বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > দুর্গাপুজোয় চাঁদা কম দেওয়ায় ১৪টি আদিবাসী পরিবারকে একঘরে করল উদ্যোক্তারা
দুর্গাপুজোয় ৫০ টাকা কম চাঁদা দেওয়ায় ১৪টি জনজাতি পরিবারকে একঘরে ঘোষণা করল উদ্যোক্তারা।
দুর্গাপুজোয় ৫০ টাকা কম চাঁদা দেওয়ায় ১৪টি জনজাতি পরিবারকে একঘরে ঘোষণা করল উদ্যোক্তারা।

দুর্গাপুজোয় চাঁদা কম দেওয়ায় ১৪টি আদিবাসী পরিবারকে একঘরে করল উদ্যোক্তারা

  • আর্থিক দৈন্যে ভুগতে থাকা কিছু পরিবার বেশি চাঁদা দিতে পারেনি।তার জেরে উদ্যোক্তারা ওই ১৪টি পরিবারকে একঘরে ঘোষণা করে।

গ্রামের দুর্গাপুজোয় ৫০ টাকা কম চাঁদা দেওয়ায় ১৪টি জনজাতি পরিবারকে একঘরে করল উদ্যোক্তারা। ঘটনায় পুলিশি তদন্তের নির্দেশ দিয়ে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মধ্য প্রদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিরোত্তম মিশ্র। 

একমাস আগের ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসে বালাঘাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম সিং সোলাঙ্কির কাছে মোতে গ্রামের বাসিন্দারা অভিযোগ জানানোর পরে। ধন সিং পারতে নামে এক গ্রামবাসীর অভিযোগ, ‘গ্রামের গুন্ডারা গত অক্টোবর মাসে দুর্গা পুজোর মণ্ডপ তৈরিকরছিল। তারা প্রত্যেক গ্রামবাসীকে মাথাপিছু২০১টাকা চাঁদা দিতে বলে। কিন্তু আর্থিক দৈন্যে ভুগতে থাকা অল্প কিছু পরিবার ১৫১ টাকার বেশি চাঁদা দিতে পারেনি। কিন্তু উদ্যোক্তারা সে টাকা নিতে অস্বীকার করে এবং ওই ১৪টি পরিবারকে একঘরে ঘোষণা করে।’

সঘন সিং নামে আর এক গ্রামবাসী জানান, ‘এর পর গ্রামের অন্য বাসিন্দারা আমাদের তাঁদের জমিতে গরু-ছাগল চরানো এবং অন্যের খেতে কাজ করার উপরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। এমনকি গ্রামের প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আমাদের প্রবেশও নিষিদ্ধ হয়। গ্রামের কোনও অনুষ্ঠানেই আর আমাদের ডাকা হয় না।’

বালাঘাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম সিং সোলাঙ্কি বলেন, ‘গত বুধবার ১৪টি পরিবারের প্রতিনিধি অভিযোগ করতে এসে জানিয়েছেন, দুর্গা পুজোর মণ্ডপের জন্য চাঁদা না দেওয়ায় তাঁদের একঘরে করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, স্থানীয় লামটা থানায় কয়েক দিন আগে তাঁরা অভিযোগ জানিয়েছেন। থানার ওসি গ্রামে গিয়ে সতর্ক করলে উলটে অভিযোগকারীদের হেনস্থা করা শুরু করে গ্রামের লোক।’

মিশ্র জানিয়েছেন, ঘটনাটি অনুসন্ধানের জন্য পরসওয়াড়ার মহকুমা পুলিশ আধিকারিককে (এসডিপিও) মনির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই ১৪ পরিবারকে একঘরে করার পিছনে থাকা দোষীদের যথোপযুক্ত শাস্তি দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

অন্য দিকে কংগ্রেসের রাজ্য মুখপাত্র জে পি ধনোপিয়ার অভিযোগ, ‘মধ্য প্রদেশের আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। তফশিলি জাতি ও উপজাতীয়দের এবং মহিলাদের হেনস্থা হতে হচ্ছে আর বিজেপি নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের মন্ত্রীরা ফাঁকা বুলি বলে চলেছেন। পুলিশ ব্যবস্থা না নিলে ওই গ্রামে কংগ্রেসের প্রতিনিধিদল প্রতিবাদ জানাতে যাবে।’

বন্ধ করুন