বাংলা নিউজ > ভোটযুদ্ধ ২০২১ > পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন 2021 > প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি, এক নজরে দেখে নিন বিজেপির ‘সংকল্প পত্র’
রবিবার বিধাননগরে বিজেপির সংকল্পপত্র প্রকাশ করছেন অমিত শাহ।
রবিবার বিধাননগরে বিজেপির সংকল্পপত্র প্রকাশ করছেন অমিত শাহ।

প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি, এক নজরে দেখে নিন বিজেপির ‘সংকল্প পত্র’

  • এদিন শাহ বলেন, স্বাধীনতার পর গোটা দেশকে শিল্প, সংস্কৃতি, আধ্যাত্মবাদে পথ দেখাত বাংলা। তখন দেশের শিল্পোৎপাদনে বাংলার অবদান ছিল ৩০ শতাংশ। এখন তা কমে ৩.৫ শতাংশ হয়েছে।

রবিবার সন্ধ্যায় কলকাতা লাগোয়া পূর্বাঞ্চলীয় সংস্কৃতি কেন্দ্রে বিজেপির ইস্তেহার প্রকাশ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিজেপির ইস্তেহারে রয়েছে একাধিক চমক। ইস্তেহার প্রকাশের আগে শাহ বলেন, ইস্তেহার শুনে আমাকে প্রশ্ন করবেন না যে এর টাকা কোথা থেকে আসবে? আমি বণিক পরিবারের সদস্য, পাই পয়সার হিসাব করে ইস্তেহার বানিয়েছি। 

এদিন শাহ বলেন, স্বাধীনতার পর গোটা দেশকে শিল্প, সংস্কৃতি, আধ্যাত্মবাদে পথ দেখাত বাংলা। তখন দেশের শিল্পোৎপাদনে বাংলার অবদান ছিল ৩০ শতাংশ। এখন তা কমে ৩.৫ শতাংশ হয়েছে। কংগ্রেস বাম ও তৃণমূলে মিলে বাংলাকে অধঃপাতে নিয়ে গিয়েছে।

এক নজরে বিজেপির ইস্তেহার

রাজ্য সরকারি চাকরিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ

পিএম কিসান ৭৫ লক্ষ কৃষককে বকেয়া ১৮,০০০ টাকা। সঙ্গে প্রতি বছর ৬,০০০ টাকা দেবে কেন্দ্র ও অতিরিক্ত ৪,০০০ টাকা দেবে রাজ্য সরকার। অর্থাৎ বছরে ১০,০০০ টাকা করে পাবেন কৃষকরা।

মৎস্যজীবীদের বছরে ৬,০০০ টাকা করে অনুদান।

প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকে আয়ুষ্মান ভারত লাগু করা হবে পশ্চিমবঙ্গে।

সীমান্ত সুরক্ষায় জোর  দেবে বিজেপি সরকার।

অনুপ্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ হবে।

ক্যাবিনেটের প্রথম বৈঠকে CAA লাগু করতে রাজ্য সরকার। নাগরিকত্ব পাবেন মতুয়া-সহ অন্যান্য উদ্বাস্তুরা।

মুখ্যমন্ত্রী উদ্বাস্তু কল্যাণ যোজনায় ৫ বছর ধরে প্রত্যেক উদ্বাস্তু পরিবারকে বছরে ৫,০০০ টাকা করে দেওয়া হবে। 

OBCদের জন্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা করবে বিজেপি সরকার। মাহিষ্য ও তিলিরা সংরক্ষণের আওতায় আসবেন।

পোস্ট গ্র্যাজুয়েট পর্যন্ত মহিলাদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পড়াশুনোর ব্যবস্থা করবে বিজেপির সরকার।

সরকারি পরিবহণে বিনা ভাড়ায় যাতায়াত করতে পারবেন মহিলারা।
কৃষক সুরক্ষা যোজনার অধীনে ভূমিহীন কৃষককে বছরে ৪,০০০ টাকা করে দেবে সরকার।

উত্তরবঙ্গ, সু্ন্দরবনে এইমস তৈরি করবে বিজেপি সরকার।

সব পরিবারে অন্তত ১ জনকে উপার্জনের ব্যবস্থা করবে।

সপ্তম বেতন কমিশনের সুবিধা পাবেন সমস্ত রাজ্য সরকারি কর্মচারী। 

CMO র অধীনে দুর্নীতিদমন শাখার হেল্পলাইন তৈরি করা হবে।

শৌচালয়, বিশুদ্ধ পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া হবে প্রতিটি বাড়িতে।

নোবেল প্রাইজের অনুকরণে টেগোর প্রাইজ ও অস্কারের অনুকরণে সত্যজিত রায় ইন্টারন্যাশনাল এওয়ার্ড চালু করা হবে।

১১,০০০ কোটির সোনার বাংলা ফান্ড তৈরি করবে বিজেপি সরকার।

বালিকা আলোর দলিত, আদিবাসী বালিকাদের ষষ্ঠ, নবম ও একাদশ শ্রেণিতে আর্থিক সাহায্য মিলবে। 

বিধবা পেনশন ১,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে মাসিক ৩,০০০ টাকা করা হবে।

৯ মহিলা পুলিশ ব্যাটেলিয়ন, ৩ রিজার্ভ মহিলা পুলিশ ব্যাটেলিয়ন করা হবে।

ফসলের দাম ধরে রাখতে ৫০০০ কোটি ইন্টারভেনশন ফান্ড। দাম পড়ে গেলে এই ফান্ড থেকে টাকা খরচ করবে সরকার। 

কৃষি পরিকাঠামো উন্নয়নে ২০,০০০ টাকা বরাদ্দ হবে।

কিসান ক্রেডিট কার্ডের জায়গায় রুপে কার্ড দেবে বিজেপি সরকার।

১০০ শতাংশ মাছ ধরার নৌকা যন্ত্রচালিত করা হবে। 

সেচসেবিত জমির পরিমাণ ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হবে।

৫টি মেগা দুধ প্রসেসিং ইউনিট আমুলের সঙ্গে যৌথ ভাবে।

স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় ১০,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করবে বিজেপি সরকার।

আশা কর্মীদের বেতন ৪,৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬,০০০ টাকা করা হবে। 

নার্সিং ও মেডিক্যাল কলেজের সিট দ্বিগুণ করা হবে ৫ বছরের মধ্যে।

স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়নে ২০,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হবে।

IIT ও IIM-এর অনুকরণে গবেষণা কেন্দ্র তৈরি হবে বাংলায়।

স্থানীয় ভাষায় স্কুলে পড়াশুনোয় জোর দেওয়া হবে।

রাজ্য সরকারি নিয়োগে দুর্নীতি বন্দ করতে কমন এন্ট্রান্স পরীক্ষার আয়োজন করা হবে।

শৌলেন মান্না স্পোর্টস বিশ্ববিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করবে বিজেপি।

খেলো বাংলা ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন হবে প্রতি বছর।

আমফান দুর্নীতির তদন্তে বিশেষ জোর দেবে বিজেপি সরকার।

কোল,বালি পাচারের তদন্তে টাক্স ফোর্স তৈরি করবে।

আধাসামরিক বাহিনীতে নারায়ণী ব্যাটেলিয়ন তৈরি হবে।

নির্বাচন অবাধ করতে সমস্ত চেষ্টা করবে বিজেপি।

হুইসেল ব্লোয়ারকে নিরাপত্তা দিতে আইন আনবে তারা।

ইনভেস্ট বাংলা মিশনের অধীনে ওয়ান উইন্ড ক্লিয়ারেন্স ফেসিলিটি চালু করা হবে।

MSME-কে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনা সুদে ঋণ দেবে বিজেপি সরকার।

চট শিল্পের আধুনীকিকরণে ১৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হবে। 

শিলিগুড়ি থেকে কলকাতা পর্যন্ত নেতাজি এক্সপ্রেসওয়ে তৈরি করবে বিজেপি। সঙ্গে রাজ্যের সড়ক পরিকাঠামো উন্নয়নে ১ লক্ষ কোটি টাকা খরচ করা হবে।

বাগডোগরা বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মর্যাদা দেওয়ার ব্যবস্থা হবেয

বালুরঘাট, কোচবিহারে উড়ান। পুরুলিয়ায় এয়ারপোর্ট তৈরি হবে।

সমস্ত বকেয়া রেল প্রকল্প সম্পূর্ণ করা হবে।

গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক করতে ২,৫০০ কোটি টাকা খরচ করা হবে।

প্রত্যেক পুরুহিতকে মাসিক ৩,০০০ টাকা। কীর্তন গায়কদের ৬০ বছর হলে ৩,০০০ টাকা ভাতা দেবে বিজেপি সরকার। 

রাষ্ট্রসংঘে বাংলা ভাষাকে স্বীকৃতি দিতে চেষ্টা করবে বিজেপি।

সরকারি কাজে বাংলা ভাষা বাধ্যতামূলক করবে তাদের সরকার।

সোনারপুরে মহানায়ক উত্তম কুমার ফিল্ম সিটি তৈরি হবে।

কলকাতায় সোনার বাংলা সংগ্রহশালা হবে।

শান্তিনিকেতনের জন্য ১৫০ কোটি টাকা খরচ করবে বিজেপির সরকার।

কলকাতার দুর্গাপুজোকে আন্তর্জাতিক উৎসব করা হবে।

গঙ্গার পাড়ে ঘাট তৈরি হবে, হবে গঙ্গাআরতির ব্যবস্থা।

১০ শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা বাধ্যতামূলক করবে বিজেপি সরকার।

মেডিক্যাল ও ইঞ্জিনিয়ারিং বাংলায় পড়ানোর ব্যবস্থা হবে।

আন্তর্জাতিক ছবি তৈরিতে টলিউডের প্রযোজকদের সহায়তা করবে রাজ্য সরকার।

৯টি পর্যটন সার্কিট তৈরি হবে।

অন্নপূর্ণা ক্যান্টিন দিনে তিন বার ৫ টাকার বিনিময়ে খাবার মিলবে। 

চা বাগান শ্রমিকদের বেতন বাড়িয়ে ৩৫০ টাকা করা হবে।

মতুয়া দলপতিদের ৩,০০০ টাকার মাসিক ভাতা দেবে বিজেপি সরকার।

প্রত্যেক ব্লকে একলব্য স্কুল খোলা হবে।

কলকাতা ২২,০০০ কোটি টাকার কলকাতা বিকাশ ফান্ড তৈরি হবে।

 কলকাতায় ১০টা বহুতল পার্কিং হবে।

ইউনেসকোর হেরিটেজ ফান্ড পেতে ৫০০ কোটি টাকা খরচ করা হবে।

কালীঘাটে আদিগঙ্গা সংস্কার করবে বিজেপি সরকার।

নমামি গঙ্গে প্রকল্পের অধীনে গঙ্গাপাড়ের সৌন্দর্যায়ন হবে।

ঘাটাল, কান্দি ও উত্তরবঙ্গে বন্যা নিয়ন্ত্রণে মাস্টার প্ল্যান তৈরি করবে বিজেপি সরকার।

শেষে শাহ বলেন, ৭৩ বছর ধরে বাংলা শুধু পিছিয়ে গিয়েছে। ৫ বছরের জন্য নরেন্দ্র মোদীকে ভোট দিয়ে দেখুন। এবার অবাধ ভোট হবে। নিজের ভোট নিজে দিন।

বন্ধ করুন