বাড়ি > বায়োস্কোপ > সুস্মিতার বদলে ঐশ্বর্যকে মিস ইউনিভার্সের আসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আয়োজকরা!
১৯৯৪ সালে মিস ইন্ডিয়া প্রতিযোগীতার উইনার ও রানার্স আপ সুস্মিতা সেন ও ঐশ্বর্য রাই 
১৯৯৪ সালে মিস ইন্ডিয়া প্রতিযোগীতার উইনার ও রানার্স আপ সুস্মিতা সেন ও ঐশ্বর্য রাই 

সুস্মিতার বদলে ঐশ্বর্যকে মিস ইউনিভার্সের আসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আয়োজকরা!

  • ১৯৯৪ সালে মিস ইন্ডিয়া প্রতিযোগীতার বিজয়ী ছিলেন সুস্মিতা,দ্বিতীয়স্থান দখল করেন ঐশ্বর্য। শেষ মুহুর্তে সুস্মিতার জায়গায় ঐশ্বর্যকে মিস ইউনিভার্সের আসরে পাঠানোর কথা ভাবা হয়েছিল,কেন জানেন?

১৯৯৪ সালে প্রথম ভারতীয় মহিলা হিসাবে ব্রহ্মাণ্ড সুন্দরীর তাজ জিতে ইতিহাস রচনা করেছিলেন বঙ্গ তনয়া সুস্মিতা সেন। গত সপ্তাহেই মিস ইউনিভার্স খেতাব জয়ের ২৬ বছর পূর্তি সেলিব্রেট করলেন সুস্মিতা। যদিও এই সৌন্দর্য প্রতিযোগীতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ প্রায় হারাতে বসেছিলেন সুস্মিতা! সে কথা জানেন কি? গত বছর সাংবাদিক রাজীব মসন্দের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় সুস্মিতা জানান, দেশ ছাড়বার ঠিক আগের মুহূর্তে পাসপোর্ট হারিয়ে ফেলেছিলেন সুস্মিতা। তিনি বলেন,'পাসপোর্টটা সেই সময়কার ফেমাস মডেল তথা ইভেন্ট কো-অর্ডিনেটার অনুপমা বর্মাকে দেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশের একটা শোয়ের জন্য ও আমার পাসপোর্টটা নিয়েছিল, আইডি প্রুফের জন্য ওটা ওর দরকার ছিল। আমি মিস ইন্ডিয়া কমিটিকে বলেছিলাম চিন্তার কোনও কারণ নেই, আমার পাসপোর্ট সুরক্ষিত আছে। এরপর  শেষ মুহূর্তে অনুপমা আমার পাসপোর্ট খুঁজে পাচ্ছিল না! ভীষণ ভয়ঙ্কর মুহূর্ত ছিল সেটা’।

আরও বড় ধাক্কা অপেক্ষা করছিল সুস্মিতার জন্য। মিস ইন্ডিয়ার আয়োজকদের তরফে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় মিস ইন্ডিয়া ১৯৯৪-র রানার্স আপ ঐশ্বর্য রাইকে সু্স্মিতার জায়গায় মিস ইউনিভার্সের মঞ্চে পাঠানো হবে। মাসখানেক পরে অনু্ষ্ঠিত হতে চলা মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগীতার জন্য সুস্মিতাকে পাঠানো হবে। এই প্রস্তাবে ভীষণ রেগে গিয়েছিলেন সুস্মিতা। ‘যখন তুমি কিছু জেতো নিজের ট্যালেন্ট এবং পরিশ্রম দিয়ে তাহলে কেন সেটা তোমার থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হবে’?  প্রশ্ন উঠেছিল এই বঙ্গসুন্দরীর মনে।

১৯৯৪-র জানুয়ারিতে গোয়ায় আয়োজিত হয়েছিল মিস ইন্ডিয়ার আসর 
১৯৯৪-র জানুয়ারিতে গোয়ায় আয়োজিত হয়েছিল মিস ইন্ডিয়ার আসর 

 ‘বলাটা খুব সহজ ছিল,যে পাসপোর্ট হারিয়ে গেছে। মিস ওয়ার্ল্ড নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে। তাই তুমি তখন যেও,ততদিন আমরা তোমার পাসপোর্টের ব্যবস্থা করে ফেলব’, জানান এই প্রাক্তন বিশ্ব সুন্দরী। সেইসময় নাকি কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন সুস্মিতা। কাঁদতে কাঁদতে বাবার সামনে একটাই কথা বলেছিলেন, 'আমি যেতে হলে মিস ইউনিভার্সের মঞ্চেই ভারতের প্রতিনিধিত্ব করব না হলে কোথাউ যাব না। ওখানে যাওয়াটা আমার প্রাপ্য, তুমি কিছু একটা কর বাবা’।

মেয়ের কান্না দেখে সুস্মিতার বাবা দৌড়ে গিয়েছিলেন প্রয়াত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজেশ পাইটলের কাছে, তাঁকে সবরকম সাহায্য করেছিলেন রাজেশ পাইলট। সময় থাকতে থাকতে নতুন পাসপোর্ট পেয়েছিলেন সুস্মিতা।

এরপর ১৯৯৪ এর ২১ মে ফিলিপাইনের পাসে শহরে আয়োজিত ৪৩তম মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগীতার তাজ জিতে নেন সুস্মিতা। ৭৭ দেশের সুন্দরীদের মধ্যে সেরা নির্বাচিত হন বাঙালি কন্যা। নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার সান সিটিতে আয়োজিত মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগীতাতে সেরা নির্বাচিত হন ঐশ্বর্য রাইও। 

বন্ধ করুন