বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে চিঠি দিলেন অশোক ভট্টাচার্য, নতুন বোর্ডের বিরুদ্ধে ক্ষোভ
বুধবার জেলা কার্যালয় অনিল বিশ্বাস ভবনে এক সাংবাদিক বৈঠক করে চিঠির কথা জানালেন অশোক ভট্টাচার্য।
বুধবার জেলা কার্যালয় অনিল বিশ্বাস ভবনে এক সাংবাদিক বৈঠক করে চিঠির কথা জানালেন অশোক ভট্টাচার্য।

চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে চিঠি দিলেন অশোক ভট্টাচার্য, নতুন বোর্ডের বিরুদ্ধে ক্ষোভ

  • প্রায় দু’‌মাস পর বিদায়ী চেয়ারম্যান অশোক ভট্টাচার্য নানান অভিযোগ জানিয়ে পুর ও নগোরন্নয়ন মন্ত্রীকে চিঠি দেন।

শিলিগুড়ির পুরনিগমে বিদায়ী প্রশাসকমণ্ডলীর পরিবর্তে নতুন করে প্রশাসকমণ্ডলী গঠন করার বিরুদ্ধে সরব হলেন সিপিআইএম নেতা অশোক ভট্টাচার্য। এই বিষয়ে তিনি নিজের ক্ষোভের কথা পুরমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের কাছে চিঠি লিখে জানালেন। শিলিগুড়ি পুরনিগমের বিদায়ী প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান তথা শিলিগুড়ি পুরনিগমের প্রাক্তন মেয়র ছিলেন অশোক ভট্টাচার্য। বুধবার জেলা কার্যালয় অনিল বিশ্বাস ভবনে এক সাংবাদিক বৈঠক করে চিঠির কথা জানালেন অশোক ভট্টাচার্য। তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দার্জিলিং জেলা বামফ্রন্টের আহ্বায়ক জীবেশ সরকার।

এদিন অশোক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‌পুরবোর্ডের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর করোনা পরিস্থিতির জন্য নির্বাচন করা সম্ভব হয়নি সেটা আমরা মেনে নিয়েছিলাম। রাজ্য সরকার সেই পরিপ্রেক্ষিতে প্রত্যেকটি পৌরসভাতেই বিদায়ী মেয়র পরিষদ বা বিদায়ী চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিলের সদস্যদেরই প্রশাসকমণ্ডলীতে নিযুক্ত করেছেন। বাদ যায়নি শিলিগুড়িও। এভাবেই প্রায় একবছর আমরাও দায়িত্বে ছিলাম। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচন আসন্ন জেনে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে তখন সেই নির্দেশ প্রত্যাহার করে সেখানে সরকারি আধিকারিকদের রাখা হয়েছিল। বিধানসভা নির্বাচন শেষে নতুন সরকার হয়। নতুন সরকার আসার পর রাজ্য সরকার পৌরসভাগুলির ক্ষেত্রে আগের নির্দেশই পুনর্বহাল করেছেন। আমার প্রশ্ন, অর্ডারটা কি সমস্ত পৌরসভায় কার্যকর করার জন্য? কেন ব্যতিক্রম একমাত্র শিলিগুড়ি?’‌

উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনে শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে অশোক ভট্টাচার্য পরাজিত হন। পরাজিত হতেই তিনি জানিয়ে দেন, তিনি আর প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান থাকবেন না। এরপর শিলিগুড়ি পুরনিগমে নতুন করে প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান করা হয় ডাবগ্রাম–ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের বিদায়ী বিধায়ক তথা প্রাক্তন পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেবকে। সিপিআইএমের হাত থেকে শিলিগুড়ি পুরনিগমের প্রশাসকমণ্ডলী চলে যায়। তৃণমূল কংগ্রেসের বিদায়ী কো–অর্ডিটেরদের প্রশাসকমণ্ডলীর সদস্য করা হয়। প্রায় দু’‌মাস পর বিদায়ী চেয়ারম্যান অশোক ভট্টাচার্য নানান অভিযোগ জানিয়ে পুর ও নগোরন্নয়ন মন্ত্রীকে চিঠি দেন।

অশোক ভট্টাচার্য এই ব্যাপারে জানান, বিধানসভা নির্বাচনে আমি পরাজিত হয়েছিলাম বলেই প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান হতে চাইনি। আমি কি করব না করব সেটা পরের ব্যাপার। তবে আমার প্রশ্ন রাজ্য সরকারের নীতি সব জায়গায় তো এক হবে? অন্যান্য পৌরসভাতে যেরকম বিদায়ী প্রশাসকমণ্ডলীকে নিযুক্ত করা হয়েছে শিলিগুড়ি পৌরসভায় কেন তা করা হলো না? সিপিআইএম বা বামফ্রন্ট শিলিগুড়ি পৌরসভা নির্বাচনে জয় হয়েছিল বলেই কি সরকারের এই ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত?

চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে লেখা অশোক ভট্টাচার্যের দেওয়া চিঠির বিষয়ে শিলিগুড়ি পুরনিগমের বর্তমান প্রশাসক মণ্ডলীর সদস্য রঞ্জন সরকার বলেন, ‘‌সবটাই সরকার ঠিক করে। গতবছর বোর্ডের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর ওনাদের নিয়েই রাজ্য সরকার বোর্ড গঠন করেছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্য শিলিগুড়ি বিধানসভা নির্বাচনে তিনি তৃতীয় অবস্থানে ছিলেন। শিলিগুড়ির মানুষ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছেন। গোটা রাজ্যে তাদের নির্বাচনের শতাংশ হার তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। চাইলেও তাদের নিয়ে প্রশাসক বোর্ড করলে মানুষের বিপক্ষে যাবে। দীর্ঘদিন কাজ করে তিনি শিলিগুড়ির অনুন্নয়ন করেছেন।’‌

বন্ধ করুন