বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > ইসলাম ছেড়ে হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করলেন ইন্দোনেশিয়ার রাজকন্যা
ছবি : টুইটার (Twitter)
ছবি : টুইটার (Twitter)

ইসলাম ছেড়ে হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করলেন ইন্দোনেশিয়ার রাজকন্যা

  • ২০১৮ সালে কট্টরপন্থী ইসলামিক দলগুলি সুকমাবতী সুকর্ণপুত্রীর বিরুদ্ধে 'অধার্মিক কথাবার্তা'-র অভিযোগ তুলেছিল।

হিন্দু ধর্মে ধর্মান্তরিত হলেন ইন্দোনেশিয়ার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি সুকর্ণোর মেয়ে সুকমাবতী সুকর্ণপুত্রী। মঙ্গলবার ২৬ অক্টোবর, তাঁর ৭০ তম জন্মদিন ছিল। সেই বিশেষ দিনেই হিন্দু ধর্মে ধর্মান্তরিত(স্থানীয় প্রথায় ‘সুধী ওয়াদানি’) হন তিনি।

ইন্দোনেশিয়ার নিউজ পোর্টাল Detiknews অনুসারে, সুকমাবতী ধর্মান্তরিত হওয়ার বিষয়ে জানিয়েছেন, স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি হিন্দু ধর্মে নেওয়ার কথা ভেবেছিলেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে তাঁর মতে, হিন্দুত্ব তাঁর পছন্দের ধর্ম। কারণ এর সঙ্গে বালিনিজদের সংস্কৃতির ঘনিষ্ঠতা রয়েছে।

সুকমাবতী ইন্দোনেশিয়ার প্রথম প্রেসিডেন্ট সুকর্ণোর তৃতীয় কন্যা। একইসঙ্গে তিনি ইন্দোনেশিয়ার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি মেগাবতী সুকর্ণপুত্রীর ছোট বোন। কট্টর ইসলামপন্থী নবম মাংকুনেগারা-র সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। কিন্তু ১৯৮৪ সালে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছিল।

ডাচ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে ইন্দোনেশিয়ার স্বাধীনতার সংগ্রামে তাঁর বাবা-মা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ১৯৪৫ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর, তাঁর বাবা সুকর্ণো প্রথম রাষ্ট্রপতি হন। ২২ বছর ধরে তিনি এই দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৭ সালে ক্ষমতাচ্যুত হন।

সুকর্ণপুত্রীর রাজনৈতিক দল (ইন্দোনেশিয়ান ডেমোক্রেটিক পার্টি) সূত্রে খবর, তাঁর ধর্মান্তরিত হওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে তাঁর ঠাকুমা নিওমান রাই শ্রীমবেনের প্রভাব ছিল। তিনি একজন হিন্দু ছিলেন।

সুকমাবতী নিজে গত ২০ বছর ধরে হিন্দু ধর্মে আগ্রহী ছিলেন। বালির প্রধান মন্দিরগুলি পরিদর্শন করেছেন তিনি। রামায়ণ এবং মহাভারতের মতো ভারতীয় মহাকাব্যও খুঁটিয়ে পড়েছেন।

ইন্দোনেশিয়ায় ইসলাম হল সবচেয়ে প্রচলিত ধর্ম। সেখানে জনসংখ্যার প্রায় নয়-দশমাংশ এই ধর্মাবলম্বী। ইন্দোনেশিয়ান ডেমোক্রেটিক পার্টির একজন প্রতিনিধি সিএনএনকে জানান, আপাতত সুকমাবতী হিন্দু অধ্যুষিত বালিতে থাকতে চান। মুসলিম অধ্যুষিত জাকার্তায় থাকতে নারাজ তিনি। এ বিষয়ে পরিবারকেও জানিয়েছেন সুকমাবতী।

২০১৮ সালে কট্টরপন্থী ইসলামিক দলগুলি সুকমাবতী সুকর্ণপুত্রীর বিরুদ্ধে 'অধার্মিক কথাবার্তা'-র অভিযোগ তুলেছিল। একটি কবিতা আবৃত্তি করার মাধ্যমে তিনি ইসলাম অবমাননা করেছেন বলে বিতর্ক শুরু হয়। বিতর্কিত ফ্যাশান শো-তে তিনি হিজাব বিরোধী কবিতা পড়েন বলে অভিযোগ। ইন্দোনেশিয়ার প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের মেয়ে তখন ক্ষমা চেয়েছিলেন। সেই সময়ে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি একজন গর্বিত মুসলমান।’

বন্ধ করুন