কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন  (PTI)
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন  (PTI)

করোনা জোনের জেলাশাসকরা বৈঠকে আসবেন না? বাংলার প্রতিনিধিকে প্রশ্ন হর্ষবর্ধনের

কতটা প্রস্তুত রাজ্য, সেই বৈঠকে বাংলার অনেকে অনুপস্থিত ছিলেন বলে জানা যাচ্ছে। 

দেশজুড়ে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে দফায় দফায় বিভিন্ন রাজ্যের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন। বৃহস্পতিবার ছিল বাংলার পালা। কিন্তু মিটিংয়ে অনুপস্থিত ছিলেন রেড জোনের জেলাশাসকরা, বলে জানতে পেরেছে হিন্দুস্তান টাইমস। এই নিয়ে কিছুটা উষ্মা প্রকাশ করেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী। 

আর পাঁচটা ইস্যুর মতো করোনা নিয়েও প্রথম থেকেই চলছে কেন্দ্র-রাজ্য টানাপোড়েন। রাজনৈতিক রেশারেশির প্রভাব যে করোনা যুদ্ধেও ছাপ ফেলছে, তা বলাই বাহুল্য। রাজ্য পরিযায়ীদের ট্রেন আসতে দিচ্ছে না অভিযোগ করে মমতাকে চিঠি লিখেছেন অমিত শাহ। অন্যদিকে তৃণমূল বলছে আটটি ট্রেন আসার অনুমতি দিয়েছে নবান্ন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন যে অভিযোগ প্রমাণ করুন অমিত শাহ বা ক্ষমা চান তিনি। 

এর আগে কেন্দ্রের পাঠানো স্বাস্থ্যদল নিয়ে দফায় দফায় সংঘাত হয়েছে।রাজ্য উপযুক্ত পদক্ষেপ নিচ্ছে না কেন্দ্রীয় দলের দাবি। সেই দল পক্ষপাতদুষ্ট, অভিযোগ তৃণমূল। কিন্তু তারপরেও কেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে রাজ্যের মাত্র একজনের উপস্থিতিতে চমকে গিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্তা জানিয়েছেন বৃহস্পতিবারের বৈঠকে যোগ দেননি বাংলার হটস্পট জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলাশাসকরা। তাঁরা কী আসবেন না, এই প্রশ্ন করেন হর্ষবর্ধন। বাংলার একমাত্র প্রতিনিধি জাতীয় স্বাস্থ্যমিশনের এমডি সৌমিত্র মোহন বলেন যে তিনি জেলাশাসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। 

পরিযায়ী শ্রমিকদের ট্রেনে করে আসা-যাওয়ার বিষয় বাংলা এখনও কোনও স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (এসওপি) জারি করেনি, সেই নিয়েও মোহনকে বার্তা দেয় কেন্দ্র। 

কেন্দ্রীয় সরকারের বরিষ্ঠ এক কর্তা জানিয়েছেন যে রেড জোনে নিজেদের নজর না রেখে কেন্দ্র কন্টেনমেন্ট জোন বাড়িয়ে বলছে, এই অভিযোগ নিয়ে ব্যস্ত রাজ্য।একই সঙ্গে কেন্দ্রের দাবি, কন্টেনমেন্ট জোনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে না। উত্তর কলকাতায় অনেক জায়গায় কন্টেনমেন্ট জোনে নিয়ম মানা হচ্ছে না বলেও কেন্দ্রের অভিমত। 

Surveillance for Severe Acute Respiratory Infections (SARI)/Influenza Like Illness (ILI) পরীক্ষা বাড়ানোর ওপরেও বাংলাকে জোর দিতে বলেছে মোদী সরকার। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য দল নিজেদের স্টেটাস রিপোর্টে লিখেছে যে বাংলা যে বলছে ৫০ লক্ষ মানুষকে সমীক্ষা করা হয়েছে, সেটি নিয়ে সন্দেহের অবকাশ আছে। আরেক বরিষ্ঠ কর্তার অভিযোগ, রাজ্যের থেকে কোনও সাহায্য না পাওয়ায় আইএমসিটির দলকে গুগল ম্যাপ ব্যবহার করে হাসপাতাল ও অন্যান্য স্থানে যেতে হয়েছে নজরদারি করার জন্য! হিন্দুস্তান টাইমস বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও কথা বলতে চাননি সৌমিত্র মোহন। 

কেন্দ্র-রাজ্যের এই টানাপোড়েনে সমস্যায় পড়েছেন আম-আদমি। এখনও পর্যন্ত রাজ্যে করোনা আক্রান্ত ১৬৯৮, মৃত্যু হয়েছে ১৬০ জনের। 

 

বন্ধ করুন