মিসা আইনে যাঁদের আটক করা হয়েছিল, তাঁরা কেউ স্বাধীনতা সংগ্রামী ছিলেন না বলে জানিয়েছে ছত্তিশগড়ের কংগ্রেস সরকার।
মিসা আইনে যাঁদের আটক করা হয়েছিল, তাঁরা কেউ স্বাধীনতা সংগ্রামী ছিলেন না বলে জানিয়েছে ছত্তিশগড়ের কংগ্রেস সরকার।

‘মিসা’ আইনে জেলবন্দিদের ভাতা বন্ধ করল ছত্তিশগড় সরকার

  • রাজ্যের সাধারণ প্রশাসনিক দফতরের জারি করা নির্দেশে বলা হয়েছে, ২০০৮ সালের ৫ অগস্ট তত্কালীন বিজেপি সরকারের চালু করা এই ভাতা প্রকল্প বাতিল করা হল।

মিসা আইনে ১৯৭৫-১৯৭৭ সালে জেলবন্দিদের জন্য নির্দিষ্ট মাসিক ভাতা প্রকল্প বন্ধ করল ছত্তিশগড়ের কংগ্রেস সরকার।

বৃহস্পতিবার রাজ্যের সাধারণ প্রশাসনিক দফতরের জারি করা নির্দেশে বলা হয়েছে, ২০০৮ সালের ৫ অগস্ট তত্কালীন বিজেপি সরকারের চালু করা লোকনায়ক জয়প্রকাশ নারায়ণ সম্মান নিধি প্রকল্প বাতিল করা হল।

উল্লেখ্য, এই প্রকল্পের আওতায় মাসিক ভাতা দেওয়া হত জরুরি অবস্থা চলাকালীন মিসা বা ভারতীয় সুরক্ষা আইনে আটক ব্যক্তিদের।

পরিসংখ্যান বলছে, পূর্বতন মদ্যপ্রদেশের অংশ অধুনা ছত্তিশগড়ের প্রায় ৩০০ জন বাসিন্দা এই প্রকল্পের সুবিধা ভোগ করতেন। সত্তর দশকের মাঝামাঝি ইন্দিরা গান্ধী সরকারের জারি করা জরুরি অবস্থায় যাঁরা ৬ মাসের চেয়ে বেশি সময় কারাবন্দি থেকেছেন, তাঁদের মাসিক ২৫,০০০ টাকা এবং যাঁরা তার চেয়ে কম সময় জেলে কাটি্য়েছেন, তাঁদের জন্য মাসিক ১৫,০০০ টাকা ভাতার ব্যবস্থা করে মধ্যপ্রদেশ এবং ছত্তিশগড়ের পূর্বতন সরকার।

রাজ্যের বিজেপি নেতাদের অভিযোগ, ছত্তিশগড়বাসীর গণতান্ত্রিক অধিকার ও আবেগের বিরোধী বর্তমান কংগ্রেস সরকার।

বিরোধী দলনেতা ধর্মলাল কৌশিকের দাবি, ‘যাঁরা জরুরি অবস্থায় গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবিতে লড়াই করেছিলেন, তাঁদের জন্য নির্ধারিত ভাতা প্রকল্প বন্ধ করে কংগ্রেস সরকার স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছে যে, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের জন্য তাদের শ্রদ্ধা নেই।’

কংগ্রেস সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে কৌশিক জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করবে রাজ্য বিজেপি।

অন্য দিকে, কংগ্রেস দাবি করেছে, মিসা আইনে বন্দিরা আদৌ স্বাধীনতা সংগ্রামী ছিলেন না। হিন্দুস্তান টাইমস-কে ছত্তিশগড়ের স্বাস্থ্যমন্ত্রী টি এস সিংদেও জানিয়েছেন, ‘মিসা আইনে যাঁদের আটক করা হয়েছিল, তাঁরা কেউ স্বাধীনতা সংগ্রামী ছিলেন না। তাঁরা স্রেফ রাজনৈতিক আন্দোলনকারী ছিলেন। কেন তাঁদের কোনও সরকার ভাতা দেবে?’

বন্ধ করুন