ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কমল গবাদি পশু-জাল নোট পাচার (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য হিন্দুস্তান টাইমস)
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কমল গবাদি পশু-জাল নোট পাচার (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য হিন্দুস্তান টাইমস)

COVID-19 Updates: করোনা জুজুতে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কমল গবাদি পশু-জাল নোট পাচার

  • করোনা আতঙ্কে কাবু হয়েছে পাচারকারীরা। ভয়ে বাড়ি থেকে বেরোচ্ছে না বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

গত বছর এই সময় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে পাচারের সময় বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল ১,৭০০ গবাদি পশু। এবার সেই সংখ্যাটা নেমে এসেছে মাত্র ৪৫-এ। বিএসফ আধিকারিকদের বক্তব্য, গত এক বছরে গবাদি পশু পাচারকারীদের শায়েস্তা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন : ঘরের দরজা খুললেই নোটের তাড়া, সঙ্গের চিরকুটে করোনার হুমকি!

তবে একইসঙ্গে জানাচ্ছেন, এবার করোনার প্রকোপেও কাবু হয়েছে পাচারকারীরা। সঙ্গে যোগ হয়েছে লকডাউন। তার জেরে গত কয়েক সপ্তাহে রাজ্যের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে গবাদি পশু, জাল নোট, মারিজুয়ানা পাচার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। অনুপ্রবেশও কমে গিয়েছে।

আরও পড়ুন : অটিজম আক্রান্ত মুম্বইয়ের শিশুর জন্য রাজস্থান থেকে উটের দুধ এনে দিল রেল

দক্ষিণবঙ্গ সীমান্তের বিএসএফ আইজি ওয়াই বি খুরানিয়া সংবাদসংস্থা পিটিআইকে বলেন, 'আমরা কড়া নজর রেখেছি। সেদিকে কোনও শিথিলতা নেই। কিন্তু দক্ষিণবঙ্গের সীমান্তে চোরাচালান, জাল নোট পাচার ও অনুপ্রবেশ একেবারে কমে গিয়েছে। নগণ্য একেবারে।'

আরও পড়ুন : লকডাউনে ৩২ কোটি গরিবের কাছে অর্থসাহায্য পাঠিয়েছে মোদী সরকার

বিএসএফ আধিকারিকরা জানা, মূলত রাজশাহী এলাকা দিয়ে ভারতে জাল নোট ঢোকে। কিন্তু এখন সীমান্তের ওপার থেকে এপারে যে টাকা ছোড়া হচ্ছে, তা অত্যন্ত নিম্নমানের। দেখেই বোঝা যাচ্ছে, সেগুলি ফোটোকপি। এক উচ্চপদস্থ বিএসএফ আধিকারিক বলেন, 'আমরা বলতে পারি যে উচ্চমানের জাল নোট পাচার চক্র বড়সড় ধাক্কা দেখেছে।' বাংলাদেশ সীমান্ত সিল করে দেওয়ায় ও নজরদারি বাড়ানোয় পাচার কমলেও করোনার প্রকোপ অস্বীকার করছে না ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীও। ওই আধিকারিক বলেন, 'পাচারকারী ও বাহকরা বাড়ির বাইরে বেরোচ্ছে না। করোনা মহামারীর জন্য ভয় তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি কাঁটাতার না থাকা এলাকায় নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।'

আরও পড়ুন : COVID-19 Updates: 'অপরিচ্ছন্ন' জামাত সদস্যরা নোংরা করে খাওয়ায় করোনা ছড়িয়েছে : অন্ধ্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী

বাংলাদেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের ২,২১৬.৭ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। তার মধ্যে ৯১৫ কিলোমিটার দক্ষিণবঙ্গে। সেখানে মাত্র ৩৭১ কিলোমিটার জায়গায় কাঁটাতার আছে।

আরও পড়ুন : সুস্থ হয়ে ফেরা ২ রোগীর রিপোর্টে ফের করোনা সংক্রমণের প্রমাণ, উদ্বিগ্ন প্রশাসন

বিএসএফ জানিয়েছে, গত ২৫ মার্চ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ১,৭০০ গবাদি পশু বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। এবার সেই সংখ্যাটা মোটে ৪৫। একইভাবে ২০১৮ সালে এই সময়ে ১৫৪.৫ কেজি মারিজুয়ানা উদ্ধার করা হয়েছিল। গত বছর তা কমে মাত্র ৪১ কেজিতে দাঁড়ায়। এবার তা আর কমে গিয়েছে। সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের ক্ষেত্রেও ছবিটা এক। লকডাউন ঘোষণার দিন থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত ১৩ জন বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ২০১৮ সালে সেখানে ৭৬ জন ও গত বছর ৩৩ জনকে পাকড়াও করেছিল বিএসএফ।

আরও পড়ুন : পশ্চিমবঙ্গে করোনা পরীক্ষা পরিমাণ জনসংখ্যার তুলনায় নগণ্য: NICED-এর ডিরেক্টর

তবে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন লাগু হওয়ার পর থেকেই অনুপ্রবেশ কমেছে বলে জানিয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী। সঙ্গে করোনা জুজু যোগ হওয়ায় তা আরও কমেছে।

আরও পড়ুন : COVID-19 Update: করোনা আক্রান্তদের শুশ্রূষার জন্য বিয়ে পিছিয়ে দিলেন চিকিৎসক

বন্ধ করুন