভালো জায়গায় রয়েছেন। তবে শ্রেয়স এখনও ১০০ শতাংশ ফিট নন।
ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মা, প্রধান কোচ রাহুল দ্রাবিড়ের পাশাপাশি নির্বাচকেরাও রাহুল এবং শ্রেয়স আইয়ারকে অপরিহার্য মনে করেন। তবে তাঁরা ফিট না হতে পারলে, সূর্যকুমার যাদব আর ইশান কিষানের মতো খেলোয়াড়রা একাদশে জায়গা নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে।
এশিয়া কাপ নির্বাচন নিয়ে স্টার স্পোর্টসে বিশেষ অনুষ্ঠান চলাকালীন এই বিষয়টি নিয়েই ভারতের প্রাক্তন প্রধান কোচ রবি শাস্ত্রী, প্রাক্তন নির্বাচক প্রধান সন্দীপ পাতিল এবং এমএসকে প্রসাদের মধ্যে বাগযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়।
এই তিন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটারের মধ্যে ঠিক কী কথোপকথন হয়েছিল, তা দেখে নিন এক নজরে-
এমএসকে প্রসাদ: কেএল রাহুল এবং শ্রেয়স আইয়ার ফিট থাকলে কী হবে?
রবি শাস্ত্রী: ওদের আগে কিছু ম্যাচ খেলতে হবে। এশিয়া কাপের আগেই ওদের কিছু ম্যাচ খেলিয়ে দেখতে হবে।
এমএসকে প্রসাদ: ঠিক আছে, ধরা যাক ম্যাচ খেলে ওরা ফিট প্রমাণিত হল!
রবি শাস্ত্রী: ওরা এখন কোথায় খেলবে? সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যে শুরু হবে এশিয়া কাপ।
এমএসকে প্রসাদ: আমি কেএল রাহুলকে এনসিএ-তে খেলতে দেখেছি। ওকে ফিট লেগেছে। শেষ পর্যন্ত ও দলে থাকতে পারে।
সন্দীপ পাতিল: নেটে খেলা আর ম্যাচে খেলা সম্পূর্ণ আলাদা।
এমএসকে প্রসাদ: স্যান্ডি ভাই রাহুলের জন্য ইতিমধ্যে ওরা দু'টি ম্যাচের আয়োজন করেছিল।
সন্দীপ পাতিল: তবে কি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ ছিল? প্রীতি ম্যাচ খেলা এবং রান করা সহজ।
রবি শাস্ত্রী: চোট হতেই পারে, তবে খুব সতর্ক থাকতে হবে। বুমরাহকে নিয়ে সাথে একবার-দু'বার নয়, তিন বার চেষ্টা করা হয়েছিল, মানে ও ১৪ মাস ধরে বাইরে বসে ছিল।
শেষ পর্যন্ত, তাঁরা যে স্কোয়াড তৈরি করেছিল, তাতে শ্রেয়স আইয়ার বা রাহুল কেউই ছিলেন না। সূর্যকুমার যাদব, ইশান কিষান এবং তরুণ তিলক বর্মাকে তাঁরা বেছে নিয়েছিলেন।