বাংলা নিউজ > ভোটযুদ্ধ ২০২১ > পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন 2021 > আবারও রক্ত ঝরল শীতলকুচিতে, গুলি লেগে মৃত্যু যুবকের
আবারও প্রাণ ঝরল শীতলকুচিতে, দু’‌দলের সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে গুলি লেগে মৃত্যু যুবকের। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য পিটিআই)
আবারও প্রাণ ঝরল শীতলকুচিতে, দু’‌দলের সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে গুলি লেগে মৃত্যু যুবকের। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য পিটিআই)

আবারও রক্ত ঝরল শীতলকুচিতে, গুলি লেগে মৃত্যু যুবকের

  • ভোট মিটলেও 'শীতল' হল না শীতলকুচি।

ভোট মিটলেও 'শীতল' হল না শীতলকুচি। ভোটের ফল প্রকাশের পরবর্তী হিংসায় উত্তপ্ত হয়ে উঠল সেই শীতলকুচিই। চলল গুলি। মৃত্যু হল একজনের।

চতুর্থ দফা ভোটের দিনই শিরোনামে চলে এসেছিল শীতলকুচি। কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারাতে হয় ৪ জনকে। ঘটনা ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নয় গোটা এলাকা। তোলপাড় হয়ে যায় রাজ্য রাজনীতি। এবার ভোটের ফল প্রকাশের পর পরবর্তী রাজনৈতিক সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হল এক যুবকের।

জানা গিয়েছে, ওই যুবকের সঙ্গে রাজনৈতিক দলের কোনও সম্পর্ক নেই। বাড়ির বাইরে গুলির আওয়াজ শুনে কী হয়েছে দেখতে গিয়েছিলেন। তখনই দু’‌দলের সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর। ঘটনাটি ঘটেছে শীতলকুচির ছোট শালবাড়ি এলাকায়। অবশ্য কে বা কারা এই গুলিচালনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট হয়নি। তবে দু’‌দলের সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে ওই যুবক আক্রান্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ জানিয়েছেন তাঁর পরিবার।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবারে ভোটের ফল ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই শীতলকুচি বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক সংঘর্ষ শুরু হয়। ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠে একাধিক এলাকা। ঘটনার সময় বিজেপি কর্মীদের বাড়ি ঘর ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠে তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে। ওই সময় শীতলকুচি ছোট শালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ঝামেলা শুরু হয়। মুড়ি-মুড়কির মতো গুলি চলতে শুরু করে এলাকায়। সেই সময় মানিক মৈত্র নামের ওই যুবক কী হচ্ছে, তা দেখতে বাড়ি থেকে বের হন। আর তখনই দু’‌দলের সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে যান। সেই সময় ভিড়ের মধ্যে থেকে একটি গুলি ছিটকে এসে তাঁর পেটে লাগে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেই চিকিৎসা চলাকালীন মৃত্যু হয় তাঁর। মৃত যুবকের আত্মীয় কার্তিক মৈত্র বলেন, ‘‌দু’‌দলের মধ্যে সংঘর্ষ হচ্ছিল। তাদের মধ্যে কারা গুলি চালিয়েছে সেটা বোঝা যাচ্ছে না।’‌ তিনি জানিয়েছেন, মানিক মৈত্র কোনও রাজনৈতিক দলের কর্মী ছিলেন না। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। ঘটনার তদন্ত শুরু করে তারা।

চতুর্থ দফার ভোটের দিন শীতলকুচির ১২৬ নম্বর বুথে দুষ্কৃতীর গুলিতে মৃত্যু হয় আনন্দ বর্মন নামের এক কিশোরের। পরে আধাসেনার ছোড়া গুলিতে মৃত্যু হয় চার ভোটারের। সেই শীতলকুচি বিধানসভা নির্বাচনে গতকাল জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী বরেণ বর্মন। ব্যবধানটা নেহাতই কম নয়। ভোট গণনা শেষে দেখা গিয়েছে ১৭ হাজার ১১৫ ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন বিজেপি প্রার্থী। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন তৃণমূলের প্রার্থী পার্থ প্রতিম রায়।

বন্ধ করুন