বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > গণতান্ত্রিক সূচকে ভারতের পতন ঠেকাতে তৎপরতা, বিশদ খতিয়ে দেখছে কেন্দ্র
Nadia: People stand in a queue to cast their vote at a polling station during the 5th phase of State Assembly elections at Santipur, in Nadia, Saturday, April 17, 2021. (PTI Photo)(PTI04_17_2021_000012B) (PTI)
Nadia: People stand in a queue to cast their vote at a polling station during the 5th phase of State Assembly elections at Santipur, in Nadia, Saturday, April 17, 2021. (PTI Photo)(PTI04_17_2021_000012B) (PTI)

গণতান্ত্রিক সূচকে ভারতের পতন ঠেকাতে তৎপরতা, বিশদ খতিয়ে দেখছে কেন্দ্র

  • বর্তমানে ১৬৭টি স্বাধীন দেশের মধ্যে ভারত ৫৩তম স্থানে দাঁড়িয়ে।

অনীষা দত্ত

 

সম্প্রতি বিশ্বের গণতান্ত্রিক সূচকে বেশ কয়েক ধাপ পতন হয় ভারতের। ২০২০ সালে ১০ ধাপ নেমে যায় ভারত। চলতি বছরেও আরও দুই ধাপ নামে ভারত। এর জেরে বর্তমানে ১৬৭টি স্বাধীন দেশের মধ্যে ভারত ৫৩তম স্থানে দাঁড়িয়ে। এই পতনের জন্য ভারতের নাগরিক অধিকার খর্ব হওয়াকেই দায়ী করেছিল ব্রিটিশ গবেষণা সংস্থা ইকনমিস্ট ইনটেলিজেন্স ইউনিট। যা নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল জাতীয় রাজনীতি। এই পতনের জেরে চিন্তিত রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারও। তাই এবার বিভিন্ন মন্ত্রকের কাছে ব়্যাঙ্কিংয়ে ব্যবহৃত প্যারামিটারের বিশদ জানতে চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রক। জানা গিয়েছে গত ১ এপ্রিল এই চিঠি পাঠানো হয়েছে বিভিন্ন মন্ত্রকগুলিতে।

মূলত, ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস, ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম, মানব উন্নয়ন, গ্লোবাল ইনোভেশন এবং বিশ্ব জুড়ে পরিবেশগত ঝুঁকির মতো বিষয় খতিয়ে দেখে তৈরি করা হয় ইকনমিস্ট ইনটেলিজেন্স ইউনিটের বিশ্ব গণতান্ত্রিক সূচক।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে ভারত বিশ্ব গণতান্ত্রিক সূচকের ক্রমতালিকায় ২৭তম স্থানে ছিল। তখন ভারতের স্কোর ছিল ৭.৯২। তবে সেই স্কোর এবছর নেমে দাঁড়িয়েছে ৬.৬-এ। গতবছরও ভারতের স্কোর ৬.৯ ছিল। এই আবহে সূচকের উপর দিকে ওঠার লক্ষ্যে পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে কেন্দ্র। প্রাপ্ত নম্বরের উপর ভিত্তি করে মোট চারটি বিভাগ তৈরি করেছে ইকনমিস্ট ইনটেলিজেন্স ইউনিট- পূর্ণ গণতন্ত্র, ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র, মিশ্র শাসন ব্যবস্থা এবং স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা। তাতে ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র বিভাগে স্থান পেয়েছে ভারত।

কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রকের পাঠানো চিঠিতে লেখা হয়, ২০২০ সালের ৩০ জানুয়ারি মন্ত্রিপরিষদের সচিবের সভাপতিত্বে বিশ্ব সূচকে ভারতের র‌্যাঙ্কিং নিয়ে আলোচনা করার জন্য সচিবদের কমিটির একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সূচকগুলিতে পারফরম্যান্স উন্নয়নের জন্য ৩২টি আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সূচকের মাধ্যমে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্যারামিটারে ভারতের পারফরম্যান্স পরিমাপ ও পর্যবেক্ষণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই বৈঠকে আইন বিভাগকে যুক্তরাজ্যের ইকনমিস্ট ইনটেলিজেন্স ইউনিটের দ্বারা প্রকাশিত গণতান্ত্রিক সূচকে ভারতের পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষণ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

বহুত্ববাদ, নাগরিক স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতির মতো মোট পরিমাপ পাঁচটি বিভিন্ন বিভাগে ভাগ করা হয়। এর উপর ভিত্তি ইকনমিস্ট ইনটেলিজেন্স ইউনিট তাদের সূচক তৈরি করে। নাম জানাতে অনিচ্ছুক এক আধিকারিক জানান, সরকার গণতন্ত্র সূচকের জন্য যে পাঁচটি ক্ষেত্র পর্যবেক্ষণ করছে তা হল নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং বহুত্ববাদ, সরকারের কার্যকারিতা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং নাগরিক স্বাধীনতা। জানা গিয়েছে, নীতি আয়োগও অন্যান্য সূচকের তথ্য সংগ্রহ করছে।

নীতি আয়োগের ডেভেলপমেন্ট মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন অফিসকে এই সূচকগুলির পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়। যদিও হিন্দুস্তান টাইমস প্যারামিটারগুলির পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত এই কাজের অবস্থান নির্ধারণ করতে পারেনি। নীতি আয়োগের কাছে পাঠানো একটি বিশদ প্রশ্নপত্রের জবাব এখনও মেলেনি।

আন্তর্জাতিক সূচকে ভারতের ব়্যাঙ্কিংয়ের উন্নতির লক্ষ্যে ২০২০ সালের জুলাইতে একটি ভার্চুয়াল ওয়ার্কশপ করা হয়েছিল। সেই ওয়ার্কশপ ক্যাবিনেট সচিব রাজীব গৌবার নেতৃত্বে হয়েছিল। সেই সময় নীতি আয়োগের তরফে বলা হয়েছিল, ১৯টি আন্তর্জাতিক সংস্থার দ্বারা প্রকাশিত ২৯টি বৈশ্বিত সূচকের পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব ১৮টি মন্ত্রক এবং দপ্তরকে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে আরও তিনটি সূচ কসেই তালিকায় যোগ করা হয়েছিল। গতবছরের সেই বৈঠকের পর চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি ক্যাবিনেট সচিব রাজীব গৌবা জানান, খুব শীঘ্রই ফের এই বিষয়ে পর্যালোচনার লক্ষ্যে বৈঠক বসবে। এরপর ১ মার্চ কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রকের তরফে শ্রম মন্ত্রক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক, বিদেশ মন্ত্রককে একটি মেমো পাঠায় কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রক। তবে সেই মেমো সংক্রান্ত কোনও কথা বলতে অস্বীকার করেন ক্যাবিনেট সচিব রাজীব গৌবা। তবে সূত্রের খবর, ভারত সরকারের অভ্যন্তরে এমন একটি অংশ রয়েছে যা এই সূচকে ভারতের বিরুদ্ধে অন্তর্নিহিত পক্ষপাতিত্ব হয় বলে বিশ্বাস করে। 

 

বন্ধ করুন