'হেট স্পিচ'-এর সংজ্ঞার পরিধি বিস্তৃত করার প্রস্তাব দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
'হেট স্পিচ'-এর সংজ্ঞার পরিধি বিস্তৃত করার প্রস্তাব দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

আঞ্চলিক হিংসায় মদতদায়ী ভাষণ 'হেট স্পিচ '-এর আওতাভুক্ত হোক, চান প্রধানমন্ত্রী

  • হেট স্পিচের সংশোধিত সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হতে চলেছে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কোনও রিপোর্ট, নিবন্ধ বা প্রবন্ধ, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, মন্তব্য এবং কার্টুন, যার মাধ্যমে আঞ্চলিক হিংসা ছড়াতে পারে।

দেশের নাগরিকদের সম্মান রক্ষার উদ্দেশে আঞ্চলিক হিংসায় মদত দেওয়া ভাষণ ‘হেট স্পিচ’-এর আওতায় রাখার প্রস্তাব দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই সংবাদ হিন্দুস্তান টাইমস-কে জানালেন দুই সরকারি আধিকারিক।

গত ডিসেম্বর মাসে রাজ্য পুলিশ প্রধান সম্মেলনে হেট স্পিচের সংজ্ঞা বিস্তৃত করার প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী। তার জেরে সম্প্রতি প্রতিটি রাজ্য ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকে কিছু অ্যাকশন পয়েন্ট পাঠিয়েছে ইনটেলিজেন্স ব্যুরো।

উল্লিখিত দুই আধিকারিক জানিয়েছেন, এই প্রস্তাবের মাধ্যমে মহারাষ্ট্রে একটি রাজনৈতিক দলের ইন্ধনে উত্তর ভারতীয়দের উপর আক্রমণ অথবা রাষ্ট্র বিরোধী বিবৃতির মাধ্যমে খলিস্তানের মতো পৃথক রাষ্ট্র গড়ার মতো ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। একই যুক্তিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কাশ্মীরি ছাত্রদের হেনস্তার পিছনেও উস্কানিমূলক ভাষণকেই দায়ী করা যায় বলে মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী।

হেট স্পিচের সংশোধিত সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হতে চলেছে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কোনও রিপোর্ট, নিবন্ধ বা প্রবন্ধ, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, মন্তব্য এবং কার্টুন, যার মাধ্যমে আঞ্চলিক হিংসা ছড়াতে পারে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দেওয়া নতুন প্রস্তাবে এ সবই রয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই আধিকারিকরা।

তবে জানা গিয়েছে, হেট স্পিচ সংক্রান্ত বর্তমান আইন অবিলম্বে সংশোধন করার প্রয়োজন রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন দুই আধিকারিক।

বর্তমানে হেট স্পিচের সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ধর্ম, জাতপাত, সংস্কৃতি বা জাতিগত বিদ্বেষমূলক ভাষণ। যদিও আইনে ‘হেট স্পিচ’ শব্দবন্ধনী কোথাও উল্লিখিত নেই। তবে এই ধরণের ভাষণকে চিহ্নিত করার জন্য ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫৩এ, ১৫৩বি, ২৯৫এ, ৫০৫(১), ৫০৫(২) ইত্যাদি ধারার সাহায্য নেওয়ার রীতি রয়েছে।

এই সমস্ত ধারায় বলা হয়েছে যে, যে কোনও শব্দগুচ্ছ যা ব্যবহার, কথা, লেখনী অথবা সংকেত বা দৃশ্যের সাহায্যে কোনও ধর্মীয় ভাবাবেগ, সংস্কৃতি, ভাষা, জাতি বা সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণা অথবা বিদ্বেষ তৈরি করতে পারে, তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এই সমস্ত আইনের ধারা ছাড়াও এ ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয় তথ্য প্রযুক্তি আইন, যার সাহায্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিদ্বেষমূলক ইন্ধন জোগানোর মতো ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করা যেতে পারে।

বর্তমান আইনের পর্যালোচনা করার উদ্দেশে আইনজীবী, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ও আইএএস আধিকারিকদের সাহায্য নেওয়ার জন্য পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলির প্রতি আবেদন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রতিটি রাজ্যের পুলিশ প্রধানদের হেট স্পিচ সংক্রান্ত রিপোর্ট এবং তাঁদের প্রস্তাব কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বন্ধ করুন