বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > স্ত্রীর বদলিতে নবান্নের অনুগ্রহ!‌ সুকান্তের তথ্য ফাঁস করলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়
বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার

স্ত্রীর বদলিতে নবান্নের অনুগ্রহ!‌ সুকান্তের তথ্য ফাঁস করলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়

  • যদিও তা নিয়ে বিজেপি নেতারা মুখে কুলুপ এঁটেছেন। যে সুকান্ত মজুমদার দু’‌বেলা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ চান। এই সরকারকে দুর্নীতিগ্রস্ত বলে গাল পাড়েন তাঁর এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই অস্বস্তি বেড়েছে বইকি। স্ত্রীর বদলিতে নবান্নের ‘অনুগ্রহ’ তিনি সত্যিই নিয়েছেন কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।

তিনি এখন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। বিজেপির সাংসদও। কর্মজীবনে মালদহের গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন তৃণমূল কংগ্রেসের অধ্যাপক সংগঠনের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। এখন রাজ্য সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপের বিরোধিতা করেন। হ্যাঁ, তিনি সুকান্ত মজুমদার। আর তাঁর বিরুদ্ধে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রীকে ধরে নিজের স্ত্রীকে ঘরের কাছের স্কুলে বদলি করানোর অভিযোগ উঠল। তিন বছর আগের ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় দলের অন্দরে ক্ষোভের পারদ চড়ছে।

বিষয়টি ঠিক কী ঘটেছিল?‌ অভিযোগ, বালুরঘাট থেকে জিতে সদ্য লোকসভার সদস্য হয়েছিলেন সুকান্ত মজুমদার। তখন তাঁর স্ত্রী মালদহের সরকারি স্কুলের শিক্ষিকা। পরিবার নিয়ে মালদহের ফ্ল্যাটেই থাকতেন তিনি। কিন্তু সাংসদ হওয়ার পর নিজের জেলা বালুরঘাটেই ফিরে যান সুকান্ত মজুমদার। আর স্ত্রী কোয়েল চৌধুরী মালদহে আটকে পড়েন। তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে খবর, তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে বিজেপির পক্ষ থেকে শিক্ষিকা কোয়েলদেবীর বদলির আবেদন জমা পড়ে। আর বাড়ির কাছে বালুরঘাটের সানাপাড়া হাইস্কুলে বদলি হন তিনি। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় বিজেপির অন্দরে অসন্তোষের পারদ চড়তে শুরু করেছে। মুখে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরোধিতা করলেও শাসকদলের তামাক খাওয়ার অভিযোগ উঠছে সুকান্তের বিরুদ্ধে।

ঠিক কী বলছেন বিজেপি সাংসদ?‌ এই বিষয়ে চর্চা শুরু হতেই বিজেপির রাজ্য সভাপতির সাফাই, ‘আমার স্ত্রীর বদলি মিউচুয়াল ট্রান্সফারের মাধ্যমে হয়েছিল। কোনও সুপারিশের মাধ্যমে এই আপস বদলি হয় না।’ আর পার্থ চট্টোপাধ্যায় কী বলছেন?‌ এই বিষয়ে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘আমার কাছে তখন ওঁর স্ত্রীর বদলি নিয়ে আবেদন এসেছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার রাজনীতির রং দেখে না। তাই ওঁর আবেদনে সাড়া দিয়ে শিক্ষা দফতর কোয়েল চৌধুরীকে মালদহ থেকে বালুরঘাটের স্কুলে বদলিতে সিলমোহর দিয়েছিল। শিক্ষা দফতরের অনুমোদন ছাড়া জেনারেল কিংবা মিউচুয়াল ট্রান্সফার সম্ভব নয়।’‌ এই মন্তব্যের পর দলের অন্দরে তীব্র হচ্ছে অসন্তোষ।

পার্টির কোন মহল থেকে আবেদন গিয়েছিল? এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদিও তা নিয়ে বিজেপি নেতারা মুখে কুলুপ এঁটেছেন। যে সুকান্ত মজুমদার দু’‌বেলা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ চান। এই সরকারকে দুর্নীতিগ্রস্ত বলে গাল পাড়েন তাঁর এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই অস্বস্তি বেড়েছে বইকি। দলের অন্দরে অনেক নেতাকেই ফিসফাস করতে শোনা যাচ্ছে। স্ত্রীর বদলিতে নবান্নের ‘অনুগ্রহ’ তিনি সত্যিই নিয়েছেন কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।

বন্ধ করুন