বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > ‘বাঁদর খতম’, বালাকোটে এয়ার স্ট্রাইকের পর ভোর ৩.৪৫-তে ফোন দিল্লিতে
আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ২০১৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ভারতীয় সময় ভোর ৩ টে ৩০ মিনিটে পাঁচটি বোমা বালাকোটে আছড়ে পড়েছিল। তবে সফটওয়্যার সংক্রান্ত ত্রুটির জন্য ষষ্ঠ বোমাটি ছোড়া সম্ভব হয়নি। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য ফেসবুক @IndianAirForce)
আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ২০১৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ভারতীয় সময় ভোর ৩ টে ৩০ মিনিটে পাঁচটি বোমা বালাকোটে আছড়ে পড়েছিল। তবে সফটওয়্যার সংক্রান্ত ত্রুটির জন্য ষষ্ঠ বোমাটি ছোড়া সম্ভব হয়নি। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য ফেসবুক @IndianAirForce)

‘বাঁদর খতম’, বালাকোটে এয়ার স্ট্রাইকের পর ভোর ৩.৪৫-তে ফোন দিল্লিতে

বালাকোট ক্যাম্পের ভিতরের এক সূত্র থেকে বিভিন্ন গোপন তথ্য পেয়েছিল ভারত।

শিশির গুপ্ত

ঘড়ির কাঁটায় তখন ভোর ৩ টে ৪৫ মিনিট। ২০১৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি বিশেষ র‌্যাক্স (অত্যন্ত সুরক্ষিত ফিক্সড লাইন নেটওয়ার্ক) নম্বরে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের একটি ফোন এল। ওপ্রান্তে তৎকালীন ভারতীয় বায়ুসেনা প্রধান বিএস ধানোয়া। হিন্দিতে সংক্ষিপ্ত বার্তা দেন, ‘বাঁদর খতম’।

তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারামন, গোয়েন্দা সংস্থা 'র'-এর সচিব অনিল ধাসমানাকে ফোন করে একই বার্তা দেন ধানোয়া। ততক্ষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ‘বাঁদর' মেরে ফেলার খবর দিয়েছেনম ডোভাল। সেই সংক্ষিপ্ত বার্তার অর্থ ছিল, পাকিস্তানের অভ্যন্তরে বালাকোটে জইশ-ই-মহম্মদের জঙ্গি প্রশিক্ষণ ক্যাম্প গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। যে এয়ার স্ট্রাইক পুলওয়ামা হামলায় ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ানের মৃত্যুর প্রত্যুত্তরে চালানো হয়েছিল। 

কিন্তু ‘বাঁদর' কেন? বালাকোট এয়ারস্ট্রাইকের সঙ্গে যুক্ত শীর্ষ কর্তারা ‘হিন্দুস্তান টাইমস’-কে জানিয়েছেন, পাকিস্তানের গোয়েন্দা বিভাগকে বিভ্রান্ত করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবেই ‘বাঁদর' কোড নেম বেছে নেওয়া হয়েছিল। ভারতীয়দের আশা ছিল, ‘বাঁদর' হিসেবে জইশ প্রধান মাসুদ আজহারের কথা ভাবনাচিন্তা করবে পাকিস্তান। যে ভাওয়ালপুরে জইশের সদর দফতরে থাকছিল। সেই বিভ্রান্তি ছড়ানোর অঙ্গ হিসেবেই বালাকোট এয়ারস্ট্রাইকের আগে রাজস্থান সেক্টরে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছিল ভারত। পুলওয়ামা হামলার প্রত্যুত্তরের আশঙ্কার মধ্যে ভাওয়ালপুরের আকাশ ভারতীয় যুদ্ধবিমানকে চিহ্নিত করার জন্য সেদিকেই নজর দিয়েছিল পাকিস্তানি বায়ুসেনা। ফলস্বরূপ, ২৬ ফেব্রুয়ারি ভোরে ভারতীয় বায়ুসেনার মিরাজ ২০০০ যুদ্ধবিমান যখন বালাকোটে ৯০ কিলোর স্পাইস ২০০০ বোমা ফেলছে, তখন সবথেকে কাছে পাকিস্তানি বিমানেরও অবস্থান ছিল ১৫০ কিলোমিটার দূরে।

শুধু কোড নেম নয়, ২৬ ফেব্রুয়ারিতেই হামলা চালানোর বিষয়টিও সুপরিকল্পিত ছিল। ইচ্ছাকৃতভাবে দিনটা বেছে নিয়েছিল ভারতীয় বায়ুসেনা। তা ছিল পূর্ণিমার শেষ অংশ এবং পাকিস্তানের রেডারের নজর এড়িয়ে পীর পঞ্জাল রেঞ্জের নিচে দিয়ে ভারতীয় বায়ুসেনার বিমান সফলভাবে উড়ে গিয়েছিল। আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ভারতীয় সময় ভোর ৩ টে ৩০ মিনিটে পাঁচটি বোমা বালাকোটে আছড়ে পড়েছিল। তবে সফটওয়্যার সংক্রান্ত ত্রুটির জন্য ষষ্ঠ বোমাটি ছোড়া সম্ভব হয়নি। এয়ার স্ট্রাইকের খবরের মধ্যে ষষ্ঠ বোমাটি ছোড়া সম্ভব না হওয়ার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগে ছিলেন ভারতের জাতীয় সুরক্ষা বিষয়ক আধিকারিকরা। কারণ পাকিস্তানের ভুয়ো প্রচার রুখতে ওই অপটিকাল গাইডেন্সের কাজ ছিল প্রমাণ জোগাড় করা। 

পুলওয়ামা হামলার ১২ দিনের মাথায় সচালানো এয়ার স্ট্রাইকের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে আরও খুঁটিনাটি তথ্য সামনে আসছে। সেরকমই স্পাইস ২০০০-এর মতো বোমা বেছে নেওয়ার কারণও স্পষ্ট হয়েছে। আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ছবি অনুযায়ী হামলার আগেরদিন বালাকোট ক্যাম্পের কমপক্ষে ৩০০ জন জঙ্গি ছিল। যে ক্যাম্পের ভিতরের এক সূত্র থেকে বিভিন্ন গোপন তথ্য পেয়েছিল ভারত। সেই তথ্য 'র'-এর তৎকালীন ডেপুটি চিফ সামন্ত গোয়েলের মাধ্যমে ভারতীয় বায়ুসেনার কাছে পাঠানো হয়েছিল। তবে হামলার দু'বছর পরও স্পষ্ট নয়, বালাকোট ক্যাম্পের যে ব্যক্তি ভারতকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়েছিলেন, তিনি ভারতীয় বোমা থেকে বাঁচতে পেরেছিলেন কিনা।

বন্ধ করুন